Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
  • জুলাই ৯, ২০২৪

রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয়দের দেশে ফেরাতে রাজি পুতিন। মস্কোয় অনাবাসী ভারতীয়দের সভায় স্বপ্নময় ভাষণ মোদির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয়দের দেশে ফেরাতে রাজি পুতিন। মস্কোয় অনাবাসী ভারতীয়দের সভায় স্বপ্নময় ভাষণ মোদির

রুশ সেনায় কর্মরত ভারতীয়রা অবশেষে দেশে ফিরছেন । রাশিয়া তাঁদের ঘরে ফেরার জন্য সমস্ত সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থাও করবে বলে জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত চারজন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। রুশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য অন্তত ৫০ জন ভারতীয়কে ভাল মজুরি, স্থায়ী বসবাস এবং রাশিয়ান পাসপোর্টের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক শ্রেণীর দালাল প্রতারিত করেছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগ পাওয়া মাত্র কেন্দ্র তদন্ত শুরু করে। চারজন গ্রেফতারও হয়। ভারতের তরফে রাশিয়াকে সেনাবাহিনীতে ভারতীয়দের নিয়োগ না করার আবেদন জানানো হয়েছে। মোদির মস্কো সফরে যাওয়ার আগে বিরোধী দল কংগ্রেসের তরফে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয়দের নিয়োগ বন্ধ করার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ করবেন কিনা!

দেশের ‘গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি’ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রীর রুশ সফরকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হল রাশিয়ান সেনাতে ভারতীয়দের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি। তিনি লিখেছেন যে , বহু ভারতীয়কে যুদ্ধ করার চাকরির নামে প্রতারিত করা হয়েছে। মোদি সেসব দারিদ্র্যনিপীড়িত বেকার যুবকদের ভারতে ফেরা কি নিশ্চিত করতে পারবেন?

নিহত চার সেনার মধ্যে একজন হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা। হায়দ্রাবাদের সাংসদ , এআইএমআইএম-এর সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে রুশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় নাগরিকদের ‘পরিষেবা দানে’র বিষয়টি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে তুলে ধরার জন্য মোদীকে আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবারের ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পুতিন মোদির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন। ফলে স্বভাবতই এ সংবাদে রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয়দের মধ্যে খুশির জোয়ার দেখা গেছে।

এই নিয়ে ১৬ বার পুতিন মোদি একে অন্যের মুখোমুখি হলেন। মঙ্গলবার মস্কোয় অনাবাসী ভারতীয়দের মুখোমুখি হলেন মোদি। তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম রুশ সফরে গেছেন মোদি। দ্বিপাক্ষিক সফরে প্রবাসী ভারতীয়দের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

প্রারম্ভিক ভাষণে মোদি জানিয়েছেন, এখানে উপস্থিত থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি একা আসিনি। সঙ্গে অনেক কিছু নিয়ে এসেছি। দেশ থেকে ভারতবর্ষের মাটির সুগন্ধ সঙ্গে নিয়ে এসেছি। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে এসেছি।’ তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেছেন, তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরে তিনি তিনগুন শক্তি নিয়ে কাজ করবেন। সরকারের লক্ষ্য ছিল ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করা এবং দরিদ্রদের ৩ কোটি বাড়ি দেওয়া।
তিনি বলেছেন, আজকের ভারত নিশ্চিত করেছে যে, এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর শক্তি তার আছে। তিনি ভারতের চাঁদে পাড়ি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন,’ আমরা চাঁদের এমন জায়গায় অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছি, যেখানে এর আগে কেউ পা রাখেনি। বর্তমানে ভারত বিশ্বের কাছে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের এমন সুবিধার উদাহরণ স্থাপন করেছে যা সবচেয়ে বিস্বস্ত । বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট আপ ইকো সিস্টেমের স্বীকৃতিও ভারতের দখলে। ২০১৪ সালে আপনারা যখন প্রথম আমাকে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ দেন, তখন সাড়া দেশে একশোর মত স্টার্ট আপ ছিল। এখন তা লক্ষ ছাড়িয়েছে। ‘
‘সারা বিশ্ব ভারতের এমন উত্থানে চমৎকৃত ,’মোদি বলেন। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে ভারতের গতিশীল পরিবর্তনে সবাইকে অবাক করেছে ভারত। বাইরে থেকে কেউ ভারতে এলে এখন একটাই কথা বলে, ভারত বদলাচ্ছে। এমনকি জি২০ সম্মেলনেও সারা বিশ্ব বলেছে একটাই কথা, ভারত বদলাচ্ছে। ‘

মোদি বলেছেন, গত দশ বছর ছিল শুধুমাত্র ট্রেলার। আগামী দশ বছরে দেশ এমন জায়গায় পৌঁছবে যেখানে উত্তরণের স্বপ্ন ১৪০ কোটি জনতা এতকাল দেখে এসেছেন। মোদি জানিয়েছেন, বর্তমানের ভারত আগের থেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। এই আত্মবিশ্বাস ২০১৪ সালের আগে ছিলনা।
মোদির বক্তব্যে টি ২০ বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘এখনকার ভারতের যুব সমাজ শেষ বলটি খেলার আগেও হাল ছাড়েনা। এই বিশ্বকাপ জয় আসলে তারই প্রতিফলন। ‘

রাশিয়াতে আরও দুটি ভারতীয় দূতাবাস খোলা হবে বলে জানিয়েছেন মোদি। রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পুতিনকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি। তিনি বলেছেন, সকল ভারতীয় রাশিয়াকে একটি বিশ্বস্ত বন্ধু, ভাল এবং খারাপ সময়ের সঙ্গী হিসাবে দেখে। রাশিয়ায় শীতের মৌসুমে তাপমাত্রা যতই মাইনাসে নামুক না কেন, কিন্তু ভারত-রাশিয়ার বন্ধুত্ব সবসময়ই উষ্ণ। ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার শক্তিশালী ভিত্তির উপর নির্মিত।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!