Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১, ২০২৬

কাটোয়া বিধানসভায় এবার যুযুধান খুড়ো-ভাইপো

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কাটোয়া বিধানসভায় এবার যুযুধান খুড়ো-ভাইপো

একদিকে কাকা। পোড় খাওয়া রাজনীতিক। অন্যদিকে ভাইপো। কাকার কাছেই যার রাজনীতিতে হাতে খড়ি। কাটোয়া বিধানসভাজুড়ে কাকা-ভাইপোর লড়াইকে ঘিরেই জমজমাট ভোট ময়দান। কাটোয়া কেন্দ্রে তৃণমূল এবারও প্রার্থী করেছে এই কেন্দ্র থেকে জেতা টানা ৬ বারের বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জিকে। এমনই হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি (কৃষ্ণ ঘোষ) ও সিপিএম (সঞ্জীব দাস)। প্রার্থী তালিকায় চমক দিয়ে কংগ্রেস কাটোয়া কেন্দ্রে টিকিট দিল রবীন্দ্রনাথবাবুর ভাইপো কাটোয়া পুরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রণজিৎ চ্যাটার্জিকে। ভোট ময়দানে যুযুধান কাকা-ভাইপোর দ্বৈরথ কোন মাত্রায় পৌঁছতে পারে, তাই নিয়েই কাটোয়ার তামাম চায়ের কাপে তুফান। তবে কাটোয়ার রাজনৈতিক মহল অবশ্য বিগত ভোটের অভিজ্ঞতা থেকে রায় দিয়ে দিচ্ছে, কাটোয়ায় লড়াইটা হবে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির। এখানে কংগ্রেস ও সিপিএম লড়বে তৃতীয় স্থানের জন্য।  রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশ যে কেউ যে কোনও দলের বিরুদ্ধে লড়তে পারে। বহুমাত্রিক উন্নয়ন, জনমুখী প্রকল্প, পরিষেবা আর বছরভর মানুষের পাশে থাকার অঙ্কেই কাটোয়ায় এবারও তৃণমূল জিতবে। তাছাড়া শুধু কাটোয়া কেন, গোটা রাজ্যেই এখন কংগ্রেস অস্তিত্বহীন, অপ্রাসঙ্গিক।’

হাল ছাড়তে চান না কংগ্রেস প্রার্থী রণজিৎও। এই প্রথম বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়ে তিনি বললেন, ‘অনুন্নয়ন, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-কর্মসংস্থান-শিল্প সর্বত্র চরম সঙ্কট থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে মমতার সঙ্গে মোদির যে সেটিং হয়েছে তা মানুষ অবহিত। আমরা বলছি, জেনে গেছে জনতা / মোদির লোক মমতা। / বাঁচাতে রাজ্য বাঁচাতে দেশ / বিকল্প তাই কংগ্রেস।’

উল্লেখ্য যে, বাম জমানায় কাটোয়া ছিল কংগ্রেসের গড়। আর সেই গড় তৈরির কারিগর ছিলেন রবীন্দ্রনাথবাবুই। লাল দুর্গ বর্ধমানে অমিতশক্তিধর সিপিএমের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করে ১৯৯৫ সাল থেকে কাটোয়া পুরসভা ও বিধানসভায় কংগ্রেসের তেরঙা ঝাণ্ডার উড়ান রবীন্দ্রনাথবাবুর নেতৃত্বেই। ‘কংগ্রেসের কাজকারবারে বীতশ্রদ্ধ হয়ে আর রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের উন্নয়নযজ্ঞে শামিল হতে’ ২০১৫ সালের মে মাসে তৃণমূলে যোগ দেন রবীন্দ্রনাথবাবু। দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএমের সঙ্গে লড়া পোড় খাওয়া রবীন্দ্রনাথবাবুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে সংগঠনের কাজে লাগাতে মমতা ব্যানার্জি-অভিষেক ব্যানার্জি তাঁকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেন। রবীন্দ্রনাথবাবুর নেতৃত্বেই ২০২১ সালে জেলার ১৬টি বিধানসভার সবকটিই দখল করে তৃণমূল। গত লোকসভা ভোটেও বর্ধমান পূর্ব লোকসভাকে দখলে রেখে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রটিও পুনরুদ্ধার করেছে তৃণমূল।

আর রণজিতের রাজনীতিতে হাতে খড়ি ‘বড়কাকা’ রবীন্দ্রনাথবাবুর হাত ধরেই। ২০১৫ সাল পর্যন্ত কাকার ছত্রছায়ায় থাকা রণজিৎ ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেস যোগ দেন। ২০২৩ সালে পুরভোটে কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়িয়ে জয়লাভ করেন। ওই ভোটে জেতা কংগ্রেসের অন্য তিন কাউন্সিলর তৃণমূলে ভিড়লেও রণজিৎ কংগ্রেস ছাড়েননি। তিনি স্বীকার করলেন, ‘কাকাকে দেখেই রাজনীতিতে আসা। মানুষের জন্য কাজ করতে শেখা। কাকা দল বদল করলেও আমি করিনি।’ তবে কাকা-ভাইপোর দ্বৈরথের ছায়া বাড়ির উঠোনে পড়বে না বলে জানাচ্ছেন দুজনেই। দুজনেরই রায়, ‘লড়াইটা দুই মতাদর্শের লড়াই। পরিবারে তার প্রভাব কেন পড়বে?’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!