Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫

নিজস্ব এআই সিস্টেমে পরীক্ষার দ্রুত মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ইউপিএসসি-তে বড়োসড়ো ডিজিটাল রূপান্তর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিজস্ব এআই সিস্টেমে পরীক্ষার দ্রুত মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ,  ইউপিএসসি-তে বড়োসড়ো ডিজিটাল রূপান্তর

ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি)-এর শতবর্ষে পাল্টাতে চলেছে কাজকর্মের ধরন। পুরনো নিয়ম, দীর্ঘসূত্রিতা, ফাইল টানাটানির দিন হয়তো এবার ফুরোতে চলেছে। বদল আসছে কেবল কাজের পদ্ধতিতে নয়, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনাতেও। কমিশনের শীর্ষমহল সূত্রে খবর, শীঘ্রই ইউপিএসসি পেতে চলেছে এক চ্যাটজিপিটি-সদৃশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক নিজস্ব ডিজিটাল সিস্টেম। যার মূল লক্ষ্য — শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কিংবা পদোন্নতির মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দ্রুত নিষ্পত্তি। কমিশনের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, ‘আমরা এমন একটি এআই সিস্টেম গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, যা কর্মকর্তাদের পরিষেবা সংক্রান্ত যাবতীয় নিয়মকানুনকে ধরে রাখবে। সেইসঙ্গে, কোনো নির্দিষ্ট কেসের তথ্য দিলে সেটি সে আলোকেই একটি প্রাথমিক সুপারিশ তৈরি করবে, যার উপর ভিত্তি করে কমিশনের সদস্যরা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’

বর্তমানে বাজারে চ্যাটজিপিটি-র মতো ওপেনএআই টুলস সহজলভ্য হলেও, সেগুলি ব্যবহার করলে গোপনীয়তার প্রশ্নে বড়োসড়ো প্রশ্ন উঠতে পারে। ইউপিএসসি-র হাতে থাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য, যেগুলি জনসমক্ষে এলে নানাবিধ সমস্যা হতে পারে, এমনকি প্রশ্ন উঠতে পারে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও। সে কারণেই কমিশনের পরিকল্পনা, পুরোপুরি ইন-হাউস, নিজস্ব সার্ভারে থাকা এমন একটি এআই সিস্টেম, যার মাধ্যমে তথ্য ফাঁসের সম্ভাবনা একেবারে থাকবে না। তবে ইউপিএসসি সূত্র জানাচ্ছে, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কেবল পরামর্শদাতা হিসেবেই কাজ করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কমিশনের সদস্যরাই। অন্যদিকে, একাধিক বছরের পরিষেবা-রেকর্ড ঘেঁটে কেসের বিচার করতে যে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, ওই প্রক্রিয়ার সময় অনেকটাই কমে আসবে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। তবে সবটাই এক লাফে সম্ভব নয়। কমিশনের ভিতরেই এখনো প্রচুর ফাইল স্ক্যান করা হয়নি, অনেক কিছুরই ডিজিটাল সংস্করণ নেই। হাতে লেখা নথি কিংবা স্ক্যান কপি নিয়েই কাজ চালাতে হয় আজও। ফলে নতুন ব্যবস্থায় একসঙ্গে নথির ডিজিটাইজেশনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে কমিশন।

শুধু প্রশাসনিক কাজেই নয়, এআই এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ছোঁয়া লাগতে চলেছে ইউপিএসসি-র পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাতেও। সূত্রের খবর, কমিশন এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে, যার ফলে সিভিল সার্ভিস মেইনস-এর খাতা মূল্যায়নের পদ্ধতিতেই আমূল বদল আসবে। প্রসঙ্গত, প্রিলিমিনারি পরীক্ষাগুলি এমসিকিউ ধরনের হওয়ায় সেগুলি কম্পিউটারেই দ্রুত মূল্যায়িত হয়। কিন্তু মেইনস পরীক্ষায় এক একটি উত্তরপত্রে থাকে একাধিক রচনা। প্রতিটি রচনার বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয় বিভিন্ন এক্সপার্ট পরীক্ষকের কাছে। ফলে একই খাতা যেতে থাকে একের পর এক পরীক্ষকের টেবিলে, আর তাতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায় ফলপ্রকাশে। কমিশনের পরিকল্পনা, এবার উত্তরপত্র স্ক্যান করে, ডিজিটালি পাঠানো হবে বিভিন্ন পরীক্ষকের কাছে — একযোগে। এতে একদিকে যেমন কাগজপত্রের ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে মূল্যায়নের গতি হবে বহুগুণ বেশি।

প্রযুক্তিনির্ভর এই রূপান্তরের পথে কমিশন ইতিমধ্যেই পা বাড়িয়েছে। সদ্য তৈরি হয়েছে একটি মোবাইল অ্যাপ, যা ন্যাশনাল ই-গভর্নেন্স ডিভিশনের সহযোগিতায় তৈরি করেছে ইউপিএসসি। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে গিয়ে প্রার্থীর মুখ স্ক্যান করলেই মিলিয়ে দেখা যাবে অ্যাপে সংরক্ষিত ফেস ডেটার সঙ্গে। কোনো প্রকার ভুয়ো পরিচয় বা ছদ্মবেশের আশঙ্কা থাকলে ধরা পড়বে সঙ্গে সঙ্গেই। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর, জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি ও নৌ একাডেমি পরীক্ষায় পরীক্ষামূলকভাবে নয়া অ্যাপটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইউপিএসসি। ২০২৫ সালে শতবর্ষে পদার্পণ করেছে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মানীয় সংস্থাটি। একশো বছরের দীর্ঘ যাত্রাপথে বহু পরিবর্তন দেখেছে কমিশন। এবার নতুন যুগের চ্যালেঞ্জের মুখে প্রযুক্তির হাত ধরেই এগোতে চাইছে তারা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!