- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৩, ২০২৫
আম্বানির ঠিকানায় সিবিআই অভিযান। ২ হাজার কোটির ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ
২ হাজার কোটির ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে অনিল আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস (আরকম)-এর বিরুদ্ধে জোর তৎপরতা শুরু করল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। শনিবার সকাল থেকেই মুম্বই শহরের ৬ টি পৃথক স্থানে অভিযান চালায় সিবিআই। অভিযানের লক্ষ্য, অনিল আম্বানি ও তাঁর সংস্থার দপ্তর ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির খতিয়ান উদ্ধার।
সূত্রের খবর, স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আরকমের ঋণের অর্থ ব্যবহারে ‘গভীর অনিয়ম’ এবং ‘শর্তভঙ্গ’-এর একাধিক প্রমাণ মিলেছে। ঋণের টাকা বণ্টনের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা যাচ্ছে, একাধিক গ্রুপের মাধ্যমে সংস্থার ঋণঅর্থ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তহবিল তছরুপ করা হয়েছে। ফলত, গত ১৩ জুন আম্বানির সংস্থাকে ‘জালিয়াতিপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করে এসবিআই। রিপোর্ট পাঠানো হয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার কাছে। রাষ্ট্রয়ত ব্যাঙ্ক সূত্রে আরো দাবি, শোকজ নোটিসের জবাবে আরকম সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ব্যাঙ্কের শর্ত মানা হয়নি, ঋণের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম হয়েছে— এমন অভিযোগে মেলেনি উপযুক্ত উত্তর। ফলে সিবিআই-এর দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী গত মাসে লোকসভায় জানান, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনসের কাছে এসবিআই-এর মোট ঋণ দায়ের পরিমাণ প্রায় ২,২২৭.৬৪ কোটি (মূলধন ও সুদসহ), সঙ্গে ৭৮৬.৫২ কোটির ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি। এই বিপুল ঋণের বড়ো অংশের সদ্ব্যবহার না হওয়াতেই ওঠে জালিয়াতির অভিযোগ। শনিবারের অভিযানে, আরকমের দপ্তর ছাড়াও অনিল আম্বানির ব্যক্তিগত বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ। ঋণের টাকা কীভাবে কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা খুঁজতে মরিয়া সিবিআই আধিকারিকরা। প্রসঙ্গত, এর আগে মানি লন্ডারিং মামলাতেও ইডি-র জেরার মুখে পড়েছিলেন অনিল আম্বানি। তাঁর একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের মাঝেই এ দিনের অভিযান নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। উল্লেখ্য, দাদা মুকেশের ছায়া থেকে বেরিয়ে ব্যবসায় পা রাখা অনিলের সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থান আগেই প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপে এক সময়ের কর্পোরেট দুনিয়ার চেনা মুখটি আরো বিপাকে পড়লেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
❤ Support Us








