Advertisement
  • ক | বি | তা রোব-e-বর্ণ
  • আগস্ট ১৩, ২০২৩

গুচ্ছ কবিতা

বিজয় মাখাল
গুচ্ছ কবিতা

চিত্র: তনুপ নাথ


চৈতন্যদোষ

 
আমি শ্রীচৈতন্যের ছোটোভাই। খালে-বিলে মাঠে-ঘাটে
গান গেয়ে খাই
সিঁদুর মেঘের মতো এক হতমান খিদে আমার পেটের
কলসিতে বসে থাকে
হাত নাড়ে, পা নাচায়— সকালে সন্ধ্যায়
চুরি যায় প্রেম, খেত থেকে রাশি রাশি ধান
 
আমার চৈতন্যদোষ নিদারুণ বার্তা হয়ে ভাসে গ্রামে গ্রামে
নিন্দেমন্দ এক গল্পকথায়
 

মায়ের অন্ন
 
দু-মুঠো জোগাড় হয়েছে, আরও দুই মুঠো হলে চার মুঠো হয়ে যায়।
যেটুকু জোগাড় হয়েছে আয় ভাই
ভাগ করে খাই
নতুন ডিমের পাশে তা দেবে বলে বসে আছে হাঁস
ও-হাঁস গেরস্তের নুন খেয়ে যায়
জন্মভিটে থেকে রুগ্ন হয়ে ফিরে এল মা
বল ভাই এ-মাকে কোথায় বসাই?
একটাই ঘর একটাই দোর দুই বেলা খিটিমিটি রোজ
দু-মুঠো জোগাড় হয়েছে, কাল আরও এক মুঠো চাই
 
যে-মা খাবার দিয়েছে একদিন, তাকে পথে বসিয়ে দিয়ে যাব?
ল্যাম্পপোস্ট ছায়া দেবে— অনাথের ছায়াই সম্বল
আমরা হুল্লোড় থেকে ফিরে দুই ভাই মিলে
ও-মায়ের অন্ন ছিঁড়ে খাব।
 

উলঙ্গ
 
ছেলেটা কোথায় যে উড়ে উড়ে বেড়ায় !
মা-মরা ছেলে, পেট ভরে খাওয়াতে পারি না
উলঙ্গ কঙ্কাল দেহ— প্যান্ট একটা ছিল, তাও কবে
নর্দমার পাঁক ঘাঁটতে গিয়ে হারিয়ে এসেছে।
দেখে কষ্ট হয়, রাগ হয়— উলঙ্গ ছাওয়াল তার পরোয়া করে না।
দুপুরে কী খায় কে জানে!
রাত্রে রুটি কিনে এনে কোলে বসিয়ে খাওয়াই তাকে
কিছুটা খায় তারপর ঘুমিয়ে পড়ে
 
একদিন একটা হাফপ্যান্ট জোগাড় করে এনে বললুম:
আয় তোকে পরিয়ে দিই, ল্যাংটো হয়ে থাকতে নেই
ছেলে বললে: বাবা তুমিও তো ল্যাংটো
মুহূর্তে রাগ চেপে গেল মাথায়— আমি ল্যাংটো, আমি উলঙ্গ…
গায়ে জামা নেই, কোমরের লুঙ্গি ছেঁড়া-ফোড়া
টাকা নেই, ঘর নেই, বউ নেই, রান্নার বাসনকোসনও নেই
তবে কি আমিও ওর মতো…
 
আমাকে উলঙ্গ করে ছেলেটা কোথায় যে হাওয়া হয়ে গেল !
 

দ্বিধা
 
গতজন্মের চিঠি এই জন্মেও পোস্ট করা
হল না আমার
কেন এই দ্বিধা? এই জন্মে যাকে চিনি— যাকে চিনতাম গতজন্মে
দু-জনেই একই ঠিকানার?
না কি যার চিঠি, তাকে দেবার জন্য আমি
জন্মে জন্মে মরে জেগে উঠি !
 

সন্ত্রাস
 
একটা ডাকবাক্স থেকে আর এক ডাকবাক্সের দিকে
আমরা যাওয়া-আসা ছিল
গোপন খামের ভিতরের গলি দিয়ে—
আজ গালা দিয়ে নিষেধ-মোহর সেঁটে সেই ছিদ্র তুমি বন্ধ করেছ ।
 
আমার সন্ত্রাস-ছড়ানো খামে হিংসা ছিল না কোথাও ।
ছিল সামান্য দু-টি কথা—
ফিরে এসো ।

 

♦–♦♦–♦♦–♦♦–♦

 

কবির জন্ম ১৮ নভেম্বর ১৯৫৪ হাওড়ায় । কাজ চাষবাস। বাবা ছিলেন শ্রমিক। বাবার মৃত্যুর পরে একটা ছোটো কারখানার নিজেই মালিক নিজেই শ্রমিক । রাত্রে বাড়ি বসে কবিতাচর্চা করেন । প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ সাতটি । জলপাথরের গায়ে (১৯৭৫), তুমি নও, তোমার প্রতিমা (১৯৮৩), শর্তরেখা (১৯৯৪), আমাদের পোড়াঘরে (১৯৯৯), নির্বাচিত কবিতা (২০১৭), অকারণগুলি (২০১৯), শ্রমিকসাজ (২০২২)।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!