- ক | বি | তা রোব-e-বর্ণ
- আগস্ট ২০, ২০২৩
গু চ্ছ ক বি তা
চিত্র: আবদুর শাকুর
রোদলাগা ভুবন
কেমন হবে যদি হাঁস মুরগি গায় দেশাত্মবোধক গান ? রাস্তা ঝাঁট দেয় ধনে পাতার ম ম গন্ধ, মনখারাপের মধ্যে জন্মায় বাবুই ঘাস সাবুই ঘাস, শাবল সাঁড়াশি নেয় ফেল করা ছাত্রদের নিয়মিত ক্লাস ? আনারস বাগানে ফলে থাকে সুখে থাকার মহামন্ত্র ? যদি পানের পিক পাহারা দেয় দেয়াল লিখন, প্রবল সন্দেহ বাতিক মন থেকে জন্মায় কাকাতুয়া ময়না কিংবা নুন গলা দুপুর থেকে উঁকি দেয় আড্ডাবাজ জোঁকেদের বৈঠকখানা ?
যখন ঝিমোনো বিকেল লুকিয়ে রাখে প্রাচীর টপকান কথাবার্তা, শহর জুড়ে হোর্ডিং ও বিজ্ঞাপন সাঁটে গলাসাধা চিত্রকল্প। মর্চে ধরা জীবনের সূচিপত্র প্রকাশ করে আহ্লাদিত জলঢোঁড়া বা মহাকালের পেট চিরে মেঘ বৃষ্টি জোনাকি বের করে গোঁ ধরা ত্রিশূল …
ও আমার আপনজন
সারাদিন খাটাখাটুনির পর বসে বসে ঝিমোই
তাই দেখে আমলকি গাছ আমাকে ঘুম পাড়ায়
কাটোয়ার ডাঁটা চুলে বিলি কেটে দেয়
অতি মন্থর গা টিপে দেয় শশাক্ষেত। টসটস করে হাত পায়ের আঙুল ফাটায় বিট-গাজর
মাথা ঝাঁকিয়ে ডুমুর গাছ দ্যাখে চিন্তার ভান্ডার শূন্য !
তড়িঘড়ি ঝুরি মূলের মতো স্বপ্ন ভরে দেয় মটর বাগান,
স্বপ্নে বড় এলাচ ব্যাখ্যা করে সংস্কার কী কুসংস্কারই বা কী…
যখন চাঁচলের ইয়া বড় বড় বেগুন কানে কানে বলছে কি করে শোধ করা যায় ঋণ,
সুগার বেশি বলে এক গ্লাস মেথি-রস মাথার কাছে রেখে ছুটে পালায় লাজুক কুমড়ো ফুল।
এতো আহ্লাদ পাওয়ার পরও সমগ্র দেহটা চমৎকার মালিশ করে দেয় লাল টকটকে চেরি ফল এবং সুগন্ধে মন প্রাণ ভরে দেয়
উদ্ধার পর্ব
প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি জন্ম তোলা থাকে গাছের কোটরে, প্রতিটি ইচ্ছে ডোবানো থাকে নদীর জলে, প্রতিটি দৃশ্য লুকিয়ে থাকে অন্ধকার গর্ভে। প্রতিটি আরোহণ অপেক্ষা করে প্রখর ঔদাসীন্যে। সত্যি যদি কেউ বাঁচতে চায় তখনই শুরু হয় উদ্ধার পর্ব…
পরিবার
চোখ বুজলে স্পষ্ট দেখি বাগানের ফলন্ত সুপুরি গাছটি বাড়ির ঢ্যাঙা বউ কিন্তু লক্ষ্মীমন্ত। কাঁঠাল গাছটি বহু প্রসবে অবসন্না বড়ো বউ। তেমন ফল ধরে না বলে কামরাঙা বার বার আয়নায় মুখ দেখা বিগতযৌবনা মেজ পিসি। কিছুটা অহংকারী হাজারি নারকেল, আয় আছে সে ভাবে কর্তা। ফল পাকলে রসেবসে থাকা চেরি গাছটি লালজামা পরা ছোটো বাবু। মরসুম চলে গেলে আম জাম মনমরা বেকার যুবক। বরং সারা বছর জেল্লা দেখায় কর্তার সহকারী সবেদা। জনতার ভূমিকায় গোবেচারা কলাবাগান। কিন্তু এক জায়গায় সবাই উদারঃ বিনে পয়সায় ভুরি ভুরি অক্সিজেন বিতরণ…
গাছ-জন্ম
কেবলই ভাবি মানুষ জন্ম না হয়ে যদি আমার গাছ জন্ম হত, পায়ে দুটো চাকা লাগিয়ে নিতাম। বাড়ি বাড়ি দিয়ে আসতাম পুজোর ফুল। পাত পেড়ে খাওয়াতাম মৌমাছিদের। মগ ডালে পরিদের বসিয়ে রেখে আড্ডা মারতাম খুব। অন্য ডালে ঝুলিয়ে রাখতাম এক খন্ড জলদ মেঘ। যখন প্রয়োজন হত আদর করে বলতাম ‘একটু বৃষ্টি ঝরাও তো প্রিয় সখা’..
শীত শেষে পাতা ঝরে গেলে দাঁড়িয়েই থাকতাম মাঝ রাস্তায়। নিঝুম রাতে মজা পেতাম ভুতের ভয় দেখিয়ে। যদিও ভূত বলে কিছু নেই, ভয় কিন্তু পৃথিবী ছেড়ে পালাবে না কখনোই। গাছে পাতা নেই বলে খাদ্য উৎপাদন শূন্য। কারবন ডাই অক্সাইডে ভরে যাবে এলাকা। খুব কষ্ট হবে । তখন যদি কেউ এগিয়ে আসে অভিশাপ দিতে , তার দুহাত বুকে জড়িয়ে কাঁদব: ‘একটু সবুর করুন গো বাবু ,সামনেই তো দিলখুশ বসন্ত’..
♦—♦♦—♦♦—♦♦—♦
❤ Support Us









