- ক | বি | তা রোব-e-বর্ণ
- জুলাই ৯, ২০২৩
গুচ্ছ কবিতা
রেখাচিত্র: ফ্রিডা কাহলো
পাথরের জ্বর
বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে পাথরের জ্বর
আজও সে পথ্য পায়নি। তার জন্য
শিস দাও পাখি, হলুদ খামে ভরে
ভালোবাসা প্রেম মমতা দাও।
ওকে খুঁড়ো না আজ, আজ পাথরের জ্বর।
বুকে ওর জমেছে কত জল কেউ তা জানে না
তুমি এতদিন ওকে খুঁড়েছিলে তুমিও দেখনি
শাল পলাশের বনে কত কথা জমেছিলো মনে
হাওয়ায় ক্ষতলাঞ্ছিত অনুভব, চিহ্নিত রয়েছে সব
তুমি ওর কাছে যাও, গায়ে হাত রেখে জ্বর দেখো
ওর মন গভীর বনের ভিতর, চাদরটা দাও টেনে।
পাথরের ভালোবাসা? তাই হবে, যদি হয় হবে।
শ্যাওলার আস্তরণে ঢেকে গেছে কাটাছেঁড়া সব
আজ অনুভব নেই, আজ ওর গায়ে খুব জ্বর
কপালে জল দাও, হাওয়া দাও গুল্মলতার ওষুধ
না যদি দেবে, তুমি ভালোবাসো এইটুকু বলে যাও।
গায়ে খুব জ্বর, ভালোবাসো চায় মনের ভিতর।
ঠেলোনা ওকে, পড়ে গেলে আলো নিভে যাবে
পাহাড়ের গায়ে চূড়ো, দেখো জ্বলে আলো
শরীর বা মনে হোক, প্রেম ওখানে মেলালো
ওকে ঠেলোনা, গায়ে জ্বর, পড়ে যাবে অন্ধকারে।
চলে যাবে, যদি যাও ফিরে, এসো শ্রান্তি পেলে
কী জানি এখানে মাথা রাখবার আশ্রয় যদি মেলে।
আজ কিছুই হবেনা, আজ পাথরের খুব জ্বর।

শিরনাম : আহত টেবিল,১৯৪০
কেলাসিত শব্দ সব
তোমার বুকের মধ্যে কেলাসিত শব্দগুলো
আমার দেখবার খুব প্রয়োজন ছিল।
আমার ছিল প্রক্ষিপ্ত ভালোবাসা
তার বেচা কেনা সব ছিল ধারে।
কবে ভার বেড়ে গেছে তোমার স্বরাট সংসারে।
দেনা করে আমি, নদী নয়, সমুদ্রও নয়
বাস্তুভিটা আকাঙ্ক্ষা করে গেছি দৃশ্যময় খামে।
সেখানে হরিতবর্ণ নির্ঝরের ইচ্ছার খাতিরে
শ্বেতপরী নেমে আসে কনীনিকা জ্যোৎস্নায়।
আমার হৃদয়ে রিক্ত হ্রদ উৎঘাটিত করো
খোঁজো কবেকার অতীতের বিপুল সম্পদ।
চোখ বুজে দেখো আর পুনরায় ছবি আঁকো
অন্তরের কেলসিত শব্দগুলি ঢেকে রাখো।
আমাদের সঙ্গম রাতে, নিষ্ঠুর পীড়ন আঘাতে
স্বপ্ন যেন প্রবল অনুচ্ছাসে মোড়া আগাগোড়া।
তোমার অনূঢ় দুই কন্যা তখন ভাসে
কেলাসিত শব্দ যোগে মোহে আর ভোগে
আমি অপারক চঞ্চল মনে অন্ধকার খুঁজি
অনাকাঙ্খিত মিলনে উত্তর মেলে না সোজাসুজি।

শিরনাম : কর্মা ২
রাতের নগরী
যখন গভীর রাত চাঁদ চলে গেছে ঘুমে
ম্যানহোল অল্প উঁচু করে আমি দেখি।
ঘুমন্ত নগরী দেখি যজ্ঞবালিকার মতো
যজনের শেষে স্থির হয়ে বসে আছে। হাতে তার
অনেক সময়। নরকের কুণ্ড ভরে পাপ
মাঝরাতে সে পাপ উত্তাপ বিহীন শুধু
ছড়ায় অল্প পরিতাপ। নগরের নটিরা
রাতের বাস্তব মেনে ঘরে ফিরে গেছে
এ রাতে খদ্দের হবে না। ঘাসের ফুল
ফুটপাত ধারে মুখ তুলে ভুল করে
লুকায় মুখ। উষ্ণতার অপেক্ষা করে।
সারাদিন ধরে সূর্যাস্ত দেখেছে যে নগরী
রাতে সে একান্তে পরাজিত বরমাল্য চায়
লজ্জানত স্ট্রিট লাইট ঘুমন্ত কাকের পাখায়।
ক্ষুধার্ত চলমান জীবনের অবসাদ রাতে পায়
নিশ্চিন্ত ঘুমের প্রসাদ। ম্যানহোল তুলে দেখি
নগরীর তিলোত্তমা সংগ্রামে পীড়িতা হয়ে
ছাড়ছে শহর। গঙ্গার ধার থেকে ডায়মন্ডহারবারে।
আমি এই ধূর্ত নগরীর প্রতারক পালক পিতা।
সময় প্রত্যক্ষ করি। ভোর এসে বালটিতে আলো ভরে।
গঙ্গা থেকে উড়ো হাওয়া এসে চিতা শান্ত করে।

শিরনাম: দ্য চিক, ১৯৪৫
বাধ্যবাধকতা নেই
তোমাকে যে অরণ্যে লুকিয়ে দেব
এ অরণ্য সে অরণ্য নয়
এখানে গাছের মাঝে অনেক ফাঁক থাকে
এখানে পাতার মধ্যে অনেক ফাঁক থাকে
বাধ্যবাধকতা মূলক অরণ্যে লুকানোর জায়গা কম।
টোস্টারে পাউরুটি গরম করার সময়
তুমি বৃষ্টি হয়ে আসো, পাউরুটি ভিজিয়ে
কতবার বলেছি তুমি বৃষ্টি নও
বাধ্যবাধকতা মূলক আলোঝরা বৃষ্টি আমায় ভিজাবে না।
আমি ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখি যখন তখন তুমি
আমার দুচোখে চুমু খেয়ে বলো আমি ঘুম
কতবার তোমায় বলেছি তুমি ঘুম নও
বাধ্যবাধকতা মূলক ঘুম এমন অনির্বচনীয় হতে পারে না।
তুমি যখন মানব পরিত্যক্ত ইতিহাসের
খনি পথ ধরে কাঁকড়ার মতো এগোতে এগোতে
দু হাত বাড়িয়ে বলো প্রিয় এসো, প্রিয় এসো অন্ধকারে
আমি বলি এমন নড়বড়ে
বাধ্যবাধকতা মূলক প্রেমিক আমি নই।
আর তুমিও কোনোদিন এই বিদীর্ণ
অন্ধকারাচ্ছন্ন খনি থেকে মুক্তি পাবে না।
তোমার সারা গায়ে সহস্র বিভাজিকা
সহস্র অযুত জয় পরাজয়ের চিহ্ন তোমার সর্বাঙ্গে।
তোমাকে বাধ্যবাধকতা মূলক
অরণ্যে পর্বতে কন্দরে সমুদ্রে লুকানো যায় না।
এই ব্যাধির কোনো রীতি নেই।
দুর্যোগের বিকেলে ঝড়ে বিধ্বস্ত জাহাজের মতো
যখন আমার বন্দরে আশ্রয় চাও
আমি বাধ্য প্রেমিকের মতো তোমায় আশ্রয় দিই
আমার মনে, আমার তন্তুতে তন্তুতে।
সেই সুযোগ নিয়ে তুমি আমার কাব্যে বিছাও
রঙিন কল্পনাঅধিগত রূপকের জাল।
আমি প্রতিবাদ করি বলি এর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
আমার গলা জড়িয়ে তুমি একটু হাসো।
ঠোঁটে তুলে নাও আমার ঝরতে থাকা অশ্রুর ফোঁটা।
♦–♦♦–♦♦–♦
কবি, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। ক্যালিফোর্ণিয়া কর্মরত।
চিত্র: ফ্রিডা কাহলো । সৌজন্য: ফ্রিডা কাহলো ওর্গ
❤ Support Us








