Advertisement
  • পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
  • মে ১৮, ২০২৫

ছুঁয়ে আছে বরাকের টাটকা আওয়াজ

বৈশাখতপ্ত অপরাহ্নের হাওয়ায় ভর করে মানুষের মুখেমুখে তারাপুর রেলস্টেশনে সশস্ত্র পুলিশ ও আধাসেনার গুলি চালানোর খবর বাবার কাছে পৌঁছেছিল

মনোতোষ চক্রবর্তী
ছুঁয়ে আছে বরাকের টাটকা আওয়াজ

১৯ মে, ১৯৬১ । শিলচর স্টেশনে পুলিশি হানা

 

Thumbnail Image

 
১৯ মে-র কোনও প্রত্যক্ষস্মৃতি আমার নেই । আমি তখন এগারো বছরের বালক । শিলচর থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে এক চা বাগানের স্কুলে চতুর্থশ্রেণীর ছাত্র । বৈশাখতপ্ত অপরাহ্নের হাওয়ায় ভর করে মানুষের মুখেমুখে তারাপুর রেলস্টেশনে সশস্ত্র পুলিশ ও আধাসেনার গুলি চালানোর খবর চাউর হতে হতে আমার বাবার কাছে পৌঁছেছিল । তখন ওই ঘটনার তাৎপর্য বুঝিনি । পরবর্তীকালে শিলচর শহরে পড়তে এসে ভাষার উপর নানারকম সরকারি আক্রমণের স্বরূপ উপলব্ধি করেছি ।
 
১৯৭২ সালে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সমস্ত কলেজে উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হবে অসমিয়া । পরিবর্তিত ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবার জন্য পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাকে পঠন-পাঠনের মাধ্যম হিসেবে দশবছর চালু রাখা হবে। এই হটকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল বরাক উপত্যকা। আবার আন্দোলন শুরু হল। আবার মৃত্যুবরণ।  সে সময় আমি কলেজের ছাত্র এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত । প্রেমেন্দ্র মোহন গোস্বামীর নেতৃত্বে অগ্রজ কবি সাহিত্যিকদের সঙ্গে তৎকালীন কাছাড় সাহিত্য পরিষদের সভা সমিতিতে সাধারণ কর্মী হিসেবে যোগদান করেছি । উল্লেখযোগ্য স্মৃতি কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী কে.সি.পন্থের সাংবাদিক সম্মেলনে যোগদান ।
 
এখন বরাকের বাইরে বাইরে থাকি, বাতাসে ভেসে আসে শহিদ স্মরণের গণকণ্ঠ, গলা মেলাই আমি, দূর থেকে, যেখানে থাকব, সেখানেই বরাকের মাটি, বরাকের আলো-হাওয়া রৌদ্র এবং ভাষা-শহিদদের রক্তের ঘ্রাণ, টাটকা আওয়াজ হামেশা আমাকে স্পর্শ করবে।
 

♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!