- পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
- মার্চ ২৯, ২০২৬
কান্ডারী হুঁশিয়ার
১০ দিন পরেই, অসম বিধানসভার ভোট, মেম্বার হবেন ক-জন জানা নেই— তা নয়, আমরা নিশ্চিতভাবেই জানি, ১২৬ নির্বাচিত জন-প্রতিনিধি বহুভাষিক অসমের দিসপুরে, জেলায় জেলায়, গ্রাম থেকে গ্রামে ফুরফুরে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াবেন, মুখে তাঁদের হাসবে সূর্যমুখী, গলায় ঝুলবে ঐতিহ্যের গামছা, নকশা করা গামছায় সব শ্রেণীর, সব ভাষার, সব ধর্মের প্রতিনিধিরা থাকার কথা, ভোটের আগেই কোনো দলের একটি হিসেব-নিকেশ আর হাবভাব দেখে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, ঘুমপেটিয়া, বিদেশি বলতে তাঁরা যাঁদের বিরুদ্ধে অহরহ কামান দাগতে অভ্যস্ত, সে-সব ভাগ্যতাড়িত গণকে বাদ দিয়েই তাঁদের প্রার্থীরা ক্ষমতায় ফিরতে চান।
একক শক্তিধর হয়ে ফিরবেন কি না, বলা মুশকিল, কেন না, পদ্ম এবার বড্ড বেশি উদ্বিগ্ন, পদ্মের পবিত্রতাকে স্পর্শ করছে মিত্রদোষ, চিত্রদোষ; স্পর্শ করছে বহুত্বের আবশ্যিক সত্য, মানে, সুস্থ আর সবল গণতন্ত্র যা দাবি করে, যাকে আমরা বলতে পারি, সর্বত্র সবার উপস্থিতি, ঘোষিত সংকল্প উঁচু করেই তাকে খাটো করতেই কয়েক দশক জুড়ে ব্যস্ততা, অতিব্যস্ততা জাহির করছে কৃত্রিম গেরুয়া রঙের নির্যাস, এ রঙ, এ গন্ধ বিশুদ্ধ নয়, প্রকৃতিজাতও নয়, এই রঙের বিকাশ আর বিবর্তন ‘মেড ইজি’র মতো ম্যানমেড। অবশ্যই কারো কারো মানবিকতার আড়ালে যে মুণ্ডহীন, যে কবন্ধ বাস করে, তারই ইঙ্গিতে গণতন্ত্রের নিখুঁত ইচ্ছা আর অনিচ্ছা আজ আক্রান্ত।
এ আক্রমণের বিরুদ্ধে ভারতাত্মা জাগ্রত হোক, হোক আরো কলরব, বেজে উঠুক যুক্তিময় ভাবাবেগের ঐক্যতান, সবাই যেন আমরা বলতে পারি, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন যে, যারা এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আরেক সম্প্রদায়ের বিবাদ ও বিভেদ তৈরি করে, তারা দেশপ্রেমিক নয়, দেশদ্রোহী। আমরা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে, গোষ্ঠীবেষ্টিত ব্যক্তি অথবা সংগঠনকে দেশদ্রোহী বলতে চাই না, এ আমাদের এক্তিয়ার নয়, তবু বলতে হচ্ছে, কোনো কোনো রাজনীতি কেন গুরুময়তার তোষণকে পারাপারের ভরসা ভাবছে; নৌকো কি এতই দুর্বল যে, মৃদু-মন্দ হাওয়াকেই ঝড় ভেবে বলতে থাকব, বাঁচাও বাঁচাও বাবা তটের খিজির! কোনো সরীসৃপকে নিছক বির্বোধ ভাবা ঠিক নয়, তাদের কান আছে, চোখ আছে, জলজ প্রাণী, বিবেক বহুজ এবং বহুমাত্রিক। অদৃশ্য নয়, জলে-জঙ্গলে বসবাস তাদের চিরকালীন।
এই আহ্বান, এই শাশ্বত স্রোতের আবহ তৈরি হোক আসন্ন ভোটে। অসম বহুভাষিক রাজ্য, এত জাতি, উপজাতির সমষ্টি নিয়ে তার যাবতীয় বিস্তার, অসমের প্রকৃতি, অসমের নিসর্গ, অসমের জাতীয় কৌলীন্য তাঁদের হাতেই ন্যস্ত থাকা দরকার— যাঁরা বিশ্বমানব, বিশ্ব নাগরিক হতে চান সর্বাগ্রে। বহুভাষিকতার, সব ধরনের সামাজিকতার সজল আর নির্মল আনন্দ যাঁদের অভীষ্ট। কে কোন্ গোষ্ঠীর, কোন্ ভাষা-উপভাষার সন্তান, এসব প্রশ্ন তোলে যে জন, তাঁকে সহজভাষায় বলে দেওয়া জরুরি, ‘দুর্গম গিরি, কান্তার–মরু, দুস্তর পারাবার/ কান্ডারী হুঁশিয়ার!’
❤ Support Us








