- পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
- মার্চ ২৯, ২০২৬
আমাদের সম্মিলিত চেতনার পরীক্ষা
অসমের বিধানসভা ভোটকে স্বতন্ত্র দৃষ্টিতে দেখলেন বরাকের দুই উজ্জ্বল সংস্কৃতি কর্মী। তাঁদের একজন কৃতি কথা সাহিত্যিক, আরেকজন প্রতিশ্রুতিময় কবি। পড়ে দেখা দরকার, সমষ্টির পছন্দ আর অপছন্দ নিয়ে কী ভাবছেন ওঁরা।
আমি গল্প লিখি। আমার গল্পের ভেতরে, নীরবে বসত গড়ে নানা জনের জীবন। তাদের হাসি, কান্না, স্বপ্ন আর ভাঙনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শব্দে বুনতে চাই অনির্বচনীয় জগৎ। কোনো ক্লান্ত কৃষকের রুক্ষ হাতে জমে থাকা মাটির গন্ধে অথবা কোনো বেকার যুবকের অনিশ্চিত দৃষ্টির গভীরে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য সংশয়ে, কিংবা কোনো নিরুপায় মায়ের দীর্ঘশ্বাসে আমি নিজেকে স্পর্শ করি, কখনো চিনে নিই, কখনো হারিয়ে ফেলি। কোনো একক পতাকার নিচে কখনো বেঁধে রাখতে পারি না নিজেকে। বহুরূপী মানবজগতের মধ্যেই আমি আমার শব্দের আশ্রয় খুঁজি, অস্তিত্বের নীরব উচ্চারণ শুনতে পাই। আমি বিশ্বাস করি কোনো মানুষই আসলে একরঙা নয়, তার ভেতরে থাকে অসংখ্য ঋতুর সহাবস্থান।
আসলে দল মানে যে ভাবনা, সে ভাবনাকে আমি সম্মান করি, কিন্তু ভাবনার ওপর যখন ক্ষমতার ছায়া ঘনিয়ে আসে, তখন মানুষের মুখটা ঝাপসা হয়ে যায়। আমি সে মুখগুলোকে স্পষ্ট দেখতে চাই।
আমার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নেই— আসলে দল মানে যে ভাবনা, সে ভাবনাকে আমি সম্মান করি, কিন্তু ভাবনার ওপর যখন ক্ষমতার ছায়া ঘনিয়ে আসে, তখন মানুষের মুখটা ঝাপসা হয়ে যায়। আমি সে মুখগুলোকে স্পষ্ট দেখতে চাই— যেখানে ভিন্নতা আছে, মতভেদ আছে, বিদ্বেষ নেই। যেখানে তর্ক আছে, আর তা ভাঙনের নয়, বরং বোঝাপড়ার দিকে এগিয়ে যায়।
আগামী ৯ এপ্রিল, আমার রাজ্যে ১৬তম বিধানসভা নির্বাচন। দিনটি কেবল একটা প্রক্রিয়া নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত চেতনার পরীক্ষা। আমরা কেমন মানুষ, কেমন সমাজ গড়তে চাই— তার এক নীরব অথচ গভীর উচ্চারণ এই ভোট। আমি চাই, এই দিনে রাস্তাঘাটে কোলাহল থাকুক, অবশ্যই তা হোক উৎসবের; কণ্ঠস্বর উঠুক, সেখানে বিভেদের তীব্রতা নয়, থাকুক মতের স্বাধীনতা।
আমরা সবাই সুস্থ গণতন্ত্রের প্রত্যাশী, যেখানে বিরোধিতা মানেই শত্রুতা নয়, বরং বিকল্পের সম্ভাবনা, যেখানে অসাম্প্রদায়িকতা কোনো স্লোগান নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনচর্চা
আমরা সবাই সুস্থ গণতন্ত্রের প্রত্যাশী, যেখানে বিরোধিতা মানেই শত্রুতা নয়, বরং বিকল্পের সম্ভাবনা, যেখানে অসাম্প্রদায়িকতা কোনো স্লোগান নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনচর্চা, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও নেতারা পরস্পরকে প্রতিপক্ষ ভাববেন, লক্ষ্য তাঁদের প্রতিহিংসা নয়—বরং সহযাত্রায় ভিন্ন পথের সহযাত্রী।
আমার শহরের আকাশে যেন সেদিন কোনো অশান্তির কালো মেঘ না জমে। মানুষের আঙুলে লেগে থাকা কালির দাগ যেন কেবল দায়িত্ববোধের প্রতীক হয়, বিভেদের নয়। প্রতিটি ভোট যেন একটি ছোট্ট আলো হয়ে জ্বলে ওঠে— যে আলোয় আমরা নিজেদের আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পাব।
আমার গল্পের প্রতিটি চরিত্রেরই যেমন নিজস্ব সত্য ছড়িয়ে থাকে, তেমনি প্রতিটি মানুষের ভোটও হোক এক ভিন্নতর প্রগাঢ় সত্যতার উৎসব। সে সত্যগুলো মিলেই গড়ে উঠুক আমাদের সম্মিলিত কাহিনি— একটি শহরের, একটি সমাজের, একটি ভবিষ্যতের।
এই ভবিষ্যৎ যেন হয় সহমর্মিতার, সংলাপের, এবং শান্তির।
❤ Support Us









