Advertisement
  • এই মুহূর্তে বৈষয়িক
  • মার্চ ৩০, ২০২৬

যুদ্ধের আঁচে দুলছে অর্থনীতি, ডলারের বিপরীতে ৯৫ ছুঁয়ে ফের নিম্নমুখী রুপির দাম

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যুদ্ধের আঁচে দুলছে অর্থনীতি, ডলারের বিপরীতে ৯৫ ছুঁয়ে ফের নিম্নমুখী রুপির দাম

সপ্তাহের শুরুতেই রুপির দোলাচল এক কথায় রোলার কোস্টার। দিনের শুরুতে চাঙা মেজাজ, মাঝপথে ভেঙে পড়া, আর শেষে খানিকটা সামলে ওঠাসব মিলিয়ে সোমবার বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চরম অস্থিরতার ছবি ধরা পড়ল। ইন্ট্রা-ডে লেনদেনে প্রথমবার ৯৫ টাকা প্রতি ডলারের সীমা ভেঙে রেকর্ড ৯৫.২২-এ নেমে গেল ভারতীয় মুদ্রা। যদিও দিনের শেষে সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়ে ৯৪.৭৮ (অস্থায়ী) স্তরে থামল রুপি, যা আগের দিনের ৯৪.৮৫-এর তুলনায় ৭ পয়সা শক্তিশালী।

দিনের শুরুটা অবশ্য আশাব্যঞ্জকই ছিল। ইন্টারব্যাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে রুপি খুলেছিল ৯৩.৬২-এ, পরে আরও শক্তি সঞ্চয় করে ৯৩.৫৭ পর্যন্ত উঠে যায়। বাজারের একাংশের মতে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপব্যাঙ্কগুলির নেট ওপেন পজিশন ১০০ মিলিয়ন ডলারে বেঁধে দেওয়া; প্রাথমিক উত্থানের পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। গত ২৭ মার্চ জারি হওয়া নির্দেশিকায় ১০ এপ্রিলের মধ্যে এই নিয়ম কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।

যদিও ইতিবাচক সুর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত ফের চাপ বাড়ায় বাজারে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ না মেলায় রিস্ক-অফমনোভাব ফের মাথাচাড়া দেয়। নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে ঝোঁক বাড়ে ডলারের দিকে। ফলত, চাপ বাড়ে উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলিতে, তার মধ্যে রুপিও অন্যতম। ফরেক্স বাজারে এ দিন ডলার/রুপি জোড়ায় ওঠানামার পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬৫ পয়সা, যা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হেন অস্থিরতার মূলে রয়েছে দুটি প্রধান কারণডলার সূচকের দৃঢ়তা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। নিরাপদ সম্পদের চাহিদায় ডলার সূচক ১০০-এর উপরে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১৪.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।

দেশীয় শেয়ারবাজারেও বাজার অস্থিরতার ছায়া স্পষ্ট। সোমবার, সেনসেক্স এ ১,৬৩৫.৬৭ পয়েন্ট পড়ে ৭১,৯৪৭.৫৫-এ বন্ধ হয়। নিফটিও কমেছে ৪৮৮.২০ পয়েন্ট, থেমেছে ২২,৩৩১.৪০-এ। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের টানা বিক্রিও রুপির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। গত শুক্রবারই তাঁরা প্রায় ৪,৩৬৭.৩০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রুপি এক ধাক্কায় ৮৯ পয়সা পড়ে ৯৪.৮৫-এ নেমে এসেছিলযা ছিল তৎকালীন রেকর্ড নিম্ন। সোমবার সে রেকর্ড ভেঙে আরও নিচে নামলেও শেষ লগ্নে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোয় খানিকটা স্বস্তি মিলেছে বাজারে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের বার্তা অবশ্য ভিন্ন। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারাম এ দিন দাবি করেছেন, দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত, এবং অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় রুপির অবস্থান এখনও যথেষ্ট স্থিতিশীল। যদিও পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবর্ষে ডলারের তুলনায় রুপির মূল্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীর বলেছেন, রুপির মান সম্পূর্ণ বাজারনির্ভর এবং নানা বৈশ্বিক ও দেশীয় কারণে তা প্রভাবিত হয়। সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!