- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২২, ২০২৬
ধর্মঘটের সিদ্ধান্তে অনড় এসবিআই কর্মীরা, ২৫ মে থেকে টানা ৫ দিন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা
দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা এসবিআই-কে ঘিরে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে অচলাবস্থার আশঙ্কা। নতুন নিয়োগ, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, পদোন্নতি নীতি সংশোধন, আউটসোর্সিং বন্ধ-সহ একাধিক দাবিদাওয়া সামনে রেখে আগামী ২৫ ও ২৬ মে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া স্টাফ ফেডারেশন’। বৃহস্পতিবার, কেন্দ্রীয় লেবার কমিশনের দফতরে ইউনিয়ন ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। ফলে ধর্মঘট ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনো কাটল না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্রের খবর, বৈঠকে কেন্দ্রীয় শ্রম কমিশনারের তরফে কর্মী সংগঠনকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি এআইএসবিআইএসএফ। সংগঠনের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ হয়নি। সে কারণেই আন্দোলনের পথ থেকে এখনই সরে আসতে নারাজ তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার ফের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে দু–পক্ষের। কিন্তু সে বৈঠকেও যদি সমাধানসূত্র না মেলে, তা হলে আগামী সপ্তাহেই দেশের কোটি কোটি এসবিআই গ্রাহককে ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
কর্মী সংগঠনের অভিযোগ, এসবিআই-র বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘ দিন ধরেই কর্মী সঙ্কট প্রকট আকার নিয়েছে। পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় প্রতিদিনের কাজের চাপ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। গ্রাহক পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে স্থায়ী কর্মী নিয়োগের দাবি তুলেছে ইউনিয়ন। শুধু ক্লারিক্যাল বা অফিসার পদই নয়, মেসেঞ্জার এবং সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ‘ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম’-এর আওতায় থাকা কর্মীদের পেনশন ফান্ড ম্যানেজার বদলের সুযোগ এবং পদোন্নতি নীতির পুনর্বিবেচনার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।
সবচেয়ে বিতর্কিত ইস্যুগুলির একটি হলো স্থায়ী কাজের ক্ষেত্রে ‘আউটসোর্সিং’। ইউনিয়নের অভিযোগ, ব্যাঙ্ক ধীরে ধীরে স্থায়ী পদে বাইরের সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের পথে হাঁটছে। এতে শুধু কর্মসংস্থান কমছে না, গ্রাহকদের তথ্য নিরাপত্তাও বিপদের মুখে পড়ছে। এআইএসবিআইএসএফ-এর দাবি, আউটসোর্সিংয়ের ফলে তথ্য ফাঁস, পরিচয় চুরি, আর্থিক জালিয়াতি ও তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে গ্রাহকদের আস্থার উপর। একই সঙ্গে ব্যাঙ্কের ভাবমূর্তি ও আইনি অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। এ ছাড়াও এসবিআই-এর বোর্ডে ‘ওয়ার্কমেনস এমপ্লয়ি ডিরেক্টর’ নিয়োগের দাবিও তুলেছে ইউনিয়ন। তাদের অভিযোগ, শ্রমিক প্রতিনিধিদের পাঠানো প্যানেল থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ দিন ধরে সে পদে নিয়োগ করা হচ্ছে না। কর্মীদের বক্তব্য, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্তরে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করা গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার সামিল।
ধর্মঘটের সম্ভাবনা ঘিরে এখন থেকেই উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে। কারণ, ২৩ মে মাসের চতুর্থ শনিবার এবং ২৪ মে রবিবার হওয়ায় অধিকাংশ শাখা আগেই বন্ধ থাকবে। তার পর ২৫ ও ২৬ মে ধর্মঘট কার্যকর হলে টানা চার দিন শাখাভিত্তিক পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে ২৭ মে বা ২৮ মে বকরি ঈদের ছুটি যোগ হওয়ায় দেশের বহু জায়গায় টানা ৫-৬ দিন রাষ্ট্রয়ত ব্যাংকের শাখাগুলি বন্ধ থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সেখানে বকরি ঈদ উপলক্ষে ২৭ ও ২৮ মে দু–দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলে টানা ৬ দিন পর্যন্ত শাখা পরিষেবা বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মঘট হলে চেক ক্লিয়ারেন্স, পাসবই আপডেট, নগদ জমা, ঋণ সংক্রান্ত কাজ এবং অন্যান্য শাখাভিত্তিক পরিষেবায় ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী মহল, যাঁদের প্রতিদিনের আর্থিক লেনদেন শাখাভিত্তিক পরিষেবার উপর নির্ভরশীল, তাঁদের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা প্রবল। তবে ডিজিটাল পরিষেবাগুলি সচল রাখার চেষ্টা করবে এসবিআই। ‘ওয়াইওএনও’ অ্যাপ, ইউপিআই পরিষেবা, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং এটিএম পরিষেবা স্বাভাবিক রাখারই পরিকল্পনা রয়েছে বলে ব্যাঙ্ক সূত্রে ইঙ্গিত। ফলে অনলাইন লেনদেন, বিল মেটানো বা ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আপাতত কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদিও ধর্মঘট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শনিবারের বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে ব্যাঙ্ক মহল থেকে গ্রাহক সকলেরই। সে বৈঠকে কোনও সমঝোতা হয় কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে পরিস্থিতি যে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, তা স্পষ্ট। আর সে কারণেই ব্যাঙ্কে যাওয়ার আগে নিকটবর্তী এসবিআই শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে গ্রাহকদের।
❤ Support Us







