- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৬, ২০২৫
‘দাগি অযোগ্য’ নন প্রমাণ দেখালে বিবেচনা করতে বাধ্য হাইকোর্ট, এসএসসি নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় নতুন মোড়। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দে, কোনও চাকরিপ্রার্থী যদি নিজেকে ‘দাগি অযোগ্য’ হিসেবে মনে না করেন এবং সেই দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে কলকাতা হাইকোর্টকে তা খতিয়ে দেখতে হবে। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির আবহে ‘দাগি’ তালিকায় নাম উঠে আসার পর নিজেকে ‘যোগ্য’ প্রমাণ করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থী সোনালি দাস। এদিন সে আবেদন খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিম আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ— কেউ যদি ‘দাগি অযোগ্য’ নন এই প্রেক্ষিতে যথাযথ প্রমাণ পেশ করতে পারেন, তবে সে দাবিকে খতিয়ে দেখতে হবে কলকাতা হাই কোর্টকেই।
আদালত সূত্রে খবর, ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পান সোনালি দাস। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, অ্যানসার কি মিলিয়ে ফলাফলে স্বচ্ছতা থাকার দাবিতে কাউন্সেলিংয়ের ডাক পান তিনি। তারপর জোটে সরকারি স্কুলে চাকরিও। সব কিছুই চলছিল স্বাভাবিক গতিতে। কিন্তু হঠাৎই মোড় ঘোরে ৯৫২টি ওএমআর শিট উদ্ধারের পর। সিবিআইয়ের তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ওই শিটগুলির মাধ্যমে বে-আইনিভাবে নিয়োগ হয়েছে। পরে এসএসসি যে তালিকা প্রকাশ করে, তাতেই উঠে আসে সোনালির নাম। চাকরিহারা সোনালির প্রশ্ন, তিনি নিয়মমাফিক পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছেন, অ্যানসার কি অনুযায়ী নম্বরও ঠিক ছিল, কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে চাকরিও পেয়েছেন, সেখানে কী ভাবে তাঁকে ‘দাগি অযোগ্য’ তালিকায় রাখা হল? এ প্রশ্ন তুলে তিনি ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে মামলা করেন।
এদিকে সে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হয় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের পুরো প্যনেলের নিয়োগ। পাশাপাশি, শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের নতুন নিয়োগ পরীক্ষাতেও বসার সুযোগ নেই। সে তালিকায় পড়ে যান সোনালিও। এর পরেই ফের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসএসসির ভুলের জন্য অযথা ‘দাগি’র তকমা পেয়েছেন তিনি। তাই তাঁকে যেন নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক, এমন আর্জিও পেশ করেন তিনি।
সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং অরবিন্দ কুমারের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টই খতিয়ে দেখবে। তবে বিচারপতিরা জানান, ‘ কোনো প্রার্থী যদি নিজেকে ‘দাগি’ না বলে মনে করেন এবং সেই দাবির পক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেন, তা হলে হাই কোর্টকে তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে, উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’ শুধু তাই নয়, শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তোলে, ‘মামলাটি এত দিন ধরে ঝুলে রয়েছে কেন?’ হাইকোর্টকে এ মামলার দ্রুত শুনানির নির্দেশও দেন বিচারপতিরা। প্রসঙ্গত, প্রথমে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে সোনালি দাসের করা মামলাটি দায়ের হলেও, পরে তা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে যায়। বিচারপতি ভট্টাচার্য মামলাটি ফেরত পাঠান বসুর এজলাসেই, কারণ শুনানি সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল। এদিন শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট ইঙ্গিত, যেখান থেকে মামলাটির সূত্রপাত, সেখানেই হোক নিষ্পত্তি হবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, চাকরিহারা শিক্ষিকা সোনালি দাসের মতো অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা মনে করছেন তাঁরা অন্যায় কিছু করেননি। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে এদিন সুপ্রিম কোর্ট কার্যত জানিয়ে দিল, ‘দাগি’ মানেই অপরাধী নয়। যাঁরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, তাঁদের প্রতি সুবিচার করতেই হবে হাই কোর্টকে।
❤ Support Us







