- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫
‘ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইন’ এর বিরোধিতা, ৯ রাজ্যের কাছে তথ্য চাইল শীর্ষ আদালত
একাধিক রাজ্যে ধর্মান্তকরণ-সংক্রান্ত আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে জোরদার বিতর্কের আবহে নয়া মোড়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশে বলল, এ সংক্রান্ত আবেদনগুলির প্রেক্ষিতে রাজ্যগুলি তাদের জবাব দিক ৪ সপ্তাহের মধ্যে। তার পর ৬ সপ্তাহ পরে হবে চূড়ান্ত শুনানি।
প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি কে ভিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, উত্তরাখণ্ড, কর্ণাটক, ছত্তিশগড় এবং হরিয়ানা— এই ৯টি রাজ্যকে সংশ্লিষ্ট ‘ধর্মান্তকরণ বিরোধী’ আইনগুলির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পিটিশনের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। যদিও রাজ্যগুলিতে এসব আইনগুলির নাম ‘ধর্মের স্বাধীনতা আইন’, কিন্তু বাস্তবে সেগুলির ব্যবহার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে বলেই দাবি করেছেন আবেদনকারীরা। ‘সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’-এর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট চন্দর উদয় সিং এদিন আদালতে জানান, আইনগুলির মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে আন্তঃধর্ম বিবাহ এবং সংখ্যালঘুদের উপাসনাকেন্দ্রগুলিকে।
চন্দর উদয় সিং-এর অভিযোগ, ‘২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশ সরকার আইন সংশোধন করে এমন ব্যবস্থা করেছে, যেখানে ধর্মান্তরকরণজনিত বিবাহের জন্য ন্যূনতম শাস্তি ২০ বছর, এবং তা আজীবন পর্যন্তও হতে পারে। এমনকি, জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যেমনটা আমরা ‘মানি লন্ডারিং’-এর মামলায় দেখি।’ এই সংশোধনী অনুযায়ী, অভিযোগ দায়েরের অধিকারও দেওয়া হয়েছে তৃতীয় পক্ষকে, যার জেরে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর হাতে সাধারণ মানুষ, বিশেষত আন্তঃধর্ম দম্পতি ও গির্জায় প্রার্থনাকারীরা, অহরহ হেনস্থা হচ্ছেন বলেই অভিযোগ। জাতীয় মহিলা ফেডারেশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট বৃন্দা গ্রোভারও আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলরাও এ আইনগুলির বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গুজরাত হাইকোর্ট ২০২১ সালে গুজরাত ধর্মান্তর আইনটির কিছু ধারায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও একই পথে হেঁটেছে। তবে এই রাজ্যগুলি হাইকোর্টের সেই অন্তর্বর্তী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। সওয়াল শুনে সুপ্রিম বেঞ্চ জানায়, রাজ্যগুলির পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল কেএম নটারাজ আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে লিখিত জবাব জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, পিটিশনারদের পক্ষে অ্যাডভোকেট সৃষ্টি অগ্নিহোত্রি এবং প্রতিপক্ষদের পক্ষে অ্যাডভোকেট রুচিরা গোয়েলকে নোডাল আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এঁরা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংকলন করবেন।
এ আবহে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তও নেয় শীর্ষ আদালত। বিজেপি ঘনিষ্ঠ আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি পিআইএল, যাতে তিনি দেশজুড়ে জোরপূর্বক বা প্রতারণামূলক ধর্মান্তরকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন, সে মামলাকে মূল মামলার থেকে ‘ডিট্যাগ’ করে আলাদা শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেঞ্চ। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এ বিষয়ে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে নোটিস দিয়েছিলেন। পরে জামিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ একটি পিটিশন দাখিল করে, যার ফলশ্রুতিতে এ ব্যাপারে দেশের ৬টি হাইকোর্টে বিচারাধীন মোট ২১টি মামলাকে একত্রিত করে সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তর করা হয়। এবার সেই ৬ রাজ্যের মধ্যে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই আংশিক স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আপাতত দেশের ‘ধর্মান্তর বিরোধী আইন’-গুলির বৈধতা প্রশ্নের মুখে। সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সীমানা এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের পারস্পরিক টানাপোড়েনে বহুল আলোচিত এ মামলার দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।
❤ Support Us







