Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ৬, ২০২৬

বারুইপুরে তিন থানায় ১৬৩ ধারা জারি । টহল পুলিশের; বালিকা হত্যা ও গণপিটুনির তদন্তে সিট, গ্রেফতার ২

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বারুইপুরে তিন থানায় ১৬৩ ধারা জারি । টহল পুলিশের; বালিকা হত্যা ও গণপিটুনির তদন্তে সিট, গ্রেফতার ২

বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার জেরে সোমবার সকাল থেকে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। এই ধারার আওতায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনটি থানা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী, পাশাপাশি চলছে লাগাতার টহলদারি। কোথাও বেআইনি জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে না।
রবিবার নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর বারুইপুরে দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোরীর দেহ আটকে রেখে প্রতিবাদে সামিল হন। অভিযোগ, ওই ঘটনায় খুনি সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, পুলিশকর্মীদের মারধরের অভিযোগও সামনে এসেছে।
এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। রবিবার রাতভর অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ও আটক ব্যক্তিরা নাবালিকা হত্যার মামলারই অভিযুক্ত।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। প্রথমটি নাবালিকাকে খুনের অভিযোগে, দ্বিতীয়টি গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এবং তৃতীয়টি কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের মারধরের অভিযোগে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার নতুন করে যাতে পরিস্থিতি অশান্ত না হয়, সেই কারণেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার এবং কোনও ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুরের ১২ বছরের ওই কিশোরী শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল। রবিবার একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে খুন করা হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, হত্যার ধরন এবং খুনের আগে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া মঙ্গলবার ভবানী ভবনে কিশোরীর বাবাকে ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ, যেখানে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা হবে। কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে রবিবার ফোনে কথা বলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!