Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জানুয়ারি ১৩, ২০২৫

মহাকুম্ভে রাত থাকতেই শুরু শাহী স্নান। মঙ্গলে গঙ্গাসাগরে পূন্যস্নান । সাগর নিয়ে কেন্দ্রের উদাসীনতা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মহাকুম্ভে রাত থাকতেই শুরু শাহী স্নান। মঙ্গলে গঙ্গাসাগরে পূন্যস্নান । সাগর নিয়ে কেন্দ্রের উদাসীনতা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু

প্রয়াগরাজে আজ শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক মহাকুম্ভ মেলা। ১২ বছর পরে পুণ্যযোগ। ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে ভোরের আলো ফোটবার আগেই শুরু পূণ্যস্নান। ৪০ কোটির বেশি ভক্তসমাগম। মেলা চলবে ১৩ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধুসন্তরা যেমন এসেছেন, তেমনি বিশাল সংখ্যক সাধারণ মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। দেখা মিলল বিদেশি পর্যটকদের। মঙ্গলবার শুরু গঙ্গাসাগর মেলা। অন্যদিকে মঙ্গলবার থেকে বাংলায় শুরু গঙ্গাসাগর মেলা। সংক্রান্তির আগেই সাগরসঙ্গমে ভিড়। শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

বিশ্বের বৃহত্তম লোক সমাগম হয় ভারতের প্রাচীনতম উৎসব প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায়। শুধু ধরমীয় আচার অনুষ্ঠানের জন্য নয়, বরং ভারতের সুদীর্ঘ আধ্যত্মিক যাত্রার নিদর্শন হিসাবে এই মেলার গুরুত্ব রয়েছে। প্রাচীন পুরাণে কুম্ভমেলার উল্লেখ পাওয়া যায়। ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের সংগমে অনন্য এক পরিবেশ তৈরি হয় সেখানে। শুধু হিন্দু ধর্মালম্বী নয়, দেশবিদেশ থেকে পর্যটকরা হাজির হন। উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে (সাবেক এলাহাবাদ) গঙ্গা ও যমুনা নদীর মিলন হলেও হিন্দু পুরাণ মতে এখানে সরস্বতী নামের পৌরাণিক এক অন্তঃসলিলা নদী এসেও মিলিত হয়েছে । এই তিন নদীর কল্পিত মিলন স্থানকে ত্রিবেণী সঙ্গম বলা হয়। হিন্দু পুরাণে উল্লেখ হয়েছে, দেবতা ও অসুরেরা সমুদ্র মন্থন করে অমৃতের সন্ধান করেছিলেন। অমৃতের কুম্ভ নিয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হয় তাঁদের মধ্যে, লড়াইয়ে অমৃতের কয়েক ফোঁটা ভারতের চারটি স্থানে পড়ে—প্রয়াগরাজ, উজ্জয়িনী, নাসিক ও হরিদ্বারে। এই স্থানগুলিকেই কুম্ভমেলার পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হিসাবে বিশ্বাস করা হয়। সেখানে গঙ্গাস্নান আত্মার পরিশুদ্ধি ও জন্ম-মৃত্যুর সীমাহীন চক্র থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

২০১৯ সালে কুম্ভ মেলায় অংশ নিয়েছিলেন ২৫ কোটি পূর্ণার্থী, এবছর সে সংখ্যা ৪৫ কোটি হতে পারে বলে যোগী সরকারের অনুমান। ৬ টি শাহি স্নানের শেষে শেষ হবে এই মেলা– পৌষ পূর্ণিমা- ১৩ জানুয়ারি, মকর সংক্রান্তি- ১৪ জানুয়ারি, মৌনী অমাবস্যা- ২৯ জানুয়ারি, বসন্ত পঞ্চমী-৩ ফেব্রুয়ারি, মাঘী পূর্ণিমা-১২ ফেব্রুয়ারি, মহা শিবরাত্রি-২৬ ফেব্রুয়ারি।

৫৫ দিনের এই বিশাল অনুষ্ঠানকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা এখন উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন। যাতে সুষ্ঠুভাবে এই মেলা করা যায় সেজন্য সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কয়েকমাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। নদী পারাপারের জন্য অস্থায়ী সেতু নির্মাণ, পূর্ণার্থীদের জন্য ৫০ হাজার তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছ এক লাখ ৪৫ হাজার বিশ্রামাগার, ৩ হাজার রান্নাঘর ও ৯৯টি গাড়ির রাখার স্থান আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে নিরাপত্তার ঘন চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে সঙ্গমক্ষেত্রকে। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তিকে আকাশে উড়ছে উন্নত ড্রোন ক্যামেরা। ১২৫টি সড়ক অ্যাম্বুলেন্স, সাতটি জল অ্যাম্বুলেন্স ও তিনটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ৪০ হাজার কর্মী, সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞর পাশাপাশি ভারতীয় সেনার বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। এই মেলা উপলক্ষ্যে ভারতীয় রেলওয়ে প্রয়াগরাজে যাওয়ার নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি আরো ৯৮টি বিশেষ ট্রেন চালু করেছে। এসব ট্রেন উৎসব চলাকালে অতিরিক্ত ৩৩০০ ট্রিপ দেবে বলে হিসাব করা হয়েছে। মূল অনুষ্ঠান স্থলে ৬৮ হাজার এলডি লাইট সেট করা হয়েছে। যার আরো আকাশ থেকে দেখা যাবে। মেলার সময়ে নদীর তীর ছোট আকারের অস্থায়ী শহরের চেহারা নেয়।

মেলা শুরুর আগেই বার্তা দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পৌষ পূর্ণিমার। তিনি লিখছেন, আজ থেকে তীর্থরাজ প্রয়াগরাজে শুরু হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক সমাবেশ ‘মহা কুম্ভ’। মেলায় আসা সমস্ত ভক্ত এবং পূর্ণার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার থেকে রাজ্যে শুরু গঙ্গাসাগর মেলা। সেজে উঠেছে সাগর। এখানেও বিপুল সংখ্যায় দর্শনার্থীদের ভিড় হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায় মেলার আগে সাগরে একাধিকবার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। প্রস্তুতি ও ভক্তদের নিরাপত্তায় যাতে কোনো খামতি না থাকে, প্রশাসনকে দিয়েছেন একাধিক নির্দেশ। কুম্ভ মেলায় কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল অর্থ ব্যায় করে কিন্তু বাংলার গঙ্গাসাগর মেলা উপেক্ষিত এই অভিযোগ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘কুম্ভ মেলায় কেন্দ্রীয় সরকার কোটি কোটি টাকা দেয়। অথচ গঙ্গাসাগর মেলাকে এক পয়সাও দেয় না।’ কুম্ভমেলা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌভাবে পরিচালনা করে। কয়েক হাজার কোটি টাকা আয় হয় সরকারের। গঙ্গাসাগর মেলা থেকে রাজ্যের আয়ও কম নয়। উত্তরপ্রদেশের শতাব্দীপ্রাচীন কুম্ভমেলা পরিচালনায় কেন্দ্র বিপুল অর্থ দেয় কিন্তু কেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পাল্টা মন্ত্যব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ‘কুম্ভ আর গঙ্গাসাগরের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি করে তৃণমূ‍ল রাজনৈতিক ফয়দা লুটতে চাইছে। লক্ষ্য, বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা বাংলা–বিরোধী অভিযোগ আরও জোরদার করা।’ মন্তব্য তাঁর। ‘কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথ ভাবে গঙ্গাসাগর মেলা করতে চেয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কি কেন্দ্রের কাছে কোনও প্রস্তাব দিয়েছেন ? মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই প্রশ্ন করে, সুকান্ত আহ্বান, ‘এ রকম কোনও প্রস্তাব রাজ্য সরকার দিয়ে থাকলে তার একটা প্রতিলিপি আমাকে দিন। আমি নিজে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। বিজেপি দায়িত্ব নিচ্ছে যে, গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সহযোগিতার ব্যবস্থা করবে।’

রাজনৈতিক তরজা যাই হোক না কেন, কুম্ভের মতো গঙ্গাসাগরে কাতারে কাতারে মানুষের সমাগম হচ্ছে। শীতের আমেজে মঙ্গলবার ভোরে পূণ্যস্নান করেবেন তাঁরা। এদিকে, আজ পূর্ণিমার ভরা কোটাল, নদী ভাঙন নিয়ে জেলা প্রশসনের মাথায় চিন্তার ভাঁজ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক সুমিত গুপ্ত দাবি করেছেন, ‘ ভয়ের কিছু নেই। গত বারের মতো পূর্ণিমার কটালে এ বারে আর ভাঙন হবে না। তবুও আমরা সেচ দফতরকে প্রস্তুত থাকতে বলেছি। কিছু হলে দ্রুত যাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।’ সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া ও দফতরের সচিব মনীশ জৈনের উপস্থিতিতে ডাকা হয়েছে বিশেষ বৈঠক।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!