Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২৮, ২০২৬

কর্নাটকে বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে রাজি সিদ্দারামাইয়া; পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন ডিকে শিবকুমার

কর্নাটকে বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে রাজি সিদ্দারামাইয়া; পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন ডিকে শিবকুমার

কর্নাটকের রাজনীতিতে জল্পনা আরও তীব্র হল বৃহস্পতিবার সকালে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে প্রস্তুত। সূত্রের খবর, কংগ্রেস হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাঁর ইস্তফা ঘিরে এখনও কিছু প্রশাসনিক জটিলতা রয়ে গিয়েছে, কারণ রাজ্যপাল থাবরচাঁদ গহলৌত বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে নেই।

বুধবার পারিবারিক কারণে বেঙ্গালুরু ছেড়ে মুম্বই যান রাজ্যপাল। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে পৌঁছেছেন। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফাপত্র সরাসরি তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ আপাতত নেই। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে দাবি, এতে বড় কোনও সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে রাজভবনের সচিবের কাছেও ইস্তফাপত্র জমা দেওয়া যেতে পারে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার-সহ মন্ত্রিসভার সদস্যেরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রাতরাশ বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, রাজভবন সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনও আনুষ্ঠানিক সময় চাওয়া হয়নি। যদিও বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছে। রাজভবনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যপাল শহরে ফিরলেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। তবে প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনের সচিবের হাতেও ইস্তফাপত্র জমা দিতে পারেন।

রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, মঙ্গলবারই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে সিদ্দারামাইয়াকে স্পষ্ট বার্তা দেন যে, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে। কংগ্রেস সূত্রে খবর, ওবিসি মুখ হিসেবে সিদ্দারামাইয়াকে ভবিষ্যতে রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে তাঁর ঘনিষ্ঠ কাউকে সেই পদে বসানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিদ্দারামাইয়ার পদত্যাগের পর কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকা হবে। সেখানে ডিকে শিবকুমারের নাম পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদিত হতে পারে। এরপর তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। একই সঙ্গে কর্নাটক মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনাও রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমারের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কংগ্রেস হাইকমান্ডের দেরি ও দ্বিধা প্রকাশ্যে এসেছিল। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস কেরল, তামিলনাড়ুর পর কর্নাটকেও দ্রুত ও নির্ণায়ক পদক্ষেপের বার্তা দিতে চাইছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!