- দে । শ
- এপ্রিল ৬, ২০২৬
‘প্রাণ কেড়েছে’ এসআইআর! অভিষেকের নির্দেশে মৃতের বাড়িতে তৃণমূল নেতৃত্ব
শনিবার প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টরি লিস্টে নাম ওঠেনি অশীতিপর আহমেদ আলি শেখ (৮৩)-সহ তাঁর পরিবারের মোট ৮ জনের। এটা জেনে ভেঙে পড়েন কালনা ১নং ব্লকের সুলতানপুর পঞ্চায়েতের ভাটরা গ্রামের বাসিন্দা আহমেদ আলি। রবিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল আহমেদ আলির।
এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে আহমেদ আলির পরিবার থেকে শুরু করে গ্রামের সিংহভাগ বাসিন্দা। রবিবার রায়নায় নির্বাচনী সভা করতে আসেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। আহমেদ আলির মৃত্যুর খবর পেয়েই দলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি ও বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকে বলেন আহমেদ আলির পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। রবিবার রাতে ভাটরা গ্রামে যান ওই ২ প্রবীণ তৃণমূল নেতা। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। অনলাইনে ও হাতে হাতে নথিসহ ট্রাইবুনালে আবেদনের ব্যবস্থা করেন। দুজনেই বলেন, ‘ওই পরিবার আমাদের সমর্থক। বিজেপি ও তার তল্পিবাহক নির্বাচন কমিশন আর কত ভোটারের প্রাণ কাড়বে? গণতন্ত্রের মহোৎসব নির্বাচনকে মরণযজ্ঞে পরিণত করেছে বিজেপি।’
প্রয়াত আহমেদের বড়ো ছেলে আজিজ আলি শেখ বলেছেন, ‘শুনানির সময় বাবা ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পাশের সার্টিফিকেটও জমা দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও বাবার নাম কেটে দিল কমিশন।’ বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বয়স হলেও আহমেদ সাহেব শারীরিকভাবে সক্ষম ছিলেন। রোজ সকাল-বিকেল দু’বেলা হাঁটাহাঁটি করতেন। শনিবার বিকেলেও গোটা গ্রাম চক্কর দেন। রাতে জানতে পারেন, প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টরি লিস্টে তাঁর এবং তাঁর ৪ ছেলে, ২ বৌমা ও এক নাতির নাম ওঠেনি।
কিছুদিন আগে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ওই ৮ জনের নাম বিচারাধীন ছিল। তারপর থেকেই উদ্বেগ বাড়ে আহমেদ আলির। এরপর গতকাল প্রকাশিত হওয়া সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে দেখা যায়, তাঁর ও পরিবারের মোট ৮ জনের নাম ‘ডিলিটেড’। রবিবার আনুমানিক বেলা ১টা নাগাদ মৃত্যু হয় আহমেদের। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আহমেদ সাহেবের নাম ছিল। ২০২৫-র ভোটার তালিকাতেও নাম আছে। ১৯৫২ সালে আহমেদ সাহেবের বাবা ইয়াদ আলি শেখ এখানকার বুথে ভোটও দিয়েছেন। তবু নাম বাদ পড়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না আহমেদের পরিবারের সদস্যরা।
❤ Support Us





