Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫

বিহারের পর বঙ্গে বেজে উঠেছে ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধনের দামামা ! প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিহারের পর বঙ্গে বেজে উঠেছে ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধনের দামামা ! প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু

বিহারের পর এবার বাংলা। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সোমবার থেকেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণ পর্ব। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যের প্রায় ৭৯ হাজার বুথ লেভেল অফিসারদের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করতে হবে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বাংলায় এই বিশেষ সংশোধনী অভিযানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার অগরওয়ালের নেতৃত্বে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে একাধিক স্তরের প্রশিক্ষণ শিবির। প্রথম পর্যায়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ইআরও, এইআরও, এডিএম এবং ওসি পদমর্যাদার আধিকারিকরা। তাঁদের মাধ্যমেই প্রশিক্ষিত হবেন বুথ লেভেল অফিসাররা। কমিশন সূত্রে খবর, বুথভিত্তিক এ সংশোধন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য, ভোটার তালিকাকে যথাসম্ভব নির্ভুল এবং স্বচ্ছ করে তোলা। বিশেষ করে যাতে একাধিক ভোটার পরিচয়, মৃত কিংবা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম তালিকায় না থাকে, সে বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে, তালিকা থেকে অবৈধ নাম বাদ দেওয়া এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করাই হবে এই সংশোধনের মুখ্য উদ্দেশ্য।

কমিশনের নির্দেশ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করে চলবে এবারের ‘এসআইআর’। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত সর্বশেষ ভোটার তালিকার সঙ্গে ২০০২ সালের তালিকা মিলিয়ে দেখা হবে। যাঁদের নাম ২০০২-এর তালিকায় রয়েছে, তাঁদের নতুন করে কোনো নথি জমা দিতে হবে না। তবে যাঁদের নাম ছিল না, কিন্তু তাঁদের পিতা অথবা মাতার নাম ২০০২ সালের তালিকায় রয়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট নথি দিয়ে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে ১১টি স্বীকৃত পরিচয়পত্রের তালিকা। তালিকায় যুক্ত হয়েছে আধার কার্ডও। ফলে, আধারকে অগ্রাহ্য করে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে এবার খানিকটা ঠেকানো যাবে বলেই আশাবাদী কমিশন। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে কারণে গোড়া থেকেই প্রশিক্ষণ পর্বে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি জেলার বিএলও-দের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করা হবে অনলাইন এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। এমনকি, প্রতিদিন বিএলও-দের কাজের অগ্রগতি জমা পড়বে রিপোর্ট আকারে। কমিশনের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর রাজ্য সফরে এসে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন এই প্রস্তুতি। সূত্রের খবর, ভোটার তালিকার ম্যাপিং এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে ভোটারের নাম, পিতামাতার নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য।

প্রসঙ্গত, বিহারে ‘এসআইআর’ চালুর পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সংসদের বাদল অধিবেশনেও এই ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দুই কক্ষ। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছে বিরোধীরা। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গেও এই সংশোধনী কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল। কমিশন সূত্রে খবর, প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হলেই, অর্থাৎ লক্ষ্মীপুজোর পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ময়দানে নামবেন বিএলও-রা। দরজায় দরজায় গিয়ে যাচাই করা হবে ভোটারের তথ্য ও নথিপত্র। পাশাপাশি চলবে আধার ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে অনলাইন আপডেটের কাজ। অনলাইন ও অফলাইন প্রক্রিয়া মিলিয়েই তৈরি হবে রাজ্যের নয়া ভোটার তালিকা—যার উপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদান করবেন বাংলার নাগরিকরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!