Advertisement
  • খাস-কলম
  • জানুয়ারি ৩১, ২০২৩

পাশে থাকবেন সত্যম, দিল্লিতে ফিরবে বাংলা বইয়ের মসনদ। দ্বিতীয় দিনেই তারুণ্যের সংকেত — এবার অন্যরকম রেকর্ড গড়বে কলকাতা পুস্তক মেলা

বাহার উদ্দিন
পাশে থাকবেন সত্যম, দিল্লিতে ফিরবে বাংলা বইয়ের মসনদ। দ্বিতীয় দিনেই তারুণ্যের সংকেত — এবার অন্যরকম রেকর্ড গড়বে কলকাতা পুস্তক মেলা

দিল্লিতে বাংলা বইমেলা হলে, সহযোগিতা করবে সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়। বলেছেন, এসএনইউ-র আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী । এ ব্যাপারে সুধাংশুদা, ত্রিদিবদার সঙ্গে আমার  আলোচনা হয়েছে। আমরা অবশ্যই  তাঁদের পাশে থাকব।’ ( সূত্র, আজকাল)

সত্যম কেবল শিক্ষা সংগঠক নন, সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায়ও বুলন্দ তাঁর হৃদয়। বাংলার সারস্বত সাধনাকে ভারতের নানা অঞ্চলে, ভারতের বাইরে পৌঁছে দিতে তাঁর ঐকান্তিকতা সুবিদিত।  নিজে বাচিক শিল্পী, দরাজ তাঁর কণ্ঠস্বর। বঙ্গ সংস্কৃতির  বহু অঙ্গনে সত্যমের  বিচরণ প্রশ্নহীন। ব্রিটেনে, আমেরিকায়, বাংলাদেশে তাঁর নেতৃত্বাধীন সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের সফরের বিস্তার  বাঙালির চিরায়ত সাধনার  ইতিহাসকে বারবার স্পর্শ করছে।  শিক্ষাপ্রসার  আর সামাজিক উদ্যোগে তাঁর  ব্যস্ততা রবীন্দ্র ভাবাদর্শের অনুসারী।শিক্ষা আর বাণিজ্যের নির্মাণের সঙ্গে নাগরিক ও লোকায়ত সংস্কৃতির পরোক্ষ -প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপনে  যে আবহ তৈরি করেছে তাঁর একাগ্র নিষ্ঠা,  তা প্রজন্মকে, আমাদের  সমকালকে উৎসাহিত করবে। এরকম একজন মনোহর স্থপতির পরিচালনাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের (এসএনইউ) অভিমুখের স্পর্শে, প্রস্তাবিত দিল্লির বাংলা বইমেলা ভিন্নতর অভিমুখ খুঁজে পাবে, এরকম ভাবনা কি অপ্রাসঙ্গিক?

ফাইল চিত্র

একথা বলার কারণ, ৪৬ তম কলকাতা বইমেলার ডিজিটাল পার্টনারের  বহুমুখী দায়িত্ব পালন করছে  এসএনইউ, স্বয়ং আচার্যের নির্দেশে। যাঁরা  বাইরে থাকেন, কিংবা যাঁরা  নানারকম অসুবিধার জন্য মেলা প্রাঙ্গনে হাজির  হতে অক্ষম, তাঁদের সামনে প্রতিদিন বিস্তৃত মেলাচিত্র তুলে ধরেছেন এসএনইউ-র  ডিজিটাল টেকনিকাল টিম। এবার, কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার এও আরেক বৈশিষ্ট্য। দ্বিতীয়ত, বইমেলা উপলক্ষে, অনলাইনে কবিতা-গল্প-উপন্যাস রিলিজ করার সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়। এসব প্রতিটি পরিকল্পনাই সত্যম রায়চৌধুরীর ভাবনা প্রসূত। বাংলার বিভিন্ন  বিশ্ববিদ্যালয়ের  মধ্যে, এসএনইউর আচার্য  বয়সে সম্ভবত সর্বকনিষ্ঠ। কিন্তু সৃষ্টিশীল  কাজ আর চিন্তায়, উদ্ভাবনে তাঁর  একাগ্রতা নিঃসন্দেহে প্রগাঢ় অভিজ্ঞের মতো দিক উন্মোচক।

ব্যক্তি প্রতিভার চিন্তা-বিচিন্তায় উজ্জীবনী  শক্তি খুঁজে পায় নির্মীয়মান পরিবেশ। নানা দিক থেকে আক্রান্ত, অথচ অঙ্গীকারবদ্ধ আজকের  বঙ্গভূমিতে সত্যমের  মতো বহু সত্যমের সমবেত উপস্থতি প্রয়োজন।  ৪৬ তম বইমেলায় তাঁর নির্দেশিত ডিজিটাল টেকনিক্যাল টিমের সমূহ সমর্পণের দাবি কি এরকম নয়? এরকম অনুচ্চারিত দাবিকে সঙ্গে নিয়ে, অনুভব করে  ৪৬ তম কলকাতা বইমেলা  তার দ্বিতীয় দিনেই  স্মৃতির পূর্বগামী ছায়াকে  পেছনে রেখে জনস্রোতের জোয়ার তুলতে ব্যস্ত। প্রতিটি স্টল  প্রস্তুত। সন্ধ্যায় রবীন্দ্রসদন, কফি হাউস, শহরের বা বিভিন্ন শপিং মলের ভিড়ের গন্তব্য বদলে যাচ্ছে।কলরব আর আড্ডার গুঞ্জনে ভরে উঠছে উর্ধারোহী  উচ্ছ্বাস। পরিষ্কার ইঙ্গিত, জনসমাগমের অতীতকে, অতীতের কোনও কোনও সংশয় আর বিচ্যুতিকে মুছে দেবে ৪৬ তম বইমেলার সম্ভাব্য আভিজাত্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!