Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ১১, ২০২৬

বনাঞ্চল ঘেরা ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি, জওয়ানদের সঙ্গে থাকছেন বনকর্মীরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বনাঞ্চল ঘেরা ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি, জওয়ানদের সঙ্গে থাকছেন বনকর্মীরা

উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল লাগোয়া ভোটকেন্দ্রগুলিতে এবারের ভোটকে কেন্দ্র করে চরম সতর্কতা জারি করেছে বন দফতর। বিশেষ করে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এলাকার বহু বুথে ভোট দিতে যাওয়া মানেই ভয়ের পরিবেশ—চারদিক ঘিরে রয়েছে ঘন জঙ্গল। কার্শিয়াং ও মহানন্দা বনাঞ্চল দ্বারা পরিবেষ্টিত এই অঞ্চলগুলিতে বুনো হাতি, চিতাবাঘ, বুনো শুয়োর, এমনকি বিষধর সাপের উপদ্রব নিত্যদিনের ঘটনা।

তবুও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে যাতে কোনও বাধা না আসে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বন দফতর। ভোটের আগের রাত থেকেই বনাঞ্চল সংলগ্ন সমস্ত গ্রাম ও ভোটকেন্দ্রে নজরদারি চালাবেন বনকর্মীরা। ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে কুইক রেসপন্স টিম (QRT), পাশাপাশি প্যাট্রোলিং ভ্যান ও কন্ট্রোল রুম সক্রিয় থাকবে।

প্রতিটি গ্রামের জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটিগুলিকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। আশপাশে কোনও বুনো জন্তুর উপস্থিতি টের পেলেই যাতে দ্রুত বন দপ্তরে খবর পৌঁছে যায়, তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করে বুনো জন্তু তাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, যেমন বাজি, সরবরাহ করা হয়েছে।

কিছু স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্রে বনকর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও মোতায়েন করা হবে। কার্শিয়াং বন দফতরের এজিএফও রাহুলদেব মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বনাঞ্চলে বুনো জন্তু থাকবেই, ভোটের জন্য তাদের সরানো সম্ভব নয়। বরং চেষ্টা করা হবে যাতে তারা জঙ্গলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।”

আগামী ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বনাঞ্চল ঘেরা অঞ্চলগুলিতে  নির্বিঘ্ন ভোট সম্পন্ন করতে যে মাত্রার সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে, তা রাজ্যের অন্যত্র বিরল। বিশেষ করে বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, সুকনা এবং আশপাশের বেঙডুবি, ত্রিহানা, অর্ড-টেরাই, কিরণচন্দ্র, বেলগাছি, লোহাগড় ও বামনডাঙি এলাকায় ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করে নিশ্চিত করা হচ্ছে—ভোটের দিন কোনও বুনো জন্তু যেন জঙ্গল ছেড়ে বাইরে না আসে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!