Advertisement
  • দে । শ
  • আগস্ট ২৪, ২০২৬

বাদল অধিবেশন সমাপ্তি নিয়ে জল্পনা, ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে মোদি সরকারের নতুন কৌশল ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাদল অধিবেশন সমাপ্তি নিয়ে জল্পনা, ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে মোদি সরকারের নতুন কৌশল ?

সংসদের বাদল অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হওয়ার পর ১০ দিন কেটে গেলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা হয়নি। এই অস্বাভাবিক বিলম্বকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, নতুন করে কোনও বিশেষ অধিবেশন না ডেকেই কি গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিল পাশ করানোর পথ খোলা রাখতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি সরকার? আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন এবং তার সঙ্গে যুক্ত মহিলা সংরক্ষণ বিল।

গত ১৩ আগস্ট লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষই অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হয়ে যায়। সাধারণত অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হওয়ার পর দুই থেকে চার দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশন সমাপ্ত বা ‘প্রোরোগ’ ঘোষণা করা হয়। তবে এবার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও সেই বিজ্ঞপ্তি এখনও জারি হয়নি।

এর আগে বাজেট অধিবেশন ১৮ এপ্রিল মুলতবি হয়েছিল এবং মাত্র দু’দিনের মধ্যেই, ২০ এপ্রিল, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংসদীয় নিয়ম ও সাংবিধানিক ব্যবস্থায়, অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হলেও রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আইনিভাবে সেই অধিবেশন সম্পূর্ণ শেষ হয় না। সংবিধান অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও সমাপ্তির ঘোষণা করেন।

এই পরিস্থিতিতেই বিরোধীদের প্রশ্ন, কেন এবার এতটা সময় নেওয়া হচ্ছে? কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই বিলম্ব নিয়ে সরব হয়েছে। দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ রবিবার বলেন, সাধারণত লোকসভা অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হওয়ার পর অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণার মধ্যে দুই থেকে চার দিনের ব্যবধান থাকে। অবশ্য এমন নজিরও রয়েছে, যখন মুলতবি ও সমাপ্তির ঘোষণা একই দিনেই হয়েছে। কিন্তু এবার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও সেই ঘোষণা না হওয়ায় সন্দেহ আরও বাড়ছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নের কৌশল থাকতে পারে। বিশেষ করে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিল দ্রুত সংসদে আনার প্রয়োজন হলে, বর্তমান অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না করে রাখার সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা চলছে। যদিও সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

এই জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন। তার সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। বাজেট অধিবেশনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় ওই বিলের অগ্রগতি থমকে যায় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। একইসঙ্গে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে।

দক্ষিণের রাজ্যগুলির সেই উদ্বেগ দূর করতে কেন্দ্রের তরফে একটি সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে খবর। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, জনসংখ্যার ভিত্তিতে শুধু আসন পুনর্বিন্যাস না করে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে লোকসভা আসনের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। এর ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির বর্তমান প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আঞ্চলিক পরিষদের বৈঠকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় বিষয়টি উত্থাপন করার পর ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপ ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে।

ফলে বাদল অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পরও তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা না হওয়াকে এখন নিছক প্রশাসনিক বিলম্ব হিসেবে দেখছেন না বিরোধীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এর পিছনে সংসদীয় কৌশল থাকতে পারে এবং ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের জন্য সরকার সুযোগ খোলা রাখতে চাইছে।

তবে শেষ পর্যন্ত মোদি সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা স্পষ্ট হবে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং কেন্দ্রের পরবর্তী সংসদীয় পদক্ষেপের পরেই। আপাতত বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণায় এই নজিরবিহীন বিলম্বই ডিলিমিটেশন ও আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
প্রেমের বিস্তার, হিংসায় শৃঙ্খল পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
ইরফান হাবিবের ইতিহাস চিন্তা পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
বৈদিক যুগ, এক পরিবর্তনের সময় ব | ই | চ | র্যা রোব-e-বর্ণ
error: Content is protected !!