- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫
শাস্তি থেকে রেহাই, তবে নাগরিকত্বের পথ এখনো অধরা শ্রীলঙ্কা থেকে আগত শরণার্থীদের
ভারতে আশ্রয় নেওয়া শ্রীলঙ্কার তামিল শরণার্থীদের কাঁধ থেকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’র তকমা আপাতত সরেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা বা নাগরিকত্বের পথ এখনই খুলছে না। এমনই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সম্প্রতি এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ২০১৫-র ৯ জানুয়ারির আগে যাঁরা ভারতে এসেছেন, তাঁদের বৈধ পাসপোর্ট, ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা ভিসা না থাকলেও ফৌজদারি আইনে আর তাঁদের শাস্তি দেবে না সরকার। কিন্তু সে ছাড় মিললেও তামিল শরণার্থীদের নাগরিকত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দিতে রাজি নয় নয়াদিল্লি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক ঊর্ধ্বতন কর্তা জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার তামিল শরণার্থীরা দীর্ঘমেয়াদি ভিসা বা নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য নন। যদিও কেন যোগ্য নন, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী, বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একাধিকবার জানিয়েছে, ‘শ্রীলঙ্কার নাগরিকরাও ওই আইনের আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন, যদি তাঁরা যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে পারেন।’ কিন্তু বাস্তবে ছবিটা একেবারে অন্যরকম। ১৯৮৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবদের পাঠানো একটি চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, ১৯৮৩ সালের জুলাই মাস বা তার পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া কোনো শ্রীলঙ্কার শরণার্থীর নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ করা যাবে না। কেন্দ্র সরকার সে সময় জানায়, ‘এই শরণার্থীদের জাতীয় মর্যাদা নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠছে। সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নাগরিকত্ব আইন ও বিধির আওতায় তাঁদের কেউই স্বীকৃতি পাবেন না।’
ফলে, দীর্ঘ ৪ দশক ধরে ভারতেই বসবাস করলেও, বহু শরণার্থীর ভবিষ্যৎ আজও অনিশ্চিত। নাগরিকত্ব দূরের কথা, দীর্ঘমেয়াদি ভিসা পাওয়ার সুযোগও নেই তাঁদের। অন্যদিকে, সম্প্রতি একটি ভিন্ন নির্দেশিকায়, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যাঁরা ধর্মীয় নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪-এর মধ্যে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের পাসপোর্ট বা বৈধ ট্রাভেল ডকুমেন্ট না থাকলেও দেশে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাঁদের দাবি, ‘বছরের পর বছর ধরে ভারতে বাস করেও শ্রীলঙ্কার তামিল শরণার্থীরা কেন এখনো আইনি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত! অবিলম্বে সরকারকে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
❤ Support Us








