Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ৩, ২০২৬

আদালতের নির্দেশে টাকি পর্যটন কেন্দ্রে বেআইনি হোটেল ভাঙার কাজ শুরু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আদালতের নির্দেশে টাকি পর্যটন কেন্দ্রে বেআইনি হোটেল ভাঙার কাজ শুরু

উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র টাকির ইছামতীর পাড়ে বে–‌আইনি হোটেল ভাঙার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে টাকি পর্যটন কেন্দ্রে ইছামতীর পাড়ে গড়ে ওঠা হোটেল ভাঙার কাজ শুরু হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায় । বেআইনি হোটেল ভাঙার কাজ দেখতে এলাকার মানুষ ভিড় জমান টাকি পর্যটন কেন্দ্রে। বুধবার সকাল থেকে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে বুলডোজার দিয়ে হোটেল ভাঙার কাজ শুরু করেছে টাকি পুর কর্তৃপক্ষ ও মহকুমা প্রশাসন । টাকি পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, জমির কাগজপত্র দেখে হোটেল তৈরির অনুমতি দেওয়া হলেও  তারা ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেয়নি। হোটেল দুটি নিয়ে গত ৩ বছর ধরে আদালতে মামলা চলার পর আদালতের নির্দেশ পেয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি । মহকুমা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে ইছামতী নদীর পশ্চিম পাড় জুড়ে গড়ে উঠেছে টাকি পর্যটন কেন্দ্র। সারা বছরই এই পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় জমান পর্যটকরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহিরাগত দুই ব্যবসায়ী ইছামতীর চর দখল করে বেআইনি ভাবে ২ বিলাসবহুল হোটেল তৈরি করে টাকিতে রমরমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন।

হোটেল মালিক দুজনেই তৃণমূল নেতা বলে পরিচিত। তৃণমূল জামানায় এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস ছিলনা এলাকার বাসিন্দাদের। কয়েক বছর আগে এক জন বিচারক টাকিতে বেড়াতে এসে নদীর তীর দখল করে বেআইনি নির্মান দেখে তিনি বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। বছর তিনেক ধরে মামলা চলার পর এক সপ্তাহ আগে আদালতের তরফ থেকে বোইনি নির্মান ভেঙে ফেলার জন্য পুরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ পেয়ে টাকি পুরসভার তরফ থেকে ইছামতীর পাড়ে দুটি বেআইনি হোটেল ভাঙার নোটিশ পাঠানো হয় হোটেল মালিকদের কাছে। এদিন সকালে প্রশাসনের তরফ থেকে টাকি পর্যটন কেন্দ্রে ইছামতীর চর দখল করে নির্মাণ করা টাকি সিটি গেস্ট হাউসটি ভাঙ্গার কাজ শুরু হয়। দিশা হোটেলটির পাঁচিল ভাঙ্গার কাজ হলেও হোটেলটি কয়েকদিনের মধ্যে ভাঙার কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়। এদিন সকালে টাকি পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বুলডোজার দিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধক্ষ্য সাহানুর মণ্ডলের টাকি সিটি গেস্ট হাউসটি ভাঙার কাজ চলছে।  হোটেলের কর্মীরা হোটেল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন চেয়ার, টেবিল থেকে শুরু করে এসি মেশিন গুলি। পাশেই টাকি রাজবাড়ি ঘাট সংলগ্ন দিশা হোটেলটির মালিক বসিরহাটের তৃণমূল ঘনিষ্ট  গরু মাফিয়া বারিক বিশ্বাস। দিশা হোটেলের বাইরের পাঁচিলটি এদিন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। ততক্ষনে হোটেলে থাকা সরঞ্জাম সরাতে শুরু করেছে হোটেলের কর্মীরা । বিষয়টি নিয়ে এলাকার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা ব্যানার্জি , প্রবীর রায়চৌধুরিরা বলেন, তৃণমূল জামানায় এলাকার মানুষের কথা বলার অধিকার ছিলনা  সাহানুর মণ্ডল, বারিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তাদের দাপটে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ইছামতীর তীর দখল হতে থাকে।  রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। আদালতের নির্দেশে অবৈধ নির্মান ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁরা বলেন, টাকির বাসিন্দারা আদালতের সিদ্ধান্তে খুশি। বিষয়টি নিয়ে টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখার্জি বলেন, ‘‌দিশা ও সিটি গেস্ট হাউস নিয়ে প্রায় বছর তিনেক আগে থেকেই  মামলা চলছে। একজন বিচারক টাকিতে বেড়াতে এসে ন্যশানাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড এবং হাইকোর্টে একটা মামলা দায়ের করেন । পাশাপাশি সেচ দপ্তরের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেন। সপ্তাহ খানেক আগে আমাদের কাছে উচ্চ আদালত থেকে একটা নির্দেশ আসে অবৈধ নির্মান ভেঙে দিতে হবে। বুধবার থেকে সেই নির্মান ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!