- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫
জয়পুরে মৃত পূর্বস্থলীর শ্রমিক, পরিবারের পাশে রাজ্য প্রশাসন
রাজস্থানের জয়পুরের সুভাষচক এলাকায় বাড়ি ভেঙে মৃত্যু হয়েছে পূর্বস্থলীর কাশীপুরের বাসিন্দা প্রভাত বাগদি (৩৫) ও তার মেয়ে পিউর (৫)। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল সংশ্লিষ্ট কালনা মহকুমা প্রশাসন। মহকুমাশাসক শুভম আগরওয়াল বললেন, ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকার যেসব প্রকল্প বা সুবিধার কথা ঘোষণা করেছে, মৃতদের পরিবার যাতে সেইসব সুবিধে পেতে পারে, তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ সেইসঙ্গে কালনা মহকুমা প্রশাসনের থেকে মৃতদের ময়নাতদন্ত ও আক্রান্তদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। যে বাড়িতে মৃত প্রভাতরা ভাড়া থাকতেন, সেই জরাজীর্ণ বাড়িটি ভেঙে প্রভাতের স্ত্রী সুমিত্রা, অন্য এক দম্পতি ও তাদের ২ সন্তান গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যান্য যে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা সেখানে কাজ করেন, তারাই চিকিৎসার দেখভাল করছেন। তবে জানা গেল, প্রভাত যে অলঙ্কার নির্মাণশিল্প সংস্থায় কাজ করতেন, সেই সংস্থার তরফে দেহ দুটি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
পূর্বস্থলীর কাশীপুর গ্রামটি ভাগীরথী প্যাঁচানো। হাজারের কাছাকাছি বাসিন্দার এই গ্রামের প্রায় সব পরিবারের জীবিকা কৃষিকাজ। কিন্তু ফি-বছরই ভাঙনের থাবায় বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ভাগীরথীর পেটে চলে যাওয়ায় রুটিরুজি জোটানোই সমস্যা। শঙ্কর বাগদি, সুমনা বাগদিদের কথায়, ‘তার উপর ১০০ দিনের কাজও বন্ধ। রোজকার খাবারের সংস্থানটাই সমস্যার। বাধ্য হয়েই কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে ছুটছে সবাই।’ যোগ করেন, ‘যেটুকু চাষজমি টিকে রয়েছে, সেখানে একবার ধান চাষ হয়। কেউ কেউ আনাজপাতি আর ফুলের চাষ করে। কিন্তু নদীর উপচে পড়া জলে তাও বছর বছর বরবাদ হয়ে যায়।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গ্রামের শ’তিনেক বাসিন্দা বাধ্য হয়েই ভিনরাজ্যে কাজ করতে যান। জানা গেল, হতাহতরা যে ভাঙাচোরা বাড়িটিতে থাকতেন, সেটি সারানোর জন্য বাড়ির মালিককে বারবার বলেও কোনো ফল মেলেনি। বাধ্য হয়ে অন্য একটি বাড়ি দেখেছিলেন ভাড়াটেরা। ঠিক হয়েছিল, ১০ সেপ্টেম্বর সেই বাড়িতে উঠে যাওয়া হবে। তার আগেই ঘটে গেল বিপর্যয়।
❤ Support Us






