Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ৬, ২০২৬

অনিশ্চিত ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য, কী বলছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অনিশ্চিত ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য, কী বলছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ?

ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের আবেদন এখনও বিচারাধীন। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভবিষ্যৎ আদৌ নির্ধারিত হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এই ৬০ লক্ষ মানুষের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে তা তিনি নিজেও জানেন না। বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “৬০ লক্ষ মানুষের বিষয়টা এখন অ্যাজুডিকেশনের মধ্যে রয়েছে। এটা এসআইআর গাইডলাইনের মধ্যে ছিল না। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। পরিস্থিতি এক্সট্রা অর্ডিনারি, তাই এক্সট্রা অর্ডিনারি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”

ভোট ঘোষণার সম্ভাবনা খুব শীঘ্রই থাকলেও এত বিপুল সংখ্যক আবেদন মীমাংসা না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—৬০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রেখে আদৌ কি নির্বাচন সম্ভব? এই প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক দল, যার মধ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএম।

তবে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করার ক্ষমতা তাঁর হাতে নেই। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের তারিখ আমি ঘোষণা করি না। কমিশনই সেই সিদ্ধান্ত নেয়। ৬০ লক্ষের মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকিগুলোর কী হবে, তা আমরা এখনও জানি না। কমিশন এসে সিদ্ধান্ত নেবে।”

তিনি আরও স্বীকার করেন যে এত বিপুল সংখ্যক আবেদন বিচারাধীন থাকার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। তাঁর কথায়, “এ ধরনের পরিস্থিতি আগে হয়নি। যদিও প্রতি নির্বাচনের সময় কিছু ফর্ম-৬ শেষের দিকে আসে এবং সেগুলোর সব কেস নিষ্পত্তি হয় না। নমিনেশনের শেষ দিন পর্যন্ত আবেদন করা যায়। কিন্তু এত বড় সংখ্যায় অ্যাজুডিকেশন আমি আগে দেখিনি।”

এরই মধ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বিজেপির মদতে নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে এসআইআরের নামে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিচ্ছে। তবে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আমরা এখন খুব ব্যস্ত। এখন ধরে ধরে শাস্তি দেওয়ার মতো সময় নেই। ডিইও-দের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে আইনি পথেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে আগামী ৯ ও ১০ মার্চ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হবে। কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী, রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

এই বৈঠকের পরেই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তবে তার আগে ৬০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই প্রশ্ন এখনও অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!