Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫

স্বাধীনতা যোদ্ধা রাসবিহারীর ঘোষের বেদখল ভিটে উদ্ধার, সংস্কারের উদ্যোগ রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
স্বাধীনতা যোদ্ধা রাসবিহারীর ঘোষের বেদখল ভিটে উদ্ধার, সংস্কারের উদ্যোগ রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের

প্রবাদপ্রতিম স্বাধীনতা যোদ্ধা বীর বিপ্লবী রাসবিহারী ঘোষের ভিটে সংস্কার ও সংরক্ষণে আর কোনো বাধা রইল না। জবরদখলের থাবা এড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য সরকারকে হস্তান্তরিত করা হল। পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ থানার তেরকোনা গ্রামে ১৮৪৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এই বিপ্লবী। স্যর রাসবিহারী ঘোষ স্মৃতিরক্ষা কমিটির তরফে পঞ্চানন দত্ত ২৩ শতক জমির দানপত্র পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ-র হাতে তুলে দিলেন। জেলাশাসক বললেন, ‘ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রাসবিহারীর কাছারি বাড়ি সংস্কার করা হবে। একটি সংরক্ষণশালা গড়া হবে।

রাসবিহারীর কর্মকাণ্ডকে আমজনতার সামনে তুলে ধরাই উদ্দেশ্য।’ সরকার এই জমি গ্রহণ করায় সন্তোষ প্রকাশ করলেন খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ। তাঁর কথায়, ‘বিধানসভায় ভিটে সংস্কারের দাবি তুলেছিলাম। পর্যটন দপ্তরেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। দাবি পূরণ হওয়ায় ভাল লাগছে।’ জমি হস্তান্তর পর্বে হাজির পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাসের মন্তব্য, ‘ইতিহাস ও শিকড়ের টানে সাড়া দেওয়ার ঘটনা। এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। গবেষকদের সুবিধা হবে।’

ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেল, স্বাধীনতা সংগ্রামের শরিক হওয়ার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রাসবিহারীর। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, জলাশয় খনন করেছিলেন তিনি। দুর্গাপুজোরও সূচনা করেন। কিন্তু কয়েকবছর ধরে দেখা যাচ্ছিল সংস্কারের অভাবে রাসবিহারীর কাছারি বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত। বিশাল জমি বেহাত হয়ে যাচ্ছে। ভিটে ও কাছারি বাড়ি অসামাজিক কাজকর্মের আখড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, রাসবিহারী ঘোষের উত্তরসূরিরা এই জমি স্মৃতিরক্ষা কমিটির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কমিটির সম্পাদক অরবিন্দ বসু-সহ এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষজনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, রাজ্য সরকার জমি নিয়ে সংস্কার করুক। সংগ্রহশালা ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলুক। দাবির সমর্থনে অনশন কর্মসূচিও পালিত হয়। দাবি খতিয়ে দেখতে কিছুদিন আগে তেরকোনা গ্রামে যান জেলাশাসক আয়েশা রানি এ। ভগ্নদশা দেখে হেরিটেজ কমিশন ও পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল তেরকোনা গ্রাম ঘুরে যান। শেষ পর্যন্ত দাবির সমর্থনে রাজ্য সরকারের ইতিবাচক সাড়ায় শারদোৎসবের আগেই উৎসবের চেহারা রাসবিহারীর জন্মস্থান তেরকোনা গ্রামে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!