- গ | ল্প রোব-e-বর্ণ
- জুন ১৯, ২০২২
শীতের ডাইরি
মাদাম ক্রিস্টিনা শৈশব কেমন ছিল ? শীতল সম্পর্কে কোনও উষ্ণতা খুঁজেছিলেন কি তিনি ?
অলঙ্করণ: দেব সরকার
সেই সময়ে তার শীত করছিল? ঠিক সেই মুহুরততায়? স্থাবর-অস্থাবর জমিগুলি পাশাপাশিই সহাবস্থানে। চিহ্নিত এলাকা পরস্পরকে প্রতিবেশীই জেনেছে। হাটে দেখা হয়, কথাও।
জমি মাপতে এলে ওদের বুকে ডঙ্কা বাজে। নির্জনতায় দীক্ষিত হচ্ছে ওদের পাঠক্রম। ব্ল্যাকবোর্ডে সোরগোল আঁকা যায় না। আঁকা যায় না সম্ভোগের অপমান। অতএব সতীর্থরা উপলব্ধ শিক্ষায় মৌনতা অবলম্বন কর। এখন এক মিনিট নীরবতারও ছবি তোলা হয়।
মাদাম ক্রিস্টিনা শৈশব কেমন ছিল ? শীতল সম্পর্কে কোনও উষ্ণতা খুঁজেছিলেন কি তিনি ? খুব শীতে বিড়ালছানাগুলোর ঘাড়ে আলতো কামড় দিয়ে মা- বিড়াল প্যাকিং বাক্সের গুদামে লুকিয়ে রাখছিল। সেখানে শীত পৌঁছায়নি তখনও।
এই বাঁচিয়ে রাখা, এই লালন পালন—উলের গোলা নিয়ে লোফালুফির বিজ্ঞাপন আমাদের কোন্ উন্নততর জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ! একযুগ ধরে রাতের আকাশ ভুলে গেছি আমরা। যখন ভোরের আজান পৌঁছে যায় সব ঘুমের দরজায়, আঞ্জু বানু বসে থাকে জয়পুরের স্টেশনে। ভোর কথা বলতে চাইলেও তার অন্যমনস্কতা নিখোঁজ মানুষটাকে পরিহাসের দীর্ঘ কবিতাটি তুলে দিয়ে দায়মুক্ত হবে। সমস্ত রক্তপাতই অনুবাদ হয়ে গেছে। সব ভুমিকম্প অধ্যুষিত আবক্ষ মূর্তি মূর্তি উন্মোচনের উদ্বোধনী সঙ্গীতও। অনুষ্ঠানসূচী থেকে বাদ গেছে যারা, তারা বলছে –‘ আমি বলব’ ‘আমি বলব’ …………মাদাম ক্রিস্টিনা বলছেন, ধীরে ধীরে – একে একে …………

অলঙ্করণ: দেব সরকার
অথচ আজ তার শীত করছে। তার এত শীত করছে যে – সেই তুষার প্রত্যঙ্গে মৃত সন্ন্যাসের কোনও যুতসই অজুহাত নেই । হয়ত অনেকেই প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান লিখতে গিয়ে থেমে গিয়েছে। সেই ট্রমা, সেই অতর্কিত গেরিলাবাহিনি – ন্যক্কারজনকভাবে বেআব্রু করেছে উত্তরাঞ্চল,মধ্য প্রদেশ অথবা দাক্ষিণাত্য। গাঢ় অন্ধকারও তাকে আশ্রয় দিতে পারেনি। তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সব নালিশ গুলো সংযমের কান্নাকে বোঝাতে চেষ্টা করেছে সময়ের চাকা ক্রমশ মলিন করে দেবে কাঞ্চনজঙ্ঘার রক্তস্রোত অথবা জমাট হয়ে থাকবে বক্ষসন্ধির কালশিটের মত।
ওরা হুল্লোড় করে আসে, ঘোষণা করতে করতে ফিরে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা শহিদ বেদীতে ঝড় জল সহ্য করে। সহনশীলতার পাঠ অর্জন করেছে বলেই। মাদাম ক্রিস্টিনা এখন কোথায় ? কোন ঘেরাটোপে, কোন অজ্ঞাতবাসে ? সে দেশে কি স্লেজগাড়ি চেপে ত্রাণ পৌঁছায়, সে দেশের সূর্য কী প্রথম কিরণের রশ্মিতেও সংযত? কারণ প্রকৃতিই প্রকৃতির নিয়ামক। প্রকৃতিই সীমালঙ্ঘনের স্পর্ধার পরাকাষ্ঠা। যখন একটা জানলাকেও বিশ্বাস করা যায় না, দরজাকেও না অথবা বিশ্রামের বিছানাকেও না তখন অপারেশন থিয়েটারে গ্লাভস্ পরা হাতদুটিকে অবিশ্বাস করতে শুরু করে মুমূর্ষু। অনেককিছুই তো ঘুমের মধ্যে ঘটে যায়। তখন যুগল ফটোফ্রেমকে আছাড় মেরে ভেঙ্গে ফেলতে এক মুহূর্তও লাগে না।
♦–♦♦–♦♦–♦
লেখক পরিচিতি: কলকাতার বাসিন্দা।
গল্পের সমস্ত চরিত্র এবং ঘটনা কাল্পনিক । বাস্তবের সাথে এর কোন মিল নেই, কেউ যদি মিল খুঁজে পান তাহলে তা অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয় ।
❤ Support Us








