Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ১০, ২০২৫

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকা, আতঙ্কে রাস্তায় দিল্লিবাসী। হরিয়ানায় ৪.৪ মাত্রার কম্পন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকা, আতঙ্কে রাস্তায় দিল্লিবাসী। হরিয়ানায় ৪.৪ মাত্রার কম্পন

সকাল ৯টা। দেশের রাজধানী ধীরে ধীরে সজাগ হচ্ছে ব্যস্ততায়। আচমকা কেঁপে উঠল দিল্লি-এনসিআর ও সংলগ্ন এলাকা। ভূমিকম্প! রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৪.৪। উৎসস্থল দিল্লি থেকে প্রায় ৬০ কিমি দূরে হরিয়ানার ঝজ্জর, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিমি গভীরে, এমনটাই জানিয়েছে জাতীয় ভূ-সমীক্ষা পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু আতঙ্ক আর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লি জুড়ে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে কম্পনের একাধিক ভিডিও। তাতে দেখা যাচ্ছে দিল্লি-এনসিআর-এর বহু এলাকায় বাড়িঘর দুলে উঠেছে। ঝুলন্ত পাখা দুলেছে দুলকি চালে। কোথাও আবার আলমারির দরজাও খুলে গিয়েছে কম্পনের জেরে। নয়ডা, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ— কাঁপন ছড়িয়েছে সব দিকেই। স্থানীয়রা দৌড়ে বেরিয়ে এসেছেন রাস্তায়। অফিসে, শপিং মলে, এমনকি চলন্ত গাড়িতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। জাতীয় ভূসমীক্ষা কেন্দ্র-এর তরফে জানানো হয়েছে, হরিয়ানার ঝজ্জরের উৎপত্তি এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। যদিও কম্পনের মাত্রা তুলনায় কম, কিন্তু এর স্থায়িত্ব বেশ খানিকক্ষণ হওয়ায় আতঙ্কের মেঘ জমেছে নাগরিকদের মনে। কেউ বলছেন, ‘জীবনে এত দীর্ঘ ভূকম্পন কখনও টের পাইনি।’ কারোর অভিজ্ঞতা, ‘দোকানে বসেছিলাম, হঠাৎ মনে হল কেউ গোটা দোকানটা নাড়িয়ে দিল।’

শুধু রাজধানী নয়, হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রোহতক, দাদরি, বহাদুরগড়-সহ পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মেরঠ ও শামলিতেও কম্পন টের পাওয়া গিয়েছে। দিল্লি থেকে প্রায় ২০০ কিমি দূরের এই শহরগুলিতে আতঙ্কে রাস্তায় নেমে এসেছেন বহু মানুষ। ভূমিকম্পের পরপরই সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের সময় লিফট নয়, ব্যবহার করতে হবে সিঁড়ি। গাড়িতে থাকলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়তে হবে খোলা জায়গায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিল্লি এমন ভূমিকম্পে অভ্যস্ত। কারণ? রাজধানী সিসমিক জোন-৪এ অর্থাৎ প্রবল ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার মধ্যে অবস্থিত। দিল্লি-হারিদ্বার রিজ, সোহনা ফল্ট, দিল্লি-মোরাদাবাদ ফল্ট ও মহেন্দ্রগড়-দেরাদুন ফল্ট-সহ রয়েছে একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইন। পাশাপাশি, হিমালয়ের নিকটবর্তী অবস্থানও এ অঞ্চলে ভূ-কম্পনের প্রবণতা বাড়ায়। দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষে জমে থাকা শক্তি হঠাৎই নির্গত হয়। সে কারণেই এখানে লাগাতার ভূমিকম্প হয়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’ ১৯৯৩ থেকে ২০২৫— এই দীর্ঘ সময়ে শুধু ঢৌলা কুয়ানের ৫০ কিমির মধ্যে রেকর্ড হয়েছে ৪৪৬টি ভূমিকম্প। ফেব্রুয়ারি মাসেও ৪.০ মাত্রার কম্পন কাঁপিয়ে দিয়েছিল দিল্লিকে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!