- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১২, ২০২৫
ওবিসি মামলায় জয়েন্টের ফলপ্রকাশে সাময়িক ছাড় সুপ্রিম কোর্টের, দ্রুত ফল প্রকাশের সম্ভাবনা!
ওবিসি সংরক্ষণে হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করেও এখনই স্বস্তি মিলল না রাজ্যের। দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আপাতত জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডকে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই ফলাফল প্রকাশ করতে হবে অর্থাৎ পুরনো ওবিসি তালিকা অনুযায়ী। জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে, ডব্লিউবিজেইই সহ একাধিক প্রবেশিকা পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে তৈরি বিতর্কের নিস্পত্তি এখনো হয়নি। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। ততদিন বহাল থাকবে বিচারপতি কৌশিক চন্দের দেওয়া নির্দেশ।
গত ৭ আগস্ট জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু ওবিসি সংরক্ষণে নতুন তালিকা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে শেষ মুহূর্তে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের নির্দেশে জানানো হয়, ২০১০ সালের পরে রাজ্য সরকার যেসব জনগোষ্ঠীকে ওবিসি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, সে তালিকার ভিত্তিতে কোনও মেধাতালিকা প্রকাশ করা যাবে না। বিচারপতির বক্তব্য, মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হলে তা করতে হবে ২০১০ সালের আগের ৬৬টি স্বীকৃত ওবিসি গোষ্ঠীর তালিকা মেনেই। পাশাপাশি, সংরক্ষণ রাখতে হবে আগের মতোই অর্থাৎ ৭ শতাংশ।
সুপ্রিম কোর্টে এদিন রাজ্যের তরফে জানানো হয়, হাইকোর্টের নির্দেশের জেরে জয়েন্ট বোর্ড সহ রাজ্যের একাধিক প্রবেশিকা পরীক্ষার ফলপ্রকাশ আটকে রয়েছে। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। সে কারণে দ্রুত শুনানির অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রধান বিচারপতির কাছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মামলাটি তালিকা থেকে বাদ যাবে না। নির্ধারিত দিনেই শুনানি হবে। ফলে হাইকোর্টের রায়ই পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত কার্যকর থাকছে। সে মোতাবেক, হাইকোর্টের যাবতীয় নির্দেশ ম্যানে জয়েন্ট বোর্ডকে ১৫ দিনের মধ্যে নতুন মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, ২০১০ সালের পরে রাজ্য সরকার যেসব গোষ্ঠীকে ওবিসি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেসব শংসাপত্র বৈধ নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, কোনো সম্প্রদায়কে ‘ওবিসি তকমা’ দিতে গেলে, তার আগে সামাজিক, আর্থিক ও পেশাগত সমীক্ষা প্রয়োজন। তা ছাড়া শংসাপত্রের বৈধতা থাকবে না।ফলে বাতিল হয়ে যায় ২০১০-এর পরে ইস্যু হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র। হাইকোর্টের নির্দেশ, শুধুমাত্র ২০১০-এর আগে স্বীকৃত ৬৬টি সম্প্রদায়-ই ওবিসি হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা পাবে। সে রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। যদিও আপাতত মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে এক মাস।
সরকারি আইনজীবীদের মতে, রাজ্য আলাদা করে আবার জয়েন্ট মামলার দ্রুত শুনানির দাবি জানাতে পারে। কারণ, প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলির ফল প্রকাশ নিয়ে যত দ্রুত সিদ্ধান্ত হবে, তত দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। না হলে পিছিয়ে যাবে গোটা শিক্ষা বর্ষ। আগস্টের মধ্যে ফল না প্রকাশ হলে ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং, প্যারামেডিক্যাল-সহ একাধিক কোর্সে ভর্তি নিয়ে ফের জট তৈরি হতে পারে, আশঙ্কা ছাত্রছাত্রীদের।
❤ Support Us








