Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৫

উপাসনাস্থলের চরিত্র বদল নিয়ে নতুন মামলা নিতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট । ‘অনেক হয়েছে, এর একটা শেষ থাকা উচিৎ’, মন্তব্য প্রধান বিচারপতির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উপাসনাস্থলের চরিত্র বদল নিয়ে নতুন মামলা নিতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট । ‘অনেক হয়েছে, এর একটা শেষ থাকা উচিৎ’, মন্তব্য প্রধান বিচারপতির

উপাসনাস্থল আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের শুনানিতে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘অনেক হয়েছে, এর একটা শেষ থাকা উচিৎ।’

উপাসনাস্থল আইন ১৯৯১, নিয়ে একের পর মামলায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না । কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘অনেক হয়েছে, এর একটা শেষ থাকা উচিৎ।’ সোমবার ডিভিশন বেঞ্চ, উপাসনাস্থল আইন ১৯৯১-এর সাংবিধানিক বৈধতা সম্পর্কিত মামলায় নতুন কোনো আবেদনের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। যদিও শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি পিভি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ অতিরিক্ত যুক্তি দিয়ে হস্তক্ষেপমূলক পিটিশন দায়েরের অনুমতি দিয়েছে, তবে ইতিমধ্যে দায়ের করা নতুন পিটিশনগুলির ক্ষেত্রে এখন নোটিশ জারি হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।

১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন অনুযায়ী, কোনো মন্দির-মসজিদ- গির্জার বা উপাসনাক্ষেত্রের চরিত্র পাল্টানো যাবে না। রাম জন্মভূমি ও বাবরি মসজিদ বিবাদের সময় এই আইনটি পাশ করা হয়েছিল। আইনে বলা হয়েছে ১৯৪৭-এ স্বাধীনতার সময় যেখানে যা ছিল, তেমনটাই রাখতে হবে। কিন্তু এই আইনে বদল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। মামলাকারীদের তরফে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২৬ অনুযায়ী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে আদালতের কাছে তাঁদের ক্ষোভ জানাতে পারছেন না। ওই আইনের জন্য ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের আগে ‘দখলীকৃত’ হিন্দু ধর্মস্থানের ধর্মীয় চরিত্র পুনরুদ্ধার করা যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন মামলাকারীরা। প্লেসেস অব ওয়ারশিপ অ্যাক্টের বৈধতা নিয়ে চলতে থাকা মামলাগুলোর মধ্যেই সুপ্রিমকোর্টের আজকের এই কড়া মন্তব্য, ‘ধ্বংস হয়ে যাওয়া হিন্দু মন্দির’ পুনরুদ্ধারের আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ন হয়ে উঠেছে।

উপাসনাক্ষেত্র আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যারা মামলা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য ও অন্যতম মুখপাত্র অশ্বিনী কুমার মুখপাত্র। তাঁর বক্তব্য হল ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমতার মতো সংবিধান স্বীকৃত বিষয়গুলির বিপক্ষে যায় এই আইনটি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হিন্দুরাই এই আইনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কিন্তু গত বছর শীর্ষ আদালত ১০ টি মসজিদে মন্দির পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ১৮ টি মামলা স্থগিত করে দেয়। স্থাপনাগুলির মধ্যে যেমন রয়েছে কাশীর জ্ঞানবাপী মসজিদ, মথুরার শাহী ইদগাহ আর সম্ভলের জামা মসজিদ, তেমনই অতি সম্প্রতি আজমির শরিফের দরগাহ নিয়েও মামলা দায়ের হয়েছে। নিম্ন আদালতগুলির সার্ভের নির্দেশকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে অন্তত চারজন বিক্ষোভকারী নিহত হন।

অন্যদিকে, কংগ্রেস, সিপিআই (এমএল), জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদ-উল- মুসলিমীন বা এআইএমআইএম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা রক্ষা করতে ও উপাধ্যায়ের আবেদনের বিরুদ্ধে মামলা লড়ছে। সিনিয়র অ্যাডভোকেট দুষ্যন্ত দাভে শীর্ষ আদালতে বলেন, আদালতের আর কোনো হস্তক্ষেপের অনুমতি দেওয়া উচিত নয় । ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর এই বক্তব্যের পরেই মন্তব্য করেন, ‘এই মামলায় নতুন হস্তক্ষেপের আবেদনের অনুমতি দেওয়া হবে না, ব্যতিক্রম যদি তাতে এমন কোনো যুক্তি থাকে যা আগে তোলা হয়নি’। এপ্রিল প্রথম সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!