- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২২, ২০২৫
রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে সুপ্রিম স্থগিতাদেশ। জট কাটিয়ে আজই প্রকাশ হতে পারে ফল
রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জট অবশেষে কিছুটা কাটল। কলকাতা হাই কোর্টের একক বেঞ্চের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে ডব্লিউবিজেইই-২০২৫-এর ফল প্রকাশে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। স্বস্তির পরিবেশ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারে। উচ্চ শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর আজই প্রকাশিত হতে পারে রাজ্য জয়েন্টের ফলাফল।
শুক্রবার, ২২ আগস্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি বিআর গবইয়ের বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ের উপর স্থগিতাদশ দিয়েছেন। ফলে ফলাফল প্রকাশ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। রাজ্য বোর্ডের প্রথম ঘোষণা অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফল। কিন্তু ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত আইনি বিতর্কে তা পিছিয়ে যায়। হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ জানায়, ২০১০ সালের আগে স্বীকৃত ৬৬টি ওবিসি সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি, যাঁদের ওবিসি শংসাপত্র ২০১০ সালের পরে ইস্যু হয়েছে, তাঁদের মেধাতালিকায় রাখা যাবে না। এমনকি বাতিল করে দেওয়া হয় আগে তৈরি হওয়া মেধাতালিকাও। এ নির্দেশে ফলে রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দাবি করা হয়, হাইকোর্টের নির্দেশ স্বতঃপ্রণোদিত এবং সীমা লঙ্ঘনকারী। রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘একক বেঞ্চ এমন নির্দেশ কীভাবে দিতে পারে? এটা অভাবনীয়!’ এদিনের শুনানিতে বিচারপতিরা জানান, সুপ্রিম কোর্টে ওবিসি সংক্রান্ত যে মামলাটি বিচারাধীন, তার সঙ্গেই এই জয়েন্ট এন্ট্রান্স মামলাটি যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য রাখা হয়েছে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। কিন্তু তার আগেই লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যাতে অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে, সেই কারণেই হাইকোর্টের রায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ আদালত। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা তো ওবিসি সংক্রান্ত রায়ের উপরে আগেই স্থগিতাদেশ দিয়েছি। জয়েন্টের ফলপ্রকাশ আটকে রাখার আর কোনো কারণ নেই।’ এরপর আদালত জানায়, ডব্লিউবিজেইই বোর্ড এখন ফলপ্রকাশ করতে পারে।
সুপ্রিম নির্দেশ আসামাত্র উচ্চশিক্ষা দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ‘যে মেধাতালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সেটিই প্রকাশ করা হবে। কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু করা হবে।’ বোর্ড সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতের মধ্যেই ফল প্রকাশ হতে পারে। মেডিক্যাল ভর্তি সংক্রান্ত জটও এর ফলে কাটতে চলেছে। প্রসঙ্গত, ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে এই বিতর্কে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছিল। একপক্ষ দাবি করেছিল, রাজ্য সরকার অবৈধভাবে ওবিসি শংসাপত্র দিচ্ছে, অপরপক্ষ বলেছিল, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করছে। শীর্ষ আদালতের এদিনের রায়ে স্বস্তিতে শিক্ষামহলও। তাঁদের মতে, ‘সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত যথার্থ। বিচারাধীন ওবিসি মামলার নিষ্পত্তির আগেই মেধাতালিকা বাতিল এবং নতুন তালিকা তৈরির নির্দেশ অসংবেদনশীল ছিল। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ও তাঁদের ভবিষ্যৎ এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।’ তবে, এ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো বাকি। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শীর্ষ আদালতে পরবর্তী শুনানি। তার আগে জয়েন্ট এন্ট্রান্স সহ অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষার ফলপ্রকাশ এবং ভর্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে রাজ্য।
অন্যদিকে, আজ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ যৌথ প্রবেশিকা পরীক্ষার বোর্ডকে একটি নতুন মেধা তালিকা প্রস্তুত করার জন্য একক বিচারপতির নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। এ নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর অন্তর্ভুক্ত কিছু ওবিসি সম্প্রদায়কে তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এদিন, বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দা দে-র ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন থাকায় এখনই হস্তক্ষেপ করবেন না। ওবিসি সার্টিফিকেট সংক্রান্ত একটি সম্পর্কিত মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে ৯ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে, এবং হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২ সেপ্টেম্বর শুনানি পুনরায় শুরু করতে পারে।
❤ Support Us








