- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৪, ২০২৫
লক্ষ্য ২০২৬। রাজ্যের প্রতি ব্লকে এবার বিজয়া সম্মিলনী তৃণমূলের
রবিবার থেকে তৃণমূলের তরফে রাজ্যের সমস্ত ব্লকে বিজয়া সম্মিলনী করার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আগামী রবিবার থেকে তৃণমূলের তরফে রাজ্যের সমস্ত ব্লকে বিজয়া সম্মিলনী করার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দুর্গোৎসব ও বিজয়া সম্মিলনীকে জনসংযোগের কাজে লাগিয়ে নিজেদের মানুষের আরও কাছে নিয়ে যেতেই তৃণমূলের এই বিশেষ উদ্যোগ বলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে উৎসবের মেজাজের মধ্যেও বাংলার রাজনীতিতে উত্তেজনা অব্যাহত। দশমীর বিসর্জনের দিনেই ডিভিসির জলছাড়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডিভিসি-র বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। কিছুদিন আগে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই একই ইস্যুতে ডিভিসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে টুইট করেছিলেন। এবার সেই সুরে সুর মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে একহাত নিলেন।
দুর্গাপুজোর পর বিজয়ার দিনে, রাজ্যে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বন্যার আশঙ্কার মধ্যে ডিভিসি ৬৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়াকে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “দশমী পেরোনোর আগেই বাংলায় জলে ডুবিয়ে দেওয়ার ছক কষেছে বিজেপি। এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটা একটি পরিকল্পিত, মানুষের সৃষ্ট (ম্যান-মেড) বন্যা। ডিভিসিকে হাতিয়ার করেই এই কাজ করানো হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভও এই বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি টুইট করে লিখেছেন, “বিজয়ার সময় বাংলাকে না জানিয়ে ডিভিসি নতুন করে ৬৫ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।” আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুজোর সময় থেকেই রাজ্যে সক্রিয় রয়েছে ঘূর্ণাবর্ত, যার কারণে আগামী সাতদিন ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত জল ছাড়লে জলস্তর দ্রুত বাড়বে, ফলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছেন, “ওরা চায় বাংলার পুজোর আনন্দে জল ঢালতে। ওরা চায় বাংলার বিসর্জন হোক। কিন্তু বাংলার বিসর্জন হবে না, বরং বিসর্জন হবে বিজেপির। ২০২৬-এ নির্বাচনের সময় বাংলায় বিজেপির যত আবর্জনা পড়ে থাকবে, মানুষ সেগুলো নির্মূল করে দেবে।”
অভিষেক আরও বলেন, “প্রতি বছর একই কৌশল, পুজোর মরশুমে ডিভিসির জল ছাড়িয়ে পরিকল্পিত বন্যা তৈরি করা হয়। এতে মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়, আর তার পেছনে থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। কারণ, বাংলার মানুষ বিজেপিকে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই রাগ থেকেই এই জলছাড়া।” তিনি ২০২৪ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “২০২৪-এর মতো, ২০২৬-এও বিজেপি ও দিল্লির জমিদারদের বাংলার মানুষ চিরতরে বিদায় জানাবে।”
তৃণমূল ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, পুজোর আনন্দ শেষ হওয়ার পর ডিভিসির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন শুরু হবে। দলীয় সূত্রে খবর, ডিভিসির দফতর ঘেরাও করে দিন-রাত অবস্থান বিক্ষোভের কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে।
অর্থাৎ, দুর্গাপুজোর উৎসব শেষ হলেও বাংলার রাজনীতির আকাশে উত্তাপ কমছে না। উৎসবের রঙ মুছে গিয়ে ফের তুঙ্গে উঠছে শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্ব, এবং এবার মূল বিষয় ‘জল’।
❤ Support Us







