- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৫
বিধাননগরে ‘বেকার মেলা’ আয়োজনে চাকরীপ্রার্থীদের অভিনব প্রতিবাদ। কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের রিপোর্টে বিভ্রান্তিকর তথ্য, কর্মসংস্থানের লক্ষে কী কর্মসূচি কেন্দ্রের ? বেকারত্ব নিয়ে রাজ্যসভায় বিরোধী প্রশ্নের মুখে মোদি সরকার
সল্টলেক মিলনমেলা প্রাঙ্গনে সদ্য শেষ হয়েছে মহানগরের মায়াময় বইমেলা। ধুলো ওড়া মাঠে পড়ে আছে বহু প্রকাশনা সংস্থার কঙ্কাল। অদূরে বাস্তবের কঠিন মাটিতে দাঁড়িয়ে ২০২২ প্রাথমিক টেট পাশ ঐক্যমঞ্চ-এর চাকরীপ্রার্থীরা শুরু করেছেন ‘বেকার মেলা’। চপ, ঝালমুড়ি থেকে ঘুগনি বেচে প্রতিবাদ জানান ‘শিক্ষিত বেকারেরা’। বিকাশ ভবন সংলগ্ন ইন্দিরা ভবনের সামনে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে অভিনব এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছেন তাঁরা।
প্রতিবাদে মুখর চত্বরে প্রতিবাদী এক চাকরিপ্রার্থী, দুঃসহ যন্ত্রণা মেশানো কণ্ঠে বলেছেন— বয়স বাড়ছে, ডিপ্রেশন বাড়ছে। সত্যিই আর পারছি না। ঘুগনি, মুড়ি, চা নিয়ে বসেছি আমরা… সরকারকে দেখিয়ে দিতে চাই আমাদের স্কুলে থাকার জায়গায় ওনারা আমাদের এভাবে পথে নামতে বাধ্য করেছেন। বইমেলা শেষ, এবার রাজ্যের অগুনতি শিক্ষিত বেকারের স্বপ্ন, লড়াইয়ের স্পৃহা বাঁচিয়ে রাখতে আজ এই ‘বেকার মেলা’।
২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ পত্র দেওয়া হয় নি। এদিকে রাজ্যের প্রাথমিকে বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার শিক্ষকের পদ খালি পড়ে রয়েছে। শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি, অথচ রাজ্যসরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। একাধিক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ। হাই-কোর্ট ও শীর্ষ আদালতে চলছে মামলা। চাতকের মতো বসে আছেন হবু শিক্ষক-শিক্ষিকারা। দ্রুত সমস্ত শূন্যপদে নিয়োগের দাবিতেই এমন অভিনব প্রতিবাদের রাস্তা বেছে নিয়েছেন চাকরীপ্রার্থীরা। তাঁরা বলেছেন, ‘বিভিন্ন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, তাঁর হাতে দশ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে। অথচ বাংলার যোগ্য ছেলেমেয়েরা কাজ না পেয়ে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, গোটা দেশে বেকারত্ব লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। যদিও কেন্দ্রীয় তথ্যে অন্য কথা, এই মূহুর্তে দেশে বেকারত্বের হার ৩.২ শতাংশ। অর্থনীতির অর্থনীতির মাপকাঠিতে ৫ শতাংশের নীচে বেকারত্বের হার থাকলে কর্মক্ষেত্রে উন্নতির অবস্থা হিসাবে ধরা হয়। তবে দেশজুড়ে এমন বেকারত্বের ছবি কেন, সংসদে বাজেট অধিবেশন চলাকালীন প্রশ্ন তুললেছেন কংগ্রেসের সাংসদ, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চিদাম্বরম । কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, এই মূহুর্তে দেশে গ্র্যাজুয়েট বেকারত্বের হার ৮৬ লক্ষ, দেশে যদি সত্যিই বেকারের হার ৩.২ শতাংশের নিচে হয় তাহলে চারিদিকে এত হতাশা, চাকরির জন্য এত কাতরতা কেন? তিনি বলেন, পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে রিপোর্ট অনুসারে দেশে যুবাদের বেকারত্বের হার ১০.২ শতাংশ, অন্যদিকে স্নাতকদের বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশ, তাহলে কিসের নিরিখে সরকারি পরিসংখ্যানে দেশে বেকারত্বের হার ৩.২ শতাংশ দেখানো হয়েছে! কনো একটি কাজের জন্য লক্ষ লক্ষ চাকরিপার্থীরা আবেদন করছেন, সাম্প্রতিক অর্থনীতি গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে এই মূহুর্তে ৭৮.৫ লক্ষ চাকরি প্রয়োজন ২০৩০ সাল পর্যন্ত। কীভাবে এমন ভয়াবহ অবস্থার সমাধান করবে সরকার? সে বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাঁরা?
গতবছর মাধ্যমিক বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে এমন যুব অংশের ৬৫.৭ শতাংশ কর্মহীন রয়েছে এমন রিপোর্ট পেশ করেছিল আম্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন বা আইএলও। আইএলও এবং ইন্সটিটিউট অফ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট বা আইএইচডি যৌথভাবে এই সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, মাধ্যমিক বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্নদের ৩৫.২ শতাংশ বেকার ছিল ২০০০ সালে। ২০২২ সালে এমন যুবদের হার বেড়ে হয়েছে ৬৫.৭ শতাংশ। প্রায় দ্বিগুণ! শিক্ষিত বেকারের এমন দৃশ্য প্রশ্ন তোলে ‘নতুন ভারত’ বা ‘বিকশিত ভারত’-র মতো স্লোগানকে। সমীক্ষা আরো জানাচ্ছে, ভারতে কর্মহীনদের ৮৩ শতাংশই যুব, মানে বয়স চল্লিশের কম। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, প্রাথমিকের স্তরের পরে শিক্ষাক্ষেত্রেও বেড়েছে ড্রপ আউটের সংখ্যা। যে রাজ্যগুলিতে দারিদ্র প্রকট, সেখানে মাঝপথে পড়া ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতাও বেশি। একইভাবে আর্থসামাজিক ভাবে পিছিয়ে থাকা অংশের মধ্যেও আশঙ্কাজনক হারে ড্রপ-আউটের সংখ্যা বেড়েছে। রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা গিয়েছে, কোভিড এবং তার পরবর্তী সময়ে শিক্ষিত যুবদের মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে দেশে মূল্যবৃদ্ধি বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। ২০১৯ সালের পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে, অধিকাংশ অদক্ষ ও অস্থায়ী শ্রমিক ন্যূনতম মজুরির থেকে কম টাকা আয় করেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ওডিশা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং ঝাড়খন্ডের মত রাজ্যগুলিতে বেকারত্বের মাত্রা বাকি দেশের থেকে বেশি। এই রাজ্যগুলিতে শ্রমিকের মজুরিও যথেষ্ট কম।
❤ Support Us







