Advertisement
  • খাস-কলম
  • এপ্রিল ২০, ২০২৩

কমছে ইফতার পার্টির রাজনৈতিক গুরুত্ব। প্রায় সব দল কৌশলে এড়িয়ে গেল সাড়ম্বর আয়োজন। সামাজিক সৌজন্য বজায় রাখল মমতার তৃণমূল

'তোষণবাদ'-কে আলবিদা অখিলেশ যাদবের। সংশয়ে পথহারা কংগ্রেস ও বহুজন।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কমছে ইফতার পার্টির রাজনৈতিক গুরুত্ব। প্রায় সব দল কৌশলে এড়িয়ে গেল সাড়ম্বর আয়োজন। সামাজিক সৌজন্য বজায় রাখল মমতার তৃণমূল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্কের একান্ত বিশ্লেষণ: ইফতার পার্টির রাজনৈতিক গুরুত্ব কমছে। সমাজবাদী পার্টি থেকে বিজেপি, বহুজন, জনতা দল, কংগ্রেস সর্বভারতীয় বা আঞ্চলিক কোনো দলই এবার ইফতারের আয়োজন করেনি। ব্যতিক্রম একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে, দলের সদর দফতরে ইফতারের ব্যবস্থা করা না হলেও দলের বিধায়ক ও মন্ত্রীরা রমজানের উপবাস-ভঙ্গের সামাজিক আয়োজন থেকে বিরত থাকেননি। ফিরহাদ হাকিম, সুজিত বসু, তাপস চ্যাটার্জি ও অন্যান্যরা মিলনের মহিমাকে উঁচিয়ে ধরেছেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রীও কোথাও কোথাও যোগ দিয়েছেন। এসব আয়োজন আর তাতে নির্বিশেষের অংশগ্রহণের সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই। এও আরেক, অখণ্ড সমাজের আন্তরিক সৌজন্য আর স্বতঃস্ফূর্ত সৌহার্দ্যের মনোহর লক্ষণ। বাংলা এই অভিমুখকে গুরুত্ব দেয়।

ইফতার পার্টির রাজনৈতিক ইতিহাসের সূচনা অবিভক্ত ভারতে। মুসলিম লিগের উদ্যোগে। কিন্তু মহম্মদ আলি জিন্নাহর এই ধরনের পার্টিতে অংশগ্রহণের তথ্য-প্রমাণ দুষ্প্রাপ্য। চৌধুরী খালিকুজ্জমান, নাজিম উদ্দিন লিগের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন প্রাদেশিক নেতারা তাঁদের রাজনৈতিক স্বার্থে ইফতার পার্টির পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। দেশভাগের পর, ওই রেওয়াজ থমকে যায়। নেহেরু, ইন্দিরা,লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, মোরারজি দেশাই-র জমানা পর্যন্ত ইফতার পার্টি রাজনীতির বাইরে ছিটকে পড়ে। রাজীবের আমলে পরিত্যক্ত আয়োজন আবার ফিরে আসে। শাহবানু মামলার রায়কে উপেক্ষা করে মুসলিম মহিলা আইন চালু করে রাজীব গান্ধী দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতার ভারসাম্য রক্ষায় যখন আগ্রহী হয়ে উঠলেন, তখন একদিকে খুলে দেওয়া হল অযোধ্যায় রামলালার পূজা-অর্চনার দরজা, অন্যদিকে সাড়ম্বর ইফতার আয়োজনের হিড়িক জাগল কংগ্রেসের ভেতরে ও বাইরে। লক্ষ্ণৌ, দিল্লি, পাটনা ও অন্যান্য অঞ্চলে, কংগ্রেসের প্রদেশ দফতরে ঢুকে পড়ল সমবেত ইফতার। অকংগ্রেসি দলগুলোও পিছিয়ে থাকল না। মুলায়ম সিং যাদব মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে, দলের দফতরে বড়ো আকারে ইফতারের আয়োজন করতেন। অতিথিদের তদারকিতে যোগ দিতেন নিজে। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে, কিংবা পরে মায়াবতী মুলায়ম সিং যাদবের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। বিজেপিও সামাজিক সৌজন্য প্রদর্শনে একসময় কিছুটা আগ্রহ দেখিয়েছে। কল্যাণ সিং ও রাজনাথ সিং -এর আমলে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে রোজাদার ও রোজাদারদের সমাবেশ ঘটত। উত্তরপ্রদেশে প্রথম ব্যতিক্রম দেখা গেল রাম প্রকাশ গুপ্তর আমলে। উনি তখন প্রাদেশিক রাজনীতির আভ্যন্তরীণ বিবাদে দিশাহারা। তাই ইফতার নিয়ে ভাবনা-চিন্তার অবকাশ ছিল না রামপ্রকাশের। আদিত্যনাথের জমানায় অনীহা প্রকাণ্ড হয়ে উঠল। সচেতন ভাবে ইফতার আয়োজন থেকে সরাসরি সরে গেলেন যোগী। এবার যোগীর অনীহার সামাজিক ভিত্‌কে শক্তি জোগাল কংগ্রেস, এসপি ও বহুজন। দিল্লিতেও উদাসীনতা প্রদর্শন করল কংগ্রেস।

উত্তরপ্রদেশে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের পার্টিতে যোগ দিয়েছেন অখিলেশ, মায়াবতী ও ইউপি কংগ্রেসের নেতারা। কিন্তু তাঁদের দলীয় দফতরে এরকম আয়োজন কোথায়? উড়ু উড়ু জল্পনার আওয়াজ বাতাসে ভাসছে যে, ‘মৌলবি মোলায়ম’-এর পুত্র অখিলেশের ইফতার-আয়োজন থেকে দূরে সরে থাকার কারণ তাঁর নব দীপ্ত রাজনৈতিক কৌশল। সমাজের সব অংশের সমর্থন অর্জন করতে তোষণের অভিযোগ রুখতে চাইছেন তিনি। সহজ কারণ সামনে পুরভোট। কংগ্রেস ও মায়াবতীর বহুজনও একই নৌকোর যাত্রী। সব দল আসন্ন ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। তাহলে কি তাঁদের ব্যস্ততাকেও ছুঁয়ে আছে নরম হিন্দুত্ববাদের হাতছানি?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!