- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৫, ২০২৫
ইডিকে দেখে পালানোর চেষ্টা, মোবাইল গেল নর্দমায়। ফের বিতর্কে তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা
ইডির অভিযান শুরু হতেই আবার পালানোর চেষ্টা বড়ঞার তৃণমূল বিধায়কের!। গতবার পুকুর, এ বার মোবাইল গেল ঝোপের পথ ধরে নর্দমায়। শেষমেশ, বহু কসরতে সেটি উদ্ধার করলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। ইডির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অসহযোগিতা করছেন তিনি, মোবাইলের পাসওয়ার্ডও দিতেও রাজি হননি।
সোমবার সকাল সকাল মুর্শিদাবাদের বড়ঞা কেন্দ্রের বিধায়কের গ্রাম আন্দিতে হাজির হয় ইডির একটি ৫ সদস্যের দল। এসএসসি নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই এই তল্লাশি অভিযান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়েই বিধায়কের বাড়িতে প্রবেশ করেন ইডি আধিকারিকরা। সে সময় বিধায়ক বাড়িতেই ছিলেন। আধিকারিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পরই আচমকা বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে খুব বেশিক্ষণ লুকিয়ে থাকতে পারেননি। সশস্ত্র কেন্দ্রীয় জওয়ান তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন এবং ফের বাড়ির ভেতরে নিয়ে আসেন বলে সূত্রের দাবি।
তবে পালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিধায়কের আরও এক কীর্তি! অভিযোগ, ধরা পড়ার আগেই তিনি তাঁর মোবাইল ফোন ছুড়ে দেন বাড়ির পাশের ঝোপের দিকে। কিছুক্ষণ পর সেটি উদ্ধার হয় এক পরিত্যক্ত নর্দমা থেকে। মোবাইলে কী তথ্য রয়েছে, আদৌ চালু অবস্থায় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি। ইডি সূত্রের খবর, মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড জানাতে অস্বীকার করেছেন জীবনকৃষ্ণ। গত ৯০ দিনের কল রেকর্ড ধরে তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর জবাবে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারীদের। শুধু জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়ি নয়, ইডির তল্লাশির আওতায় এসেছে তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের আরো বেশ কয়েকটি বাড়িও। বিধায়কের ঘনিষ্ঠ এবং আত্মীয়দের বাড়িতে এদিন একযোগে হানা দেয় ইডির পৃথক দল। বীরভূমের সাঁইথিয়া পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মায়া সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। মায়া সাহা সম্পর্কে বিধায়কের পিসি। একই সঙ্গে রঘুনাথগঞ্জের পিয়ারাপুরে অবস্থিত তাঁর শ্বশুরবাড়ি ও স্ত্রী টগর সাহার পারিবারিক বাসভবনেও প্রবেশ করেন ইডির আধিকারিকরা। তল্লাশি চলে মহিষগ্রামের এক ব্যাঙ্ককর্মী রাজেশ ঘোষের বাড়িতেও, যিনি বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, ওই সমস্ত জায়গা থেকে বিধায়কের সম্পত্তি সংক্রান্ত নথিপত্র, আর্থিক লেনদেনের তথ্য ও মোবাইল ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবারই প্রথম নয়। এর আগেও মোবাইল গোপনের অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছেন জীবনকৃষ্ণ। ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল, শিক্ষা দফতরের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই হেফাজতে যান তিনি। সেবারও অভিযোগ উঠেছিল, তদন্তের সময় প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে নিজের ২টি ফোন পুকুরে ফেলে দেন তিনি। পরে সেই ফোন ২টি পুকুরের জল সেচে উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। দীর্ঘ ১৩ মাস জেল খাটার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান বিধায়ক। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যখন প্রতিদিন নতুন নতুন মোড় নিচ্ছে তদন্ত, তখন ফের জীবনকৃষ্ণ সাহাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন করে চাপ বাড়াচ্ছে শাসক দলের উপর। মোবাইল লুকোনোর পুরনো অভিযোগে যে রাজনৈতিক কাঁটা ছিল, তা আবার নতুন করে উসকে দিল সোমবারের ঘটনা। রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার ‘মোবাইল এপিসোড’ নিয়ে শোরগোল, আর তাতে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
❤ Support Us







