Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৮, ২০২৫

ধাতব জৈব কাঠামোর গহীনে জয়ের সূত্র, রসায়নে নোবেল ত্রয়ীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ধাতব জৈব কাঠামোর গহীনে জয়ের সূত্র, রসায়নে নোবেল ত্রয়ীর

স্টকহোমের রয়াল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল, ২০২৫ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন ৩ দেশের ৩ গবেষক—সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম. ইয়াঘি। তাঁদের সম্মিলিত গবেষণায় উদ্ভাবিত হয়েছে এক নতুন রাসায়নিক কাঠামো, যাকে বলা হচ্ছে মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস বা সংক্ষেপে এমওএফ। এই কাঠামো শুধু রসায়নের পরিধি বাড়ায়নি, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জগতেও তৈরি করেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

এই ধাতব-জৈব কাঠামো নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর পড়ে ১৯৮৯ সালে, যখন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিচার্ড রবসন ধাতব আয়নের সঙ্গে ৪টি শাখা বিশিষ্ট এক জৈব অণুর সংমিশ্রণে এমন এক আণবিক গঠন তৈরি করেন, যার ভিতরে ফাঁকা জায়গা ছিল। যদিও সে কাঠামো বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, তার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের গবেষণার পথ খুলে যায়। জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুসুমু কিতাগাওয়া সেই অসম্পূর্ণ কাঠামোকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি প্রমাণ করেন, এই গঠন এমনভাবে তৈরি করা যায়, যার ভিতরে গ্যাস প্রবেশ এবং নির্গমন করতে পারে। তিনি আরো প্রমাণ করেন, কাঠামোটি নমনীয় করাও সম্ভব, যা তখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের কাছে অকল্পনীয় ছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওমর এম. ইয়াঘি এরকমই এমওএফ নির্মাণে সফল হন, যা শুধু স্থিতিশীল নয় বরং রসায়নিকভাবে পরিবর্তনযোগ্য। তাঁর গবেষণা দেখায় কীভাবে যৌক্তিক ডিজাইনের মাধ্যমে এই কাঠামোর ভেতরের গঠন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এই এমওএফ কাঠামো গঠনে ব্যবহৃত হয় ধাতব আয়ন বা ক্লাস্টার এবং জৈব লিগ্যান্ড—যারা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তৈরি করে সুসংগঠিত, স্ফটিকাকার গঠন। গঠনটি এমনভাবে ছিদ্রযুক্ত থাকে যে, তার মধ্য দিয়ে গ্যাস এবং তরল পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে। এখানেই নিহিত এর ব্যবহারিক সম্ভাবনা। কাঠামোটিকে কাজে লাগিয়ে মরুভূমির শুষ্ক বাতাস থেকেও জল সংগ্রহ করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে জলসংকট মোকাবিলায় আশার আলো দেখাচ্ছে। একইসঙ্গে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ভূমিকা রাখতে পারে এই প্রযুক্তি। বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অনুঘটক হিসেবে কাজ করানো কিংবা নতুন ধরনের পরিবেশবান্ধব উপকরণ নির্মাণেও এর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নোবেল কমিটির তরফে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হাইনার লিংক জানিয়েছেন, এমওএফ কাঠামো আধুনিক রসায়নবিদদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। কাস্টম-মেড বা প্রয়োজন অনুযায়ী গঠিত উপকরণ তৈরির মাধ্যমে এটি এমন সব কার্যকারিতা এনেছে, যা আগে কল্পনাও করা যায়নি। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের হাতে এমন এক প্রযুক্তি তুলে দিয়েছে, যা ব্যবহার করে মানবসভ্যতার বৃহত্তর সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করা সম্ভব হতে পারে। নোবেল কমিটি বিবৃতিতে বলেছে, ২০২৫ সালের রসায়নে নোবেলজয়ীরা এমন এক আণবিক কাঠামো তৈরি করেছেন, যা অণুর ভিতরে বিশাল ছিদ্রের উপস্থিতির মাধ্যমে গ্যাস ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এই কাঠামো ব্যবহার করে যে প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের বিশ্বকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে। এই অসাধারণ আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩ বিজ্ঞানী ভাগ করে নেবেন ১ কোটি ১০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা অর্থপুরস্কার। ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের প্রয়াণদিবসে আয়োজিত হবে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। তাঁরই ইচ্ছায় আজও বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন এই পুরস্কার দেওয়া হয় তাঁদের, যাঁরা মানবকল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!