- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫
নেপালে অশান্তি, আটকে ভারতীয়রা — পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উত্তরবঙ্গেই থাকবেন মমতা!
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অশান্তির কবলে নেপাল। হাওয়ার সাথে উড়ে আসা আগুনের আঁচ লাগছে সীমান্তবর্তী উত্তরবঙ্গেও। কাঠমান্ডুতে আটকে রয়েছেন বহু ভারতীয় নাগরিক। এমন অবস্থায় ৩ দিনের সফরে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি উত্তরবঙ্গেই থাকবেন। জলপাইগুড়িতে বুধবার একটি সরকারি সভা শেষে উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের ৮ জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মমতা স্পষ্ট বলেন, ‘বাংলার অনেক পর্যটক নেপালে আটকে রয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব রয়েছে, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গ এবং নেপালের সীমান্ত খুব কাছাকাছি হওয়ায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) কলকাতায় ফিরব বলে ভাবছিলাম, কিন্তু নেপালের পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল না হয়, তাহলে আমি এখানেই থাকব।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘আমরা সবসময় দুর্দিনে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি, সেটা রেল দুর্ঘটনা, সাইক্লোন, কিংবা নদীতে ভেসে যাওয়া মানুষই হোক। আমাদের দায়িত্ববোধ আছে, তাই যতদিন না পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে, ততদিন আমি এখানেই থাকব।’
নেপালে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এটা কোনো সভ্যতা নয়, একজন মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হলো, আর তা নিয়ে উল্লাস করা, এটা মানবিকতার বিরুদ্ধে।’ তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক মতের জন্য মানুষকে অত্যাচার করা, পুড়িয়ে মারা, এই সমস্ত কিছু মেনে নেওয়া যায় না। মানুষের জীবনের মূল্য থাকা উচিত, তা যেই মতামতের হোক না কেন।’ মানবিকতার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু মানুষের প্রতি অত্যাচার বা অমানবিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ প্রতিবেশি দেশে হিংসা ও সীমান্তের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারের পুলিশ এবং এসএসবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সীমান্তের থানাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে।’ এছাড়াও, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, ‘কেউ যদি পরিস্থিতি ব্যবহার করে রাজনীতির খেলা খেলার চেষ্টা করে, তা হলে তাতে আমি সহযোগিতা করব না। প্রশাসনকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে।’ রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তী বলেছেন, ‘এই সময়ে কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে পরিস্থিতি ঘোলা করতে চাইবে, কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমি এ ধরনের চেষ্টা সফল হতে দেব না।’
রাজ্যের নাগরিকদের দেশে ফেরাতে সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নেপালে আটকে থাকা বাংলার পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার জন্য রাজ্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তাদের বলছি, হুট করে বেরোবেন না। কিছুদিন অপেক্ষা করুন, আমরা ব্যবস্থা করছি।’ পাশাপাশি, নেপাল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ‘যারা মানবিকতার বিরুদ্ধে কাজ করছে, তাদের জন্য আমার মন ভারাক্রান্ত। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে যদি শান্তি না থাকে, তবে সেটি আমাদেরও চিন্তা করে।’ নেপাল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ‘নেপালে বামপন্থী সরকার ছিল, আমাদের তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আমাদের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে, আমরা চাই নেপাল শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল হোক।’ তিনি বলেন, ‘বাংলার মনুষ্যত্ব এবং মানবিকতা সবসময় অন্যদের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষা দেয়।’ প্রশ্ন উঠেছে, যদি নেপালের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়, তাহলে কি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে? এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেব। তবে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুজোর পর উত্তরবঙ্গ সফর করে বিজয়া সম্মিলনী আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
❤ Support Us







