Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৫

মহম্মদ সেলিম আবার সম্পাদক।সিপিআইএম এর নতুন রাজ্য কমিটিতে ৮০ জন, মহিলা সদস্য ১৪

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মহম্মদ সেলিম আবার সম্পাদক।সিপিআইএম এর নতুন রাজ্য কমিটিতে ৮০ জন, মহিলা সদস্য ১৪

ডানকুনিতে ২২-২৫ জানুয়ারি সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। মহম্মদ সেলিম পুনরায় রাজ্য সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ৮০ জনের কমিটি তৈরি হয়েছে, বাদ পড়েছেন বামেদের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা সুশান্ত ঘোষ।তালিকায় নেই রাজ্যসভার সদস্য বিকাশ ভট্টাচার্য, বাঁকুড়ার অমিয় পাত্র, উত্তরবঙ্গের নেতা জীবেশ সরকার। কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারপার্সন হয়েছেন অঞ্জু কর। রামচন্দ্র ডোম, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, সুজন চক্রবর্তী, আভাস রায় চৌধুরি, সুমিত দে, শমীক লাহিড়ী, দেবলীনা হেমব্রমের মতো প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়,প্রতিকুর রহমান, সৃজন ভট্টাচার্যের মতো ছাত্র-যুব নেতারা। দলের মুখপত্রকে ডিজিটাল এবং সময়োপযোগী করার দায়িত্ব পেয়েছেন শান্তনু দে।নতুন কমিটিতে ১৪ জন মহিলা। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক প্রকাশ কারাত, বৃন্দা কারাত প্রমুখ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। যা নিয়ে রাজ্য কমিটির বৈঠকে মতান্তর হয়েছে।

৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হয় লেফ ফ্রন্ট । একাধিক নিয়মকানুন বদল, কাজের পদ্ধতি বদল, কর্মসূচি, বিক্ষোভ-আন্দোলনের পরেও ভোটবাস্কে জনসমর্থন পুনরুদ্ধার হয়নি এখনো। তাই এবারের সম্মেলনে নিজেদের ভুল-ত্রুটি, বিচ্যুতি নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করতে চেয়েছিলেন, সেই মোতাবেক রাজনৈতিক খসড়া প্রতিবেদনের আলোচনায় বিভিন্ন জেলার নেতারা নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে তৃণমূলের প্রকল্পে সাধারণ মানুষেরা সরাসরি যুক্ত হচ্ছেন, ভোট দিচ্ছেন তাঁদের। ফলে গ্রামীণ গরিব জনতার কাছে বঞ্চনার কথা, দুর্নীতির কথা তুলে ধরতে হবে।

সম্মেলনে মহিলা, ছাত্র ও যুবফ্রন্টের প্রতিনিধিরা প্রস্তাব দিয়েছেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমালোচনায় কেবল ব্যস্ত না থেকে, বরং বিকল্প তৈরির কথা ভাবতে হবে তাঁদের।  শুধু নেগেটিভ প্রচার, বিতর্কে দলের উন্নতি তো হচ্ছেই না বরং ক্ষতি হচ্ছে। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও তাঁর বক্তব্য বলেছেন, ‘তৃণমূল -বিজেপির বিরোধিতা তো হচ্ছেই।  একই সঙ্গে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের কথা, লাগাতার বলে যেতে হবে। শুধু বললেই হবে না, কাজেও করে দেখাতে হবে। এটাই সম্মেলনের মূল বার্তা।’ রাজ্যের সাম্প্রদায়িক বাতাবরন নিয়েও চিন্তিত রাজ্য বামেরা, সেলিম বলেছেন, ‘এত দিন আমরা বলতাম প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা।এখন তো বিজেপি ও তৃণমূল একে অন্যের পরিপূরক হিসাবে সাম্প্রদায়িকতা তৈরি করছে।বোঝা যাচ্ছে, বিভাজনের রাজনীতির জেরে হিংসা রুখতে সরকার কিছু করবে না। আগে কোথাও হিংসা হলে আমরা শান্তিমিছিল করতাম। এর পর থেকে হিংসা তৈরির পরিস্থিতি হলেই আমাদের রাস্তায় নামতে হবে।’এ দিন তিনি বলেন, ‘আমরা প্রজেক্ট ভিত্তিক মিশন মোডে আন্দোলন করতে চাই।’

সম্মেলনের পর প্রকাশ্য সমাবেশে একই কথা বলতে শোনা গেল প্রকাশ কারাতকেও। আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের সাম্প্রতিক বামলা সফরের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন,  ‘বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্ট করা, দাঙ্গা পরিস্থিত তৈরি কর যায়, সে নিয়ে প্ল্যান বানানোর জন্য এসেছিলেন। আমরা সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা বাংলার সম্প্রীতি রক্ষার জন্য জানকবুল লড়াই করবো।’ তাঁর সংযোজন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতা এলে দেশের বড়ো বড়ো পুঁজিপতিরা বাংলা লুট করবে। তৃণমূল-বিজেপি-আরএসএস এর বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।’ সভামঞ্চ থেকে মীনাক্ষী মুখার্জি তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে বুথে বুথে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল, রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী নিরাপত্তার কথা, বেকারত্বের কথা। রাজ্যে আইনপ্রশাসন নেই, পুলিশের বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে কাজ করবার মত গুরুতর অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। উঠে এসেছে আরজি করের প্রসঙ্গও।

পুনঃনির্বাচিত সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এদিন সম্মেলনের প্রকাশ্য সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন, রাজ্যে নারী নিরাপত্তা বিঘ্নিত,  নারী নির্যাতন নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রের সরকারের সমালোচনা করেছেন তিনি ।তাঁর বক্তব্য, গুণ্ডা, যৌন নির্যাতক, দাঙ্গাকারীরা এ দেশে পুরষ্কৃত হচ্ছেন, ভালো মানুষেরা খুন হচ্ছেন।’ মানুষকে সাঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবেই এর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে । বাংলাদেশের কথা উঠে এলে মৌলবাদের বিরুদ্ধে সিপিআই(এম) ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়েছেন — ‘নানা ভাষা, নানা মত-ভারতের বৈচিত্রপূর্ণ অখণ্ডতা ভাঙতে আরএসএস সক্রিয়, তৃণমূল সাহায্য করছে ওদের। আমরা তা হতে দেব না।’ কৃষক-শ্রমিক-ক্ষেতমজুরদের একসাথে নিয়ে পুরনো ও নতুন পদ্ধতির মেলবন্ধন ঘটাতে চাইছে বাম দলগুলো। বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের বামেদের অভিমুখ কোনোদিকে হবে, তার ইঙ্গিত আজ সমাবেশ থেকে দিতে দেখা গেল মহম্মদ সেলিমকে।

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সংসদীয় রাজনীতির ময়দানে ফিরতে চাইছে সিপিআই(এম)। শূন্যের বাধা কাটিয়ে উঠতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো পেশাদারি পথে হাঁটতে চলেছে। জনসমর্থন আর সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে একটি বৃহৎ রিপোর্ট তৈরি করেছে এক পেশাদার সংস্থা। কোন কোন অঞ্চলে বামেদের অবস্থা সঙ্গিন, ভোটের ফলাফল তলানিতে, ভোট আগে কেমন ছিল ছিল, কেন কমেছে, এখন কি পরিস্থিতি, কাদের ভোট কতটা বেড়েছে সবই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে এরপর নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে তা আন্দোলনের হাতিয়ার করতে পারেন সেলিম-সুজনেরা।

ডিজিটাল প্রচারে আইটি সেলের গুরুত্ব বাড়াতে চাইছে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই। গ্রাম থেকে শহর, জনসংযোগ করতে মানুষের উপর নির্ভর করত যে দল, সেখান থেকে সরে এলেন তাঁরা।  রাজ্য সম্মেলনের তৃতীয় দিনে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মধ্যে দিয়ে দেখানো হল সিপিএমের দুর্বলতা  কোন কোন জায়গায়। বুথস্তরে সংগঠন গোছাতে বুথস্তরে কমিটি নতুন করে গড়ে তোলার কথা ভাবছে সিপিএম। বুথস্তরে কমিটি গড়ে তোলার সময়সীমাও বেঁধে দিল সিপিএম রাজ্য সম্মেলন থেকে। যদিও এই পেশাদার সংস্থা টাকার বিনিময়ে কাজ করছে না বলে দাবি করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের আইপ্যাক রয়েছে, বিজেপিরও পেশাদার সংস্থার সঙ্গে যোগ রয়েছে ও আইটি সেল রয়েছে। নতুন পদক্ষেপে জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন বামেরা ?

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!