- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৩, ২০২৫
ভোটার তালিকা নেই বাংলার ১০০টি বুথে, এসআইআর-এর জন্য বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের প্রস্তাব
২০০২ সালের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বা এসআইআর-এর পরে তৈরি হওয়া ভোটার তালিকার রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না রাজ্যের প্রায় ১০০ বুথে। এমন অভিযোগই পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের খবর, যেহেতু ২০০২ সালের তালিকা বহু ক্ষেত্রে আর নেই, তাই বিকল্প হিসেবে ২০০৩ সালের খসড়া ভোটার তালিকা ভিত্তি করে এসআইআর প্রক্রিয়ার ভাবনা চলছে। সূত্রের দাবি, এই প্রস্তাব পাঠানো হবে কমিশনের দিল্লি দফতরে।
যে একশোর বেশি বুথে তালিকা নেই বা নষ্ট হয়েছে নথি, তার অধিকাংশই দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও বীরভূমের। নির্বাচন দফতর সূত্রে খবর আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘কিছু বুথের রেকর্ড কিছুই নেই। আবার কিছু তালিকা এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে যে, কমিশনের সার্ভারে আপলোড করা যাচ্ছে না। প্রযুক্তিগত ভাবে ওই ডেটা পুনরুদ্ধার করাও সম্ভব নয়।’
এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছে ৪ নির্বাচনী আধিকারিককে বরখাস্ত করা নিয়ে। ২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকায় বে-আইনি নাম সংযোজনের অভিযোগ উঠেছে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। শাস্তিস্বরূপ তাঁদের সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু রাজ্য সরকার সে সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এই ৪ জন রাজ্য সরকারি কর্মী। কমিশনের হুকুমে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’ কমিশন পাল্টা পদক্ষেপে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পান্তকে তলব করেছে। বুধবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। কমিশনের অভিযোগ, ওই ৪ আধিকারিক শুধুমাত্র দায়িত্বে গাফিলতি করেননি, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচন রেজিস্ট্রেশনের গোপন লগইন তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তির সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে চরমভাবে তথ্য সুরক্ষা নীতি লঙ্ঘন করেছেন। সূত্রের খবর, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ন্যূনতম ৩ মাস থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার মুখে পড়তে পারেন তাঁরা।
একদিকে, কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট লুটের’ অভিযোগ, ‘প্রমাণ পেশ’ করছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, ‘ইন্ডিয়া জোট’ শরিক তৃণমূল ও কমিশনের সংঘাতের আবহাওয়া ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। এর মধ্যেই সামনে এল ভোটার তালিকা নিখোঁজের অভিযোগ। রাজনীতিকরা বলছেন, ভোটার তালিকা ঘিরে এমন বিতর্ক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতার প্রশ্নে নতুন করে আলোড়ন তুলতে পারে।
❤ Support Us







