Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১৯, ২০২৬

সরকারি ব্যয়ে রাশ টানতে নবান্নের কড়া নির্দেশিকা: ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, ডিজিটাল অফিস ও স্বদেশি পণ্যে জোর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সরকারি ব্যয়ে রাশ টানতে নবান্নের কড়া নির্দেশিকা: ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, ডিজিটাল অফিস ও স্বদেশি পণ্যে জোর

রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা আনতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশের পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব গত ১৮ মে বিজ্ঞপ্তি নম্বর ১৩০-সিএস/২০২৬ জারি করেন। এই নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত দফতরের প্রধান, জেলাশাসক, ডিরেক্টরেট, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), বোর্ড, কর্পোরেশন এবং সরকারি অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে এবং অবিলম্বে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি কাজে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, সরকারি বৈঠক, পর্যালোচনা এবং প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে ভিডিয়ো কনফারেন্স, ভার্চুয়াল মিটিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের মান ও দক্ষতা বজায় রেখে যতটা সম্ভব ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদের অপ্রয়োজনীয় সফর কমাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাতায়াতের ক্ষেত্রে গণপরিবহণ, কারপুলিং এবং পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অফিসে বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং শক্তি সাশ্রয়ের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বাড়াতে ‘পেপারলেস’ বা কাগজবিহীন অফিস ব্যবস্থা এবং ‘ই-অফিস’ পদ্ধতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যেমন কাগজের ব্যবহার কমবে, তেমনই সরকারি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

নির্দেশিকায় আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে দেশীয় বা ভারতে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি স্তরে ‘স্বদেশি’ উদ্যোগকে আরও বেশি উৎসাহিত করার কথাও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি দফতরগুলিকে টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভোজ্য তেল ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষিকাজকে উৎসাহ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এই নির্দেশিকা যাতে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, তার জন্য কঠোর সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে নবান্ন। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি দফতর ও জেলা প্রশাসনকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করতে হবে। সেখানে তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি সম্ভাব্য ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলের উল্লেখ থাকতে হবে। আগামী ২২ মে, ২০২৬-এর মধ্যে এই কর্মপরিকল্পনা মুখ্যসচিবের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে প্রতি মাসে অগ্রগতির রিপোর্ট নবান্নে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রাজ্যের সমস্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব, সচিব এবং জেলাশাসকদের এই নির্দেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের অধীনস্ত সমস্ত দফতরে দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!