Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫

‘ডিএ বাধ্যতামূলক নয়, মৌলিক অধিকারও নয়’— দাবি জানিয়ে চূড়ান্ত হলফনামা পেশ রাজ্যের, শীর্ষ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় কর্মী মহল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘ডিএ বাধ্যতামূলক নয়, মৌলিক অধিকারও নয়’— দাবি জানিয়ে চূড়ান্ত হলফনামা পেশ রাজ্যের, শীর্ষ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় কর্মী মহল

কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘভাতা (ডিএ) দিতে হবে, এমন দাবিতে দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের পরে, সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত হলফনামা পেশ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত ৮ সেপ্টেম্বর মামলার মৌখিক শুনানি শেষ হলেও, রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতিরা। আদালতের নির্দেশ মেনে সোমবার নিজেদের লিখিত বক্তব্য আদালতে জমা দিল রাজ্য। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিল, কেন্দ্রের হারে ডিএ দেওয়া কোনো ‘অধিকার’ নয়, বরং আর্থিক সামর্থ্যের নিরিখেই মহার্ঘভাতা নির্ধারিত হয়। রাজ্যের পক্ষে হলফনামা পেশ করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। আদালতের বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলি।

রাজ্যের পক্ষ থেকে হলফনামায় জানানো হয়েছে, দেশের বহু রাজ্যই কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত হারে ডিএ দেয় না। রাজ্যের দাবি, অন্তত ১২টি রাজ্য এই পথে হাঁটছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই বিজেপি শাসিত অথবা বিজেপি জোটের শরিক রাজ্য। তালিকায় রয়েছে কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, হিমাচল প্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ত্রিপুরা, তেলঙ্গানা, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও সিকিম। রাজ্যেপক্ষের মতে, ওই রাজ্যগুলির বেশির ভাগই কেন্দ্রের ডিএ হারের অনুগামী নয় এবং অনেকেই ভোক্তা মূল্য সূচক মানে না। তাই পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে নিজস্ব নীতি অনুযায়ী ডিএ দেয়— এতে সংবিধান লঙ্ঘনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। হলফনামায় লেখা হয়েছে, সংবিধানের ৩০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং বেতন কাঠামো তৈরির অধিকার রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্র যে হারে ডিএ দিচ্ছে, রাজ্যকে তা মেনে চলতে হবে, এমন কোনো সাংবিধানিক দায় নেই। আরো বলা হয়েছে, সরকারি কর্মীদের ডিএ কোনো ‘বাধ্যতামূলক বেতন কাঠামোর’ অঙ্গ নয়, বরং এটি নিছক সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়। রাজ্য যেমন নিজের আর্থিক পরিকাঠামো, অগ্রাধিকার এবং বিদ্যমান ভাতা ও সুবিধার নিরিখে ডিএ নির্ধারণ করে, তেমনই অন্য রাজ্যগুলিও তাই করে থাকে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট ডিএ মামলায় সরকারি কর্মীদের পক্ষে রায় দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, ডিএ কোনও ‘দয়ার দান’ নয়, এটি সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য অধিকার। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। ডিএ মামলায় শীর্ষ আদালতের পর্যালোচনায় রাজ্য এবার জানাল, হাইকোর্ট বা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল কেউই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। বরং এআইসিপিআই সূচকের ভিত্তিতে নিজস্ব নীতি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে ক্ষেত্রেও শীর্ষ আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ কার্যত কেন্দ্রের হার চাপিয়ে দেওয়ারই সামিল, দাবি রাজ্যের। এর আগে, শীর্ষ আদালত রাজ্যকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তার জন্য ৬ সপ্তাহ সময়ও নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও তা সম্ভব হয়নি। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, আর্থিক সঙ্কটের কারণে ২০২৫-২৬ সালের বাজেটেও এই খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। সে কারণে ডিএ পরিশোধে অন্তত আরো ৬ মাস সময় প্রয়োজন। সুপ্রিম দরবারে রাজ্য সরকারের আবেদন, ডিএ দেওয়ার ক্ষমতা তাদের আর্থিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। কেন্দ্রের সঙ্গে সেই তুলনা চলে না। তদুপরি, অন্যান্য বহু রাজ্যও বকেয়া ডিএ মেটাতে পারেনি বা কেন্দ্রীয় হারে তা দেয় না।

শীর্ষ আদালতে রাজ্যের লিখিত বক্তব্যের পর পাল্টা মত পেশের আবেদন করেছেন মামলাকারী সরকারি কর্মীদের পক্ষের আইনজীবী করুণা নন্দী। সরকারি কর্মীদের যুক্তি, ডিএ সরকারের নীতিগত দায়িত্ব। এটা ইচ্ছেমতো কমানো বা বাড়ানোর বিষয় নয়। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় অন্তর ডিএ দিতে হবে এবং প্রয়োজনে তা কিস্তিতে মেটানো যেতে পারে। তবে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, পাল্টা বক্তব্য পেশের জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। সে সময়সীমার মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জমা দিতে হবে। এরপরেই রায় ঘোষণা করতে পারে আদালত। ডিএ মামলার শুনানি গত ৮ সেপ্টেম্বর শেষ হলেও, বিচারপতিরা রায়দান স্থগিত রেখেছেন। দুই পক্ষের লিখিত বক্তব্য জমা পড়ার পরই রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ। এ রায় শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বহু রাজ্যের কর্মীদের ক্ষেত্রেই দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকেই। রায় ঠিক করবে, কর্মীরা তাদের ‘অধিকার’ আদায় করতে পারলেন, না কি রাজ্যের আর্থিক যুক্তিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হলো।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!