Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জানুয়ারি ১০, ২০২৫

দেশের সবচেয়ে বেশি ছাত্রশূন্য স্কুল বাংলাতেই। উদ্বেগজনক রিপোর্ট ঘিরে প্রতিক্রিয়া শিক্ষক মহলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দেশের সবচেয়ে বেশি ছাত্রশূন্য স্কুল বাংলাতেই। উদ্বেগজনক রিপোর্ট ঘিরে প্রতিক্রিয়া শিক্ষক মহলের

গত শিক্ষাবর্ষে দেশের নানান প্রান্তে কোন কোন স্কুল ছাত্রশূন্য অবস্থায় কেটেছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করেছে কেন্দ্র। তাতে উদ্বেগের তথ্য উঠে এসেছে, এমন স্কুলের সংখ্যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাতেই। তার পরেই রয়েছে রাজস্থান এবং তেলঙ্গানা।

দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাত্র শূন্য স্কুল রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। দেশের বিভিন্ন স্কুলগুলোতে পড়ুয়াদের ভর্তির হার কেমন, তা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের হিসেবে ওই তালিকা তৈরি করেছে কেন্দ্র। আর সেই তালিকাতেই দেখা যাচ্ছে ছাত্রশূন্য স্কুলের সংখ্যা বেশি বাংলাতেই।

সারা দেশ জুড়ে উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েই চলেছে স্কুল-ছুটদের সংখ্যা। সম্প্রতি এই নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। গত শিক্ষাবর্ষের তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস’ থেকে একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গে গত শিক্ষাবর্ষে ৩০০০ এর বেশি স্কুলে কোনো ছাত্র ভর্তি হয়নি। অথচ পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলিতে ১৪ হাজার ৬২৭ শিক্ষক রয়েছেন, আবার বহু স্কুলে পড়ুয়ারার সংখ্যা অনেক হলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন।

কেন্দ্রের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে একজন শিক্ষক থাকা স্কুলের সংখ্যা ৬ হাজার ৩৬৬ টি। ২০০ পাতার চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে বলা হয়েছে, সারাদেশে প্রায় ১৩ হাজার স্কুলে গত শিক্ষাবর্ষে কোন পড়ুয়া ভর্তি হয়নি। এই স্কুলগুলিতে শিক্ষক ছিলেন মোট ৩১ হাজার ৯৮১ জন। আবার এমন প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার স্কুল রয়েছে যেখানে পড়ুয়া ভর্তি হলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। পড়ুয়া শূন্য স্কুলের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের ঠিক পরেই রয়েছে রাজস্থান। তৃতীয় স্থানে তেলাঙ্গনা।

প্রতিবছর দেশের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সরকারি স্কুলগুলির অবস্থা কেমন সে নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস’। মূলত রাজ্য সরকারের তরফে এই পরিসংখ্যানের তথ্য পাঠাতে হয় কেন্দ্রকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রিপোর্ট দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা।

এই উদ্বেগজনক রিপোর্ট সামনে আসতেই রাজ্যের শিক্ষকমহল ও সংগঠনগুলি থেকে প্রতিক্রিইয়া আসতে শুরু করেছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের বক্তব্য, “এই পরিসংখ্যান থেকে যেটা পরিষ্কার হচ্ছে যে শুধুমাত্র ভাতা পাইয়ে দিয়ে বা ব্যাগ, খাতা, ট্যাব পাইয়ে দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায় না। তার জন্য চাই বুনিয়াদি কাঠামোর উন্নয়ন, এই সরকার গত ১৩ বছরে যা অবহেলা করে আসছে।” তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন , সরকার আগে সঠিক শিক্ষানীতি গ্রহণ করুক। একই সুরে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীও বলেন, “রিপোর্ট অনুসারে সারা দেশের নিরিখে এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ছাত্রশূন্য স্কুল। বহু স্কুলে এক জন করে শিক্ষক। এটি আমাদের লজ্জা।” অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক তৃণমূল শিক্ষক সমিতির রাজ্য সহ-সম্পাদক সঞ্জয় বড়ুয়া জানাচ্ছেন, “এই রিপোর্ট আমরা সম্পূর্ণ রূপে অস্বীকার না করলেও, আমরা খালি চোখে এই ধরনের কোনও পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি না।”

রিপোর্ট সামনে আসতেই রাজ্যের স্কুলগুলিতে ছাত্র শিক্ষকদের অনুপাত কেমন আছে তা সব স্কুলের কাছেই জানতে চেয়েছে শিক্ষা দফতর। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত কোন স্কুলে কতজন পড়ুয়া রয়েছে ? কোথায় কত জন শিক্ষক রয়েছেন সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেছে রাজ্য। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর সাধারণত কোনো স্কুলে যদি প্রতি ৪০ জন ছাত্র একজন করে শিক্ষক থাকেন তাহলে তাকে আদর্শ ছাত্র শিক্ষক অনুপাত বলে মনে করা হয়। যদিও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ১১০ বা ১২০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক থাকলে তাকেও আদর্শ অনুপাত বলে মনে করা হয়।
গত বছরে তৃণমূল জমানায় ছাত্র না থাকায় প্রায় ৮০০০ সরকারি প্রাথমিক এবং জুনিয়র হাইস্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সরকারের সেই পদক্ষেপ নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন শিক্ষক ও কর্মচারী সংগঠনগুলি। শিক্ষানীতি, স্কুলের পরিকাঠামো, মিড ডে মিল সহ একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। একদিকে স্কুল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে বারবার কোণঠাসা হয়েছে রাজ্য। রাস্তায় দীর্ঘদিন ধর্ণামঞ্চে বসে চাকরীপ্রার্থীরা, একাধিক মামলা চলছে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে। এর মধ্যে কেন্দ্রের এই রিপোর্টে রাজ্যে আরো অনেক সরকারি স্কুল বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হলো। ৮০০০ স্কুল বন্ধের ঘোষণায় প্রায় ৩০,০০০ শূন্য পদ স্রেফ উবে গেছিল। জঙ্গলমহলে ১৭টি আদিবাসী হোস্টেল বন্ধ হয়েছিল, সাতটি জুনিয়র হাইস্কুলও। তার মধ্যে পাঁচটি স্কুলে তখনই একজন মাত্র শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষাব্যবস্থার করুণ অবস্থায় বাংলার আগামী প্রজন্ম কতটুকু শিক্ষার আলো পাবে, ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে সেই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে শিক্ষামহলকে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!