Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫

সংশোধনাগারে ভাল আচরণের পুরস্কার, আরও ৪৫ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে সরকার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সংশোধনাগারে ভাল আচরণের পুরস্কার, আরও ৪৫ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে সরকার

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বহু বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে তৃণমূল সরকার। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে ৮৪০ জন বন্দি। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আরও ৪৫ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই বন্দি মুক্তির কথা সমাজমাধ্যমে জানিয়েও দিয়েছেন। ইতিমধ্যে বন্দি মুক্তির প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এক্স–এ লিখেছেন, ‘‌সংশোধনাগারের কাজ শুধুমাত্র অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া নয়। অপরাধীদের মানসিকতার পরিবর্তন করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা। আশা করছি, মুক্তি পাওয়া এই বন্দিরা নতুন ও মুক্ত জীবনে সমাজে সুনাগরিক হয়ে উঠবে এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। তাহলেই আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে।’‌
মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘‌যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে যাদের ইতিমধ্যেই ১৪ বছর বন্দিদশা সম্পূর্ণ হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই আইন মেনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৮৪০ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আরও ৪৫ জনকে আইন মেনে মুক্তি দেওয়া হবে। আমি এই বন্দিদের ও তাদের পরিবারের সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’‌ রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ সংশোধনাগারে বন্দিদের শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন ও ভাল আচরণ।
গত জুলাই মাসে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকেও তিনজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে একই কারণে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সেসময় সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষ এই বন্দিদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করেছিল, যা পরে রাজ্যের ‘স্টেট সেন্টেন্স রিভিউ বোর্ড’ অনুমোদন করে। এবারও সেই একই পদ্ধতি মেনে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সংশোধনাগারকে শুধুমাত্র শাস্তির জায়গা হিসেবে নয়, সংশোধন ও সমাজে প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্র হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারা দফতরের মতে, বন্দিদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসাই সংশোধনাগারের আসল উদ্দেশ্য।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই বন্দিমুক্তির সিদ্ধান্তকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির নিদর্শন হিসেবে দেখছেন, অনেকে আবার মনে করছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত অপরাধীদের সমাজে পুনর্বাসনের এক ইতিবাচক পদক্ষেপ। দীর্ঘ কারাবাস শেষে নতুন জীবনে পা রাখার এই সুযোগ নিঃসন্দেহে বন্দিদের জীবনে নতুন দিশা দেখাবে। রাজ্যের এই উদ্যোগ সংশোধনাগারে অন্য বন্দিদের ভাল আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!