- প্রচ্ছদ রচনা
- অক্টোবর ১২, ২০২৬
নয়াদিল্লিতে আঁটোসাটো নিরাপত্তা, শীর্ষ আদালতে অভিযানের আগে ‘ইন্ডিয়া’ নেতৃত্বকে কী বার্তা প্রধান বিচারপতির ?
এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানাতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সূত্রের খবর, চারটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরে বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের অনুমতি দেননি তিনি। অন্যদিকে, সোমবারের প্রস্তাবিত সুপ্রিম কোর্ট অভিযান ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ছ’টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা। এই বিষয়গুলি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে রবিবারই সেই আর্জি খারিজ করে দেন বিচারপতি।
সূত্রের খবর, বিরোধীদের উদ্দেশে পাঠানো জবাবে প্রধান বিচারপতি মূলত যে চারটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন তার মধ্যে প্রথমত, এসআইআর সংক্রান্ত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাই বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আদালতের বাইরে আলাদা করে আলোচনা করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সাংবিধানিক কাঠামোর কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিরোধীদের তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা বা সেগুলি প্রশাসনিক স্তরে বিবেচনা করা আদালতের প্রশাসনিক এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
তৃতীয়ত, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ-সহ অন্যান্য সাংবিধানিক বিধানের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা রয়েছে। সোমবার এই অভিযোগগুলিকে কেন্দ্র করে কোনও আবেদন বা মামলা দায়ের করা হলে, সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্ধারিত শুনানির দিন তা গ্রহণ করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
চতুর্থত, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের দায়বদ্ধতার কথাও বিরোধীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার সকল নাগরিকের রয়েছে এবং তাঁদের জন্য আদালতের দরজা খোলা—এই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
প্রধান বিচারপতির কাছে সাক্ষাতের আবেদন খারিজ হলেও সোমবারের কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা অব্যাহত। কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই ‘চলো দিল্লি’ অভিযানে যোগ দেওয়ার জন্য নাগরিক সমাজ, ছাত্রছাত্রী এবং যুবসমাজের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, সোমবার বেলা দেড়টা নাগাদ দিল্লির কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল শুরু হওয়ার কথা। কংগ্রেসের তরফে বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধী নেতারা শেষ পর্যন্ত মিছিলে অংশ নেবেন কি না, কিংবা কর্মসূচির ধরনে কোনও পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে বিরোধী শিবিরের তরফে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
বিরোধীদের প্রস্তাবিত মিছিল ও জমায়েতকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করল দিল্লি পুলিশ। সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রাজধানীর ছ’টি মেট্রো স্টেশনের পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিছিলকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের জেরে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-ও সোমবার পৃথকভাবে পথে নামার কথা জানিয়েছে। তবে তাদের কর্মসূচির নির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
সব মিলিয়ে এসআইআর-বিতর্ক, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন খারিজ এবং প্রস্তাবিত বিরোধী মিছিলকে ঘিরে সোমবার দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন নজর, বিরোধী জোট শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট অভিযান চালিয়ে যায় কি না এবং তাদের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই।
❤ Support Us








