Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ৮, ২০২২

কে এই নূপুর শর্মা?

দুঃসময়ে হাসছে আড়ালের দৈত্যরা ।

কে এই নূপুর শর্মা?

ইসলামের প্রবর্তক পয়গম্বর হজরত মহম্মদকে নিয়ে ভারতীয় জনতা দলের অন্যতম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নূপুর শর্মার মন্তব্যকে তাঁর দল শুধু উড়িয়ে দেয় নি, তাঁকে দল থেকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতূত্ব বিবৃতি দিয়ে বলেছে, আমরা কোন সম্প্রদায় বা তাঁদের ধর্মকে হেয় বা অপমান করে এরকম দর্শনের বিরুদ্ধে। এ দর্শনের প্রবক্তা বা ব্যক্তিকে কখনও সমর্থন করি না। ‘ বিজেপির এই বিবৃতির পর নূপুর শর্মা কোনঠাসা হলেও পাল্টা যুক্তি পেশ করে বলেছেন, হিন্দু দেবতাকে অনবরত যেভাবে অপমান অসম্মান করা হচ্ছিল, তার জবাব দিতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছেন। বরখাস্ত নুপূর বলেছেন, আমি নিঃশর্তভাবে আমার আগের মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছি ।

কিন্তু অনেকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছেন নূপুর শর্মা বাইরের কেউ নন, তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ। নূপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে দেশে-বিদেশে ঝড় উঠেছে। কিন্তু কে তিনি? তাঁর পরিচিতি কোন স্তরে? এসব বিষয় অনেকেরই জানা নেই। নুপূরের বয়স ৩৭। পেশায় আইনজীবী এবং বিজেপি সরকারের জনপ্রিয় মুখপাত্র । সরকারের হয়ে দিনের পর দিন তাঁকে টেলিভিষণের পর্দায় বক্তব্য পেশ করতে দেখা গেছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের প্রাক্তনী। ছাত্রাবস্থায় ২০০৮ সালে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরু । রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ আন্দোলনের ছাত্র শাখা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর সরাসরি রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর প্রবেশ।

মাস্টার্স ডিগ্রি, লন্ডনের স্কুল অফ ইকনমিকস থেকে । বিষয় ব্যবসায়িক আইন । ২০১১ সালে ভারতে ফিরে আসেন। তখন থেকেই রূঢ়ইংরেজির সুবক্তা নুপূরের দ্রুত উত্থান ঘটতে থাকে। হিন্দিতেও সমান ভাবে দক্ষ। ২০১৩ সালে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনের সময় তাঁকে বিজেপির মিডিয়া কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসা হয়। দু’বছর পর যখন নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তখন তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী । কেউ ভাবেন নি কেজরিওয়ালকে হারিয়ে দেবেন তিনি। ভোটের পর তিনি দলের সামনের সারিতে চলে আসেন । ২০২০ সালে দলের জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে মনোনিত হন তিনি । এরপর কখনও তাঁর জনপ্রিয়তা আর দলের ভিতরে গ্রহণযোগ্যতায় ভাটা পড়ে নি। ক্রমাগত উত্তরণ ঘটতে থাকে। হজরত মহমম্দকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যে দলে অস্বস্থি দেখা দেয়। কিন্তু সাধারণ কর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। টুইটারে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি।
২৭শে মে- টেলিভিষণের এক অনুষ্ঠানে, তিনি মহাপুরুষ হজরত মহম্মদের বিরুদ্ধে যে কটাক্ষ করেছিলেন, তার পরিণতি হজম করা নুপূরের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা জায়গায় পাল্টা এবং ঘূণ্য সাম্প্রদায়িক শক্তি তৎপর হয়ে উঠেছে । পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, বিরুদ্ধ মৌলবাদকে রাস্তায় নামার পরিসর ও সুযোগ পাইয়ে দিতেই যেন নুপূর পয়গম্বরকে নিয়ে প্ররোচনামূলক কটাক্ষ করেছেন । রহস্য অধরা । কে জানে, কার কার

ইন্ধনে অনাকাঙ্খিত তর্জা শুরু হয়েছে। দুর্সময়ে এরকম পরিস্থিতি দেখা দেয়। সভ্যতা সঙ্কটে । সভ্যতার পূর্ণ শিরচ্ছেদ যেন দাবি করছে আড়ালের গাঢ় অন্ধকারের যতসব কোবন্ধ দৈত্য।

 

 


❤ Support Us
error: Content is protected !!