Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ৮, ২০২৩

দলের অনুমতি নিয়েই, উন্নয়ণের প্রশ্নে মমতার দারস্থ হব। জানালেন বায়রন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দলের অনুমতি নিয়েই, উন্নয়ণের প্রশ্নে মমতার দারস্থ হব। জানালেন বায়রন

সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে কি বায়রন বিশ্বাসের হাত পাকাপাকি ভাবে ধরতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে বায়রন বিশ্বাসের প্রতি তাঁর বিধানসভা এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব এবং সেই প্রস্তাব শোনার পর বায়রন বিশ্বাসের আচরণ সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাগরদিঘি বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে সাগরদিঘি একটা মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার সেই মডেল বিধানসভার কংগ্রেস বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসকে তাঁর এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।শনিবার মুর্শিদাবাদের সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তার পাওয়ায় পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য এক কথায় অস্থির হয়ে উঠেছেন সাগরদিঘির কংগ্রেস বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস।এমন কি এই প্রসঙ্গে রবিবার বায়রন বিশ্বাস সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে চান। চলতি সপ্তাহেই কলকাতায় আসছেন বাম সমর্থিত কংগ্রেস বিধায়ক। তখনই মুখ্যমন্ত্রী যদি তাঁকে সময় দেন তাহলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি তাঁর বিধানসভা এলাকার উন্নয়নের কথা বলবেন। তবে বায়রন বিশ্বাসকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা থেকে এই প্রস্তাব দেওয়ার পর যে ভাবে বায়রন বিশ্বাস একেবারে লাফিয়ে পড়েছেন তাতে কংগ্রেসে অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে, এবার কি তাহলে তৃণমূল সাগরদীঘির বাম সমর্থিত কংগ্রেস বিধায়ককে ভাঙিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করল? তারই কি প্রথম পদক্ষেপ অভিষেকের এই প্রস্তাব?

এই মুহূর্তে ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’ কর্মসূচি নিয়ে জেলায় উজাড় করে ঘুরছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে গিয়ে সাগরদিঘির প্রসঙ্গ তোলেন অভিষেক। হার ভুলে ফের একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তা কর্মীদের উদ্দেশে দেন অভিষেক। সাগরদিঘির কংগ্রেস বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের উদ্দেশে অভিষেক শনিবার বলেছিলেন, “সাগরদিঘির উন্নয়ন চায় রাজ্য সরকার। কাজ করতে গিয়ে সমস্যা হলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুক বায়রন।” অভিষেকের এই বার্তা পাওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়, এ ভাবে কি কংগ্রেস বিধায়ককে কাছে টানার চেষ্টা করছে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল ?

রবিবার বায়রন বিশ্বাস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই পরামর্শ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ফেলেছেন। বায়রন বিশ্বাস বলেছেন, “আগামী ১১ মে আমি কলকাতায় যাচ্ছি প্রদেশ কংগ্রেসের বৈঠকে যোগ দিতে। সেই বৈঠকে যদি অনুমতি পাই সেই সময়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করব। জানি না, তাঁর সাক্ষাৎ পাব কি না। আমি এখানকার বিধায়ক হয়েছি অনেকদিন হয়ে গেল। কিন্তু এলাকায় উন্নয়নের কাজ শুরু করতে পারিনি। এবার সেই কাজের জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাব।”

সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের বিধায়ক তাঁর বিধানসভা এলাকার উন্নয়নের জন্য শাসক দলের মন্ত্রী এমন কি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন, সেটা স্বাভাবিক বিষয়।প্রদেশ কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বলেন, “অতীতে আমরা দেখেছি আমাদের সমর্থন নিয়ে ২০১১ সালে তৃণমূল রাজ্যে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর সেই কংগ্রেসকেই কি ভাবে দিনের পর দিন ভেঙেছে।

কংগ্রেস বিধায়কদের তৃণমূলে টেনে নিয়ে গেছে। এই তালিকায় মানস ভূইঁয়ার মতো নেতাও আছেন। তাই তৃণমূলের এই গণতন্ত্রে প্রেম দেখে, বিরোধী বিধায়কের প্রতি অভিষেকের এই সৌহার্দের বার্তা দেখে স্বাভাবিক কারণেই মনে হয় বায়রনকে আবার ভাঙিয়ে নেবে না তো? কেন না তো তৃণমূল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। নিজেদের স্বার্থ ছাড়া তারা অন্য কিছু যে বোঝে না সেটা তৃণমূল নেত্রী বহু আগেই প্রমাণ করে দিয়েছেন।তবে এই প্রসঙ্গে বায়রন বিশ্বাস সংবাদ মাধ্যমকে সাফ জানিয়েছেন,  ” দলবদলের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।”

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!