Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ৫, ২০২৩

১২ জুন নীতীশের নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধী জোটের পাটনার প্রথম মেগা বৈঠক ২৩ জুন পর্যন্ত স্থগিত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
১২ জুন নীতীশের নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধী জোটের পাটনার প্রথম মেগা বৈঠক ২৩ জুন পর্যন্ত স্থগিত

বিজেপি বিরোধী জোটের মেগা বৈঠক ১২ জুন বিহারের পাটনায় হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠক ২৩ জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার এই বৈঠক স্থগিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে এই বৈঠক কেন স্থগিত করা হয়েছে সেটা জানানো হয়নি।

প্রসঙ্গত এর আগে কংগ্রেসের তরফে কংগ্রেস সভাপতি ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নীতীশ কুমারকে এই বৈঠকের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি ২৩ জুন পর্যন্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন এর আগে দিল্লিতে ৩ থেকে ৪ দিনের চিন্তন শিবির করে সব বিরোধীদলের মূল বক্তব্য শুনে একটি সহমতে পৌঁছে তারপর এই মেগা বৈঠকের দিন ঠিক হোক। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির এই বৈঠকের প্রতি আগ্রহ দেখাননি। তিনি নীতীশ কুমারকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, দিল্লিতে করা বৈঠক ফলপ্রসূ হয় না। তাই ১২ জুন পাটনাতেই বৈঠক হবে। পাটনা থেকে জয়প্রকাশ নারায়ণ বিরোধী জোটের যাত্রা শুরু করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীতীশ কুমারকে জানিয়ে দেন তিনি ১২ জুন পাঠনার বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন, নবকান্ন থেকে সংবাদ মাধ্যমকেও মমতা এই কথা জানিয়ে দেন। তবে কংগ্রেসের তরফে মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী এর পর জানিয়েছিলেন, তাঁদের পূর্ব নির্ধারিত কিছু কাজ থাকার জন্য তাঁরা ১২ জুনের বৈঠকে থাকতে না পারলেও কংগ্রেসের তরফে তাঁরা প্রতিনিধি পাঠাবেন। এর পর এই বিরোধী জোটের তরফে কোনও একটি দল প্রশ্ন তুলে কংগ্রেসের অবস্থানের বিরোধিতা করে বলেছিল, কংগ্রেসের এই জোটের সম্পর্কে ভাবনা তখন সদর্থক বলে মান্যতা পাবে যখন দেখা যাবে কংগ্রেস শাসিত কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে খাড়গে ও রাহুলের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাবে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকও নীতীশ কুমারকে জানিয়ে দেন, ১২ জুনের বৈঠকে তিনি হাজির থাকবেন। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের প্রস্তাব মতো বৈঠকটি ২৩ জুন পর্যন্ত স্থগিত হল। রাহুল গান্ধী বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও এই বিরোধী জোটের বিষয়টি তুলে ধরেন। বলেন, কোনও নির্বাচনী পাটিগণিতের হিসেবে না গিয়েই জোটের সব দল এক হলে বিজেপি পরাজিত হবে। তবে মৌলিক কিছু প্রশ্নে জোটের ঐক্যমতে পৌঁছতে সামান্য কিছু সমস্যা যা আছে সেটা আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়া যাবে বলেও তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

এর আগে কংগ্রেসের জনসংযোগ ইন-চার্জ জয়রাম রমেশ বলেছিলেন, খাড়গে ও রাহুল গান্ধী ১২ জুনের বৈঠকে যোগ দিতে না পারলেও, দলের একজন সদস্য প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তিনি আরও বলেছিলেন, কংগ্রেস চাইছে এই বৈঠকের তারিখ আরও  কিছু পরে করা হলে ভালো হয়। জয়রাম রমেশের মন্তব্যের তিন দিন পর সভা স্থগিত করার কথা ঘোষণা হল, এই ঘোষণা যথেষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ।

এই বৈঠককে বিরোধীদের ঐক্যকে শক্তিশালী করতে নীতীশ কুমারের প্রচেষ্টা উল্লেখ যোগ্য। সম্প্রতি, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে সমমনস্ক দলগুলিকে “একত্রিত” করতে দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং কর্ণাটক সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের বিজেপি বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

নীতীশ কুমার ১২ এপ্রিল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বিরোধী জোটের বিষয় প্রথম বৈঠক করেন। তারপরে রাহুল গান্ধী তাঁর  সঙ্গে নীতীশের এই  বৈঠককে বিরোধী ঐক্যের দিকে একটি “ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।

নীতীশ কুমার অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক এবং অন্যান্যদের সঙ্গেও জোটের লক্ষ্যে দেখা করেছেন। নীতীশ মে মাসে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার এবং সেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক ২০২৪ সালের নির্বাচনে অ-বিজেপি বিরোধী ফ্রন্টে যোগদানের জন্য অ-প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলেন নীতীশের সঙ্গে বৈঠকে।

লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরকে পরাজিত করার সম্ভাব্য অবস্থান হিসাবে নীতীশ কুমার ইতিমধ্যেই অন্তত ৪৫০ টি আসনে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরাশি শিবির থেকে একজন প্রার্থী দেওয়ার কথ্য চিহ্নিত করেছিলেন। ১২ জুনের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী ফর্মুলায় স্থির রয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থীর মমতার এই কৌশল কংগ্রেস-বাম শিবির মেনে নিলে ৪২টি আসনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস সব আসনে বিজেপির বিরোধী প্রার্থী হিসেবে প্রার্থী দিতে পারবে। কংগ্রেস-বাম বাংলায় মমতার এই যুক্তি এই রাজ্যে মানতে  চাইছে না। বাংলার  কংগ্রেসও বাম নেতৃত্ত্ব কংগ্রেস ও বাম জাতীয় শীর্ষ নেতাদের কাছে এই বার্তা ইতিমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছেন। তাছাড়া তৃণমূল এই রাজ্যে বাম কংগ্রেসকে বিজেপির বি-টিম বলে বিরোধিতা করে। তাই বাম -কংগ্রেসের পক্ষে বাংলায় তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পুরো  ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বামেরা রাজনৈতিক আদর্শগত ভাবেও তৃণমূলের হাত ধরে বিজেপি বিরোধিতায় বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে তৃণমূল-বিজেপির এই লড়াই আসলে “শ্যাডো ওয়ার।” এই আবহে কংগ্রেসের আবেদন মেনে ১২ জুনের বৈঠক ২৩ জুন পর্যন্ত স্থগিত হওয়ার ঘটনা যথেষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!