Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ২৭, ২০২৬

হাটে’র কবি যতীন্দ্রনাথকে আজও মনে রেখেছে পাতিলপাড়া

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হাটে’র কবি যতীন্দ্রনাথকে আজও মনে রেখেছে পাতিলপাড়া

দূরে দূরে গ্রাম দশ-বারোখানি। মাঝে কালনার পাতিলপাড়া। সেখানেই বসত ‘একখানি হাট।’ সেই হাটে রোজ সন্ধেয় প্রদীপ জ্বালানোর কেউ ছিল না। দিনে ঝাঁট দেওয়ার বালাইও ছিল না। এই পাতিলপাড়ার মামারবাড়িতে জন্ম রবীন্দ্রযুগের বাস্তববাদী ও দুঃখবাদী কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর। জন্মভিটেয় কবির ১৩৯তম জন্মদিবস পালিত হল মহা সমারোহে। দিনভর আয়োজিত হল কবির লেখা ও জীবন নিয়ে আলোচনা সভা ও কবিসভা। যতীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর জন্মভিটেয় একটি গবেষণাগার তৈরি হয়েছে। পাতিলপাড়া মোড়ে বসেছে কবির আবক্ষ মূর্তি।

কবিকে সম্মান জানাতে এদিন স্থানীয় ও দূরদূরান্ত মিলিয়ে ৬০ জন কবি উপস্থিত হন। এলাকার কবি মৈত্রেয়ী ব্যানার্জি, দীপঙ্কর চক্রবর্তীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১৮৮৭ সালের ২৬ জুন কালনার পাতিলপাড়ায় মামারবাড়িতে যতীন্দ্রনাথের জন্ম। বাবা দ্বারকানাথ সেনগুপ্তও কবি ছিলেন। ৮ বছর বয়সে কবি ম্যালেরিয়ার শিকার হন। তারপর থেকেই প্রায় সারা জীবন কবি খুব ভুগেছেন। কিন্তু কলম থামেনি।  স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে পাশ করে হাওড়ার শিবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। ১৯১১ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। ১৯১৩ সালে রেলের চাকরিতে যোগ দেন। গ্রামের ছেলেদের কর্মসংস্থানের জন্য দেশলাই কারখানা ও তাঁতের কাপড় তৈরির কারখানা তৈরি করেন।

১৯২৩ সালে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মরীচিকা’ প্রকাশিত হয়। ‘বিপ্রতীপ’ ছদ্মনামেও তিনি লিখতেন। তাঁর লেখা হাট, মরুমায়া, কচি ডাব, বেদিনী, পাষাণ,  ত্রিযামা, কাব্যপরিমিত, অন্নপূর্ণা, সারস প্রভৃতির আবেদন আজও অমলিন। যতীন্দ্রনাথ সম্পর্কে নানান তথ্যে ঠাসা গবেষণাগারে বছরভর বহু পড়ুয়া ও গবেষক আসেন। কবির বর্ণনার ‘হাট’ আর বসে না। বিকাল বেলায় হেলায় বিকিয়ে নীরব ব্যথা বুকে বেঁধে কবেই পাট চুকিয়েছে কবির আদরের সেই হাট। কিন্তু তাঁর কবিতার ছত্রে ছত্রে, এলাকার যতীন্দ্রনাথপ্রেমীদের সৌজন্যে পাতিলপাড়ার সেই আদ্যিকালের হাটের স্মৃতি আজও অমলিন। ১৯৫৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন কবি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!