- দে । শ
- জুন ১২, ২০২৫
কাটোয়ায় নৃশংস হত্যা। গ্রেফতার দুই
পরকীয়ায় বাধা দিত স্বামী। পথের কাঁটা সরাতে স্বামীকে খুনে নাম জড়াল মিতা দাস নামে কাটোয়ার আমূল গ্রামের দাসপাড়ার বধূর। মিতার স্বামী দিনমজুর মহাদেব দাস (৩৩) নামে দিনমজুরের দেহ তার ঘর থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। মহাদেবের মাথার পিছনে ও কানের পাশে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন মেলে। এই ঘটনায় প্রথমে মিতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মিতাকে জেরা করে তার প্রেমিক অভিজিৎ বাগদিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অভিজিৎ বীরভূমের নানুরের বাসিন্দা। অভিযোগ, মদের সঙ্গে অ্যাসিড মিশিয়ে মহাদেবকে খাইয়ে বেহুঁশ করে মাথায় বাঁশের আঘাত করে খুন করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয় মহাদেবকে। এমনকী মেঝেয় পড়ে থাকা রক্ত গোবর লেপে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মিতা ও অভিজিৎকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। কাটোয়া শহরের একটি হোটেলে বসে মহাদেবকে নিকেশ করে দেওয়ার ছক কষে অভিজিৎ ও মিতা। সেইসঙ্গে আমূল গ্রামে গিয়ে ঘটনার পুনর্নিমাণ করে পুলিশ। সেখান থেকে অ্যাসিডের বোতল ও যে গ্লাসে করে মহাদেবকে অ্যাসিড মেশানো মদ খাওয়ানো হয়েছিল, সেই গ্লাস উদ্ধার করে পুলিশ। আগেই মহাদেবকে মারার জন্য ব্যবহৃত বাঁশটি উদ্ধার করে পুলিশ। কাটোয়ার এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রি বললেন, ‘ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনা কী কারণে ও কীভাবে ঘটল, তার তদন্ত হচ্ছে।’
জানা গেল, মহাদেব ও তার স্ত্রী খাওয়াদাওয়ার পর একই ঘরে শুয়েছিল। বছর ছয়েক আগে মঙ্গলকোট থানার বনকাপাসি গ্রামের বাসিন্দা মিতার সঙ্গে মহাদেব দাসের বিয়ে হয়। মহাদেবের আত্মীয় কেষ্ট দাসের অভিযোগ, ‘কিছুদিন ধরে মিতা দাস অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তাই নিয়ে মহাদেবের সঙ্গে প্রায়ই অশান্তি হত। মহাদেবকে কারণে-অকারণে টাকা চাইত। না দিলেই ঝামেলা হত।’ মাস পাঁচেক আগে মিতা নানুর চলে যায়। পুলিশের ধারণা, প্রেমিকের কাছে পালিয়েছিল মিতা। কিছুদিন বাদে আবার ফিরেও আসে। পুলিশ সূত্রের খবর, অপরাধ ঢাকতে মিতা এই খুনকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল। স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মিতা তার দেহ খাটে শুইয়ে দেয়। যাতে দেখে মনে হবে, হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে মহাদেবের। ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে মৃত স্বামীর পাশেই শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তারপর ঘুম থেকে উঠে শাশুড়িকে ডেকে কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘তোমার ছেলের স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে।’ আদালতে ঘটনার একমাত্র সাক্ষী মিতার সাড়ে ৩ বছরের ছেলের গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে। মৃত মহাদেবের মা কাঞ্চনা দাস বলছিলেন, ‘বউমা ও তার প্রেমিক মিলে ছক কষে আমার ছেলেটাকে খুন করেছে। বাচ্চাদুটো অনাথ হয়ে গেল। দুজনেরই কঠোরতম শাস্তি হোক।’
❤ Support Us






